Published : 10 May 2026, 08:12 PM
অ্যানোক্রেসি শব্দটি রাজনৈতিক পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে। মূলত গ্রিক শব্দ ‘অ্যান’ (ব্যতীত) এবং ‘ক্রাটোস’ (ক্ষমতা বা শাসন) থেকে উদ্ভূত এই শব্দটি, যা আক্ষরিক অর্থে শাসনের অনুপস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা বোঝালেও আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এটি একটি সংকর ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। মার্কিন গবেষক ও অনুবাদক আর. এফ. সি. হুল ১৯৪০-এর দশকে জার্মান ধারণা ‘আক্রাটি’ (Akratie) বা ‘আধিপত্যমুক্ত অবস্থা’র ইংরেজি করতে গিয়ে এই অ্যানোক্রেসি পরিভাষাটির ব্যবহার করেন। জার্মান আক্রাটির আদি উৎসও গ্রিক।
মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুংসহ অনেক জার্মান দার্শনিকের কাজ ইংরেজিতে অনুবাদ করার জন্য বিখ্যাত আর. এফ. সি. হুল যে অর্থে অ্যানোক্রেসি শব্দটি ব্যবহার করেছেন, জার্মানিতে আক্রাটি সেই অর্থ বহন করে না। আক্রাটি ধারণাটি অ্যানোক্রেসি ধারণার থেকে রীতিমতো ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়। আক্রাটি মূলত সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। অ্যানোক্রেসি পরিভাষাটিকে ভাবার্থে বাংলায় ‘নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ বলা যেতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার উপাদানের মিশ্রণ থাকে, সেই ব্যবস্থাকে অ্যানোক্রেসি বলা হয়। অর্থাৎ সহজ করে বললে বোঝায়, এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে গণতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক উপাদানের মিশ্র প্রয়োগ দেখা যায়। নির্বাচনের আলোকছটায় ঢাকা স্বৈরাচারের অন্ধকার—অ্যানোক্রেসির এক অদ্ভুত দ্বিচারিতা। যেমন, এই ব্যবস্থায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার থাকে, একটি নির্বাচিত সংসদ ব্যবস্থা থাকে এবং সংসদের অন্যতম উপাদান বিরোধী দল থাকে। কিন্তু দুর্বল আইনের শাসন এবং নিয়ন্ত্রিত বাকস্বাধীনতার কারণে ভয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বজায় থাকে। এই ধরনের সংকর ব্যবস্থা কিছু স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বহন করে। অ্যানোক্রেটিক শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত বাকস্বাধীনতা, দুর্বল আইনের শাসন, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, ও নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মতো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।
এবার কর্তৃত্ববাদ-উত্তর বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে এই বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্লেষণ করা যাক। বাংলাদেশের জনগণের জন্য ‘গণতন্ত্র’ এক অধরা সত্য। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মনে এক ধরনের আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, এবার মানুষ তাদের পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে। মানুষের এই ভাবনায় কোনো দোষ নেই, কারণ ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বাধীন শক্তি আপামর জনগণকে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব প্রদানকারী শক্তি ও তাদের নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্টতা ও ‘মব সন্ত্রাস’ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেশে মবোক্রেসি বা দঙ্গল শাসনের সূচনা করে। এই দঙ্গল শাসন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মানুষের সেই শুভ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। এরপর নানা রকম ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়। নির্বাচনের পর সাময়িকভাবে মব সন্ত্রাস থেকে মুক্তি পেলেও বাংলাদেশের জনগণের পূর্ণ গণতান্ত্রিক মুক্তি মেলেনি। একদল নির্বাচিত প্রতিনিধি ও একটি ‘কার্যকর’ সংসদ থাকলেও সর্বোপরি ভয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূরীভূত হয়নি। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের জনগণ যে গণতান্ত্রিক প্রতিবেশের জন্য দিনের পর দিন লড়াই করে আসছে, সেটি একটি সংকর ব্যবস্থায় এসে থিতু হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে এই পরিস্থিতিকে অ্যানোক্রেসি বা ‘নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ বলা হয়।
যদি বাকস্বাধীনতার মানদণ্ডে বিবেচনা করি, তাহলে দেখা যায় গণতন্ত্রের মোড়কে মোড়া বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ‘নিয়ন্ত্রিত বাকস্বাধীনতা’র উপস্থিতি বেশ স্পষ্ট। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাংবাদিক নির্যাতন ও বিনা বিচারে সাংবাদিকদের আটক একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়, যেটি ছিল অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এক চরম বেইমানি। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’ প্রকাশিত একটি খবরে দেখা যায়, ৫ জন বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ৫৯৩ থেকে ৬২০ দিন বিনা বিচারে আটক রয়েছেন। একটি নির্বাচিত সরকার এলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো গণতান্ত্রিক সুরক্ষা দেয়নি।
বলা হয় ‘পরিসংখ্যান মিথ্যা বলে না’, তাই কিছু পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বাৎসরিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের শেষ বছরে শুধুমাত্র ২০২৫ সালে ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। এছাড়াও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১০৬টি সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে; এর মধ্যে ৩৬ জন প্রশাসনের দ্বারাই নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৭ জন আবার নির্যাতিত হয়েছেন দায়িত্ব পালনের সময়। অর্থাৎ একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাকস্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যেমন গণতান্ত্রিক উত্তরণের আশা করা হয়েছিল, সেটি হয়নি। সাংবাদিকতাসহ বাকস্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে সেই ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ এখনও