Published : 01 Jan 2026, 12:23 AM
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি জাতির ইতিহাস পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, জাতিগুলো ভাগ্যের চড়াই-উতরাই পার হয়ে এগিয়ে যায়। কখনো কখনো স্বদেশি রাজনৈতিক তস্কর ও তাদের বিদেশি প্রভুর চরম উৎপীড়নে কোনো কোনো দেশ দুর্ভাগ্যের নিদারুণ শিকার হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে ভৌগোলিক স্বাধীনতাপ্রাপ্ত অনেক দেশে মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সর্বপ্রকারের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। ওই সকল দেশে স্বৈরাচারের নিষ্ঠুর থাবায় বিশাল জনগোষ্ঠী দিশেহারা হয়ে কখনো কখনো বিদ্রোহ করেছে। মুক্তিকামী গণআন্দোলনের জোয়ারে স্বৈরশাসনের সাময়িক ছেদ ঘটলেও, নিষ্পেষণ আবার জেঁকে বসেছে।
স্বৈরশাহীর বিষাক্ত ছোবলে বাংলাদেশের মানুষ গত শতাব্দীর আশি দশকের শুরু থেকে হতাশায় দিশেহারা। সেই অমানিশার অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলোতে সমস্ত দেশ যখন শঙ্কা, ভীতি ও নিরাশার জর্জরিত, তখন আশার আলোকবর্তিকা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবির্ভূত হলেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রখ্যাত ফরাসি শিল্পী ইউজিন দেলাক্রোয়ার আঁকা বিখ্যাত ছবি ‘লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল’-এর জীবন্ত প্রকাশ দেখেছি তার অগ্নিগর্ভ ভাষণে, উদ্দীপ্ত সংগ্রামী ভূমিকায়। দেলাক্রোয়ার ওই ‘মুক্তিদেবী’র প্রতীকী অর্থ যেন আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী খালেদা জিয়া। ইউজিন দেলাক্রোয়া, যার দেহাবশেষ প্যারিসের পেরে লাশেজ সমাধিক্ষেত্রে শায়িত, তার আঁকা ‘লিবার্টি লিডিং দ্য পিপল’, ল্যুভ মিউজিয়াম সংরক্ষিত মাস্টারপিসের নিখুঁত মানবিক প্রতিরূপ দেখতে পেয়ে নিশ্চয়ই আনন্দিত হবেন।
বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতার চিরায়ত বিজয় ধ্বনিত হয়েছে তার কণ্ঠে, যা প্রকাশিত হয়েছে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই। ১৯৮১ সালের শেষার্ধে শহীদ জিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার বেগম খালেদা জিয়াকে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণের প্রস্তাব দান করেন। বেগম খালেদা জিয়া নম্রভাবে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন; ওই পদলাভ নির্বাচনের মাধ্যমে নয় বলে তিনি এটি গ্রহণ করেননি (ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ, মার্চ ১০, ১৯৯১)।
বিচারপতি সাত্তার রাজনীতি থেকে অবসর নিলে ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি খালেদা জিয়া হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। এরপর ১৯৮৪ সালের ১ মে তিনি হন দলের চেয়ারপারসন হন। এর আগের বছরই তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে সাত দলীয় ঐক্যমোর্চা গঠন করেন এবং এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ভীত-সন্ত্রস্ত এরশাদ তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের প্রলোভন দিয়েছল, কিন্তু গণতন্ত্রের খালেদা জিয়া সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন (ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ, মার্চ ১০, ১৯৯১)। স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে তার কোনো সমঝোতা নেই, সে যত বড় পদই হোক না কেন।
ম্যাডাম খালেদা জিয়া—সেই নক্ষত্র, যিনি দৃঢ় ও স্থির নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ধোঁয়াশাচ্ছন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনকে পথ দেখাতে পারতেন, তিনি ইন্তেকাল করেছেন; এই নিয়তির দিন ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫। উপনিবেশ-উত্তর দেশের উত্তাল ক্ষমতার লড়াইয়ে এক অকুতোভয় রাজনৈতিক ইউলিসিস, যিনি অনিশ্চয়তা ও বিপদের ঝড়ো সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশকে পথ দেখাতে পারতেন, তিনি এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করলেন। কিন্তু তার স্মৃতি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের রাজ্যে তার জনগণকে পথ দেখাতে থাকবে।
