লিপবাম ব্যবহারের পরও ঠোঁটের শুষ্কতা বৃদ্ধির কারণ
সঠিক উপাদানের মিশ্রণ না থাকলে লিপবাম ব্যবহারের পরও ঠোঁটে শুষ্কভাব হতে পারে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে আবহাওয়া যখন শুষ্ক ও ঠান্ডা হতে শুরু করে, তখন ঠোঁট ফাটা বা চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে পকেটে বা ব্যাগে সার্বক্ষণিক লিপবাম বা চ্যাপস্টিক রাখা হয়। আর ব্যবহার করা হয় ঠোঁটে।
তবে অনেক সময় দেখা যায়, লিপবাম লাগানোর কিছুক্ষণ পরই ঠোঁট আগের চেয়েও বেশি শুষ্ক ও খসখসে হয়ে পড়ছে, ফলে বারবার লাগানো হয়।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট সেল্ফ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে উল্লেখ করা হয়, বারবার লিপবাম ব্যবহার করার এই প্রবণতাকে সাধারণ মানুষ ‘আসক্তি’ মনে করলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে পণ্যের ভুল উপাদান এবং ঠোঁটের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ।
ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং নিবন্ধিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুসান ম্যাসিক প্রতিবেদনে বলেন, “লিপবাম বা চ্যাপস্টিকের প্রতি ঠোঁটের কোনও রাসায়নিক আসক্তি বা শারীরিক নির্ভরতা তৈরি হয় না। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে, ঘনঘন লিপবাম ব্যবহার করলে ঠোঁটের নিজস্ব আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।”
ডা. ম্যাসিকের মতে, দিনে সাধারণত সকালে ব্রাশ করার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে লিপবাম ব্যবহার করাই যথেষ্ট, ক্ষেত্রবিশেষে খাবার খাওয়ার পরও লাগানো যেতে পারে।
তবে প্রতি ঘণ্টায় এটি ব্যবহারের তীব্র প্রয়োজন বোধ করার অর্থ হল— ব্যবহৃত পণ্যটিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বা অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন তৈরি করছে।
যেমন- অনেক ‘মেডিকেইটেড’ বা সুগন্ধি লিপবামে কর্পূর, ইউক্যালিপটাস এবং মেন্থল ব্যবহার করা হয়, যা সাময়িকভাবে ঠোঁটে একটি ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ঠোঁটকে আরও বেশি শুষ্ক ও প্রদাহজনিত করে তোলে।
‘আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (এএডি)’-এর তথ্য অনুযায়ী- সুগন্ধি, স্বাদ বা এসেনশল অয়েল যুক্ত লিপবাম ব্যবহারের কারণে ঠোঁট চাটবার একটি অবচেতন অভ্যাস তৈরি হয়।
ঠোঁট ভেজানোর জন্য লালা বা ‘স্যালাইভা’ কোনও ময়েশ্চারাইজার নয়, বরং লালায় থাকা পাচক এনজাইম ঠোঁটের প্রাকৃতিক ‘এপিথেলিয়াল’ বা রক্ষাকবচ ভেঙে ফেলে এবং পানি দ্রুত বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ঠোঁটকে আরও বেশি ফাটিয়ে দেয়।
ডা. ম্যাসিক আরও জানান, অনেক লিপবামে কেবল গ্লিসারিন বা হাইলুরোনিক অ্যাসিডের মতো হিউমেক্ট্যান্ট থাকে যা বাতাস থেকে পানি টানে, তবে সেই আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য ‘পেট্রোলাটাম’ যেমন- ‘ভ্যাসলিন’ বা ‘অ্যাকুয়াফোর’ বা ‘ডাইমেথিকন’-এর মতো অক্লুসিভ বা আর্দ্রতা আটকে রাখার মতো উপাদান থাকে না।
ফলে আর্দ্রতা দ্রুত উড়ে গিয়ে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়।
এই সমস্যা দূর করতে অক্লুসিভ ও হিউমেক্ট্যান্টের সঠিক মিশ্রণযুক্ত মৃদু মলম ব্যবহার করা এবং রোদে বের হওয়ার সময় সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মির হাত থেকে ঠোঁটের পাতলা ত্বককে রক্ষা করতে এসপিএফ যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করা কার্যকর সমাধান দেয়।