বিরাজমান। অর্থাৎ বাকস্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু সেটি সর্বজনীন নয়। এই নিয়ন্ত্রিত বাকস্বাধীনতা অ্যানোক্রেটিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আইনের শাসন। দুর্বল আইনের শাসন সেই ব্যবস্থার অন্তরায়। এই বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যে দঙ্গল শাসনের সূচনা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেটি বহুলাংশে বজায় থেকেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বাৎসরিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে আইনের রক্ষকদের দ্বারা বিচারবহির্ভূত ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে হত্যার শিকার হন ৩৮ জন। আমরা যদি আওয়ামী লীগের শাসনাধীন ২০২৩ সালের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখা যায় ওই বছর বিচারবহির্ভূত ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে হত্যার শিকার হন ২০ জন। এই প্যারামিটারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বর্ধিত সময় বললেও অত্যুক্তি হবে না। ২০২৬ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনেও সেই আইনের শাসনের দেখা মেলেনি, কারণ ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ৭ জন বিচারবহির্ভূত ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে হত্যার শিকার হয়েছেন। তাই বলা যায়, নির্বাচিত সরকার ও সংসদ থাকলেও জনগণ পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে আইনের শাসন উপভোগ করার কথা ছিল, সেটি তারা পায়নি।
এছাড়াও দেখা যায়, আইনের শাসনের অন্তরায়ের কারণে রাজনৈতিক সহিংসতাও বজায় থেকেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওই এক বছরের রাজনৈতিক সহিংসতার ৪০১টি ঘটনায় সর্বমোট ৪,৭৪৪ জন আহত হন এবং ১০২ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগের শাসনাধীন ২০২৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৫। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এ বছরের প্রথম তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিসরেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের অন্যতম অন্তরায়। এছাড়াও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে মোট ২,১৯৯ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন। তাই বলা বাহুল্য হবে না যে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে এখন পূর্ণ অ্যানোক্রেটিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
আইনের শাসনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অরক্ষিত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা। এই জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৬ সালের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ২১টি সহিংস ঘটনার শিকার হয়েছে। ছয়টি বসতবাড়ি ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৪৬টি সহিংস ঘটনায় ৩৮টি বাড়ি ভাঙচুর ও ৩৭টি বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে ২০২৩ সালে ২২টি সহিংস ঘটনা ঘটে। পরিসংখ্যান দেখে বোঝা যায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত সেই গণতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তন হয়নি।
আমরা যদি তৃতীয় বৈশিষ্ট্যের আলোকে ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ লক্ষ্য করি, সেখানেও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ছায়া দেখা যায়। বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার মতো আচরণ করছে। সেখানে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশ অনুপস্থিত। বিচারব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ এখনো বিদ্যমান। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেনের বক্তব্যে বিচারব্যবস্থার সেই উদ্বেগ স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এখন এমন অবস্থা যে একজন বিচারপতি বা বিচারকের ১০ বার চিন্তা করতে হয় যে তিনি আসলে কাউকে জামিন দেবেন কি না। জামিনই তো শুরু হয় না। জামিনই তো পাওয়া যায় না। যারা ভিন্নমতের লোক তাদের জামিন তো হয় না।” একইভাবে আমলাতন্ত্রও দলীয় মোড়কে মোড়া, যা প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের জন্য বড় বাধা। এছাড়া বিনা বিচারে আটকে রাখার মতো ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ’, যেখানে রাজনৈতিক ও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট এলিটদের মধ্যে ক্ষমতার অস্বাস্থ্যকর দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থাকে। বর্তমান বাংলাদেশেও সেই একই বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যণীয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করে। এ বিষয়ে দেশে-বিদেশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলে সেই পরিস্থিতির এক ধরনের উন্নয়নের আশা তৈরি হলেও প্রকৃতার্থে সেটি হয়নি। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারও একই রকম অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিসর বজায় থেকেছে। রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আটক করা হচ্ছে। এছাড়াও রাজনৈতিক পরিসরে ভয়ের পরিবেশ থাকায় সারা দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার চর্চা সীমিত হয়ে আছে। এই ধরনের পরিবেশ অ্যানোক্রেটিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বহন করে।
সর্বোপরি বলা যায়, ২০২৪ সালের কর্তৃত্ববাদ-উত্তর সময়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পুনরাবর্তনের যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, সেটি অধরাই থেকে গেছে। বাংলাদেশ এই পূর্ণ গণতান্ত্রিক যাত্রার মাঝপথে এসে অ্যানোক্রেসিতে থেমে আছে। এই ধরনের শাসনব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময় অবধি শাসকগোষ্ঠী কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও এমন গুমোট পরিস্থিতি ভবিষ্যতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য মহা বিপর্যয় বয়ে আনে। সর্বোপরি এই নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে টেনে নিয়ে যায়।