আজ তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মনে পড়ছে তার জীবনের খণ্ড খণ্ড কাহিনি। তিনি অন্যদের সঙ্গে নিয়ে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশে এক নির্মম সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে আট বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তার স্বামী জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হন। পরবর্তী দুই বছর (১৯৮১–১৯৮৩) অদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বাসঘাতকতা ও এক স্বৈরশাসনের উত্থান প্রত্যক্ষ করে। ১৯৮৩ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে এবং পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে খালেদা জিয়া জনগণের স্বাধীনতার সহজাত প্রবৃত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। পরবর্তী আট বছরে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির বিস্তৃত জোট নিয়ে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগ, অনশন, বয়কট ও শান্তিপূর্ণ নাগরিক অবাধ্যতার আন্দোলন পরিচালনা করেন। এই আট বছরে তাকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়, তার জীবনের ওপর একবার হামলার অভিযোগ ওঠে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে বহুবার পালাতে হয়। দেশকে গণতন্ত্রে উত্তরণে তার দৃঢ় অঙ্গীকারকে কোনো অত্যাচার থামাতে পারেনি।
তার রাজনৈতিক আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর, যখন সারা দেশের গণঅভ্যুত্থান স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতা থেকে অপসারণে বাধ্য করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দল সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিজয়ী হয়। তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন যে, পাঁচটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন করে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।
খালেদা জিয়া পুরনো সংবিধানের অধীনে ক্ষমতায় আসেন—একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা, যা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে এবং তাকে বিপুল কর্তৃত্ব প্রদান করত। কিন্তু তিনি বেছে নেন ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক সংস্কার। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রভিত্তিক সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ব্যাপক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ছিল এবং যা নির্বাচিত সংসদ সর্বসম্মতভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী হিসেবে গ্রহণ করে। নমনীয়তা, আলোচনা ও আপসের মাধ্যমে তিনি একজন রাষ্ট্রনায়কের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন, যা তাকে সংবিধান অনুমোদনে সক্ষম করে এবং উপনিবেশ-উত্তর সকল গণতন্ত্রের জন্য উদাহরণ স্থাপন করে।
খালেদা জিয়া বাজারমুখী অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রবর্তন করেন। তিনি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেন, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেন, কর অব্যাহতি প্রদান করেন, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল স্থাপন করেন এবং বিদেশি মালিকানার অনুমতি দেন। তিনি বাংলাদেশকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত করতে থাকেন।
খালেদা জিয়া বিশ্বশান্তির অনুরাগী ছিলেন। তিনি মিয়ানমারের (পূর্বতন বার্মা) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর মাসে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী (তাতমাদাও) বাংলাদেশের সীমান্ত লঙ্ঘন করে। তারা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর বিদ্রোহীদের তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশের একটি সামরিক চৌকিতে আক্রমণ চালায়, যার ফলে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা বেসামরিক মানুষের দেশত্যাগ ঘটে। তিনি দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধোন্মাদ জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে দমন করেন এবং মিয়ানমারের সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করলেও এক আসন্ন যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হন।
খালেদা জিয়া—এক অসাধারণ আবেগ, সাহস ও দৃঢ়তার নেত্রী, এমন এক জাতিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন যার প্রাচীন সংস্কৃতি পুরুষ-প্রাধান্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। উপনিবেশ-উত্তর দেশের অস্থির ও জীবন-সংকটময় রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তার অসাধারণ সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রে নারীরা কতটা অসীম সম্ভাবনার অধিকারী, বিপদ যতই থাকুক না কেন। তার দৃঢ়তা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং গণতন্ত্র ও শান্তির প্রতি নিবেদন তাকে রাজনৈতিক নির্যাতন থেকে উঠে এসে বিংশ শতাব্দীর অল্পসংখ্যক নারী নেতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। নারীমুক্তির অগ্রগতিতে তিনি নেতৃত্ব দেন এমন এক দেশে, যা তখনও সামন্ততান্ত্রিক উত্তরাধিকারের ভারে ন্যুব্জ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীমুক্তির জন্য অপরিহার্য। তার উৎসাহ ও সমর্থনে নারীকেন্দ্রিক শ্রমশক্তির গার্মেন্টস শিল্প পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। তিনি নিজেই উপনিবেশ-উত্তর দেশগুলোতে নারীর উন্নত মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার পথপ্রদর্শক সংস্কার কর্মশক্তির মান এবং জ্ঞানভিত্তি আমূল উন্নত করে, বিশেষত নারীদের জন্য। তিনি বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চ বিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে টিউশন এবং ‘ফুড ফর এডুকেশন’ কর্মসূচি চালু করেন। এই অগ্রগামী সংস্কারগুলো বাংলাদেশিদের আরও উচ্চতর পরিশীলিত স্তরে প্রস্তুত করে, যা ২০২৬ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের বীজ বপন করে।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে খালেদা জিয়ার দল আবারও নির্বাচনে জয়ী হয় এবং তিনি পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যেকটিতে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন, যা দেশকে নতুন শতাব্দীর উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য এক স্থির নেতৃত্ব প্রদান করে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচনের প্রতিটিতেই বেগম জিয়া তিন থেকে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সবগুলো আসনে জয়লাভ করেন। অর্থাৎ নির্বাচনের মাঠে তার পরাজয়ের কোনো ইতিহাস নেই। তার অসাধারণ নেতৃত্বে অর্থনীতি বিকশিত হয়, উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হন এবং বেসরকারি খাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অন্যতম প্রধান অবদানকারী দেশে পরিণত হয়। সশস্ত্র বাহিনী ও সহায়ক বাহিনী বিশ্বব্যাপী বৈরী সংঘাতের মধ্যে শান্তির আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে। তাঁদের সাহস, সহমর্মিতা ও ত্যাগ বাংলাদেশের জনগণের জন্য সম্মান ও মর্যাদা বয়ে আনে।
ভবিষ্যৎ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা অবশ্যই খালেদা জিয়াকে প্রশংসা করবেন: ১) বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও একজন রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার সাফল্যের জন্য; ২) গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি ও বিশ্বশান্তিতে তার অবদানের জন্য, যা তার জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে; ৩) তার অসাধারণ চরিত্রের জন্য—অসীম সাহস, অটল দৃঢ়তা, কঠোর ত্যাগ এবং নির্মম স্বৈরশাসকদের মরণফাঁদে আটকে পড়া মানবতার প্রতি অশেষ আবেগ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর সর্বসম্মত মত হলো যে, তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার সর্বোত্তম রাজনৈতিক উপায় এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা প্রতিরোধের কার্যকর মাধ্যম। ১৯৯৬ সালে তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে খালেদা জিয়া দূরদর্শী ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধতা দেন। পরবর্তীতে আরেক সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে এই ব্যবস্থা বাতিল করে। জনগণ বুঝতে পারে যে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের বাইরে কোনো পথ নেই—তখনই জমে থাকা ক্ষোভ জুলাই অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
স্বৈরশাসকদের নির্যাতনে জর্জরিত এক দেশে গণতন্ত্র ও অগ্রগতি অর্জনে খালেদা জিয়ার সফল সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্ব তাকে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের এবং একবিংশ শতাব্দীর প্রভাতের রাজনৈতিক বীরদের কাতারে স্থান দেবে।