Published : 18 Dec 2025, 05:19 PM
ঘরে থাকা রান্নাঘরের উপকরণ দিয়েই ত্বকের যত্ন নেওয়া- এই ভাবনা অনেকের কাছেই পরিচিত। বিশেষ করে যারা ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানে ভরসা করেন।
অলিভ তেল বা জলপাইয়ের তেল বহু আগে থেকেই সৌন্দর্যচর্চার জনপ্রিয় নাম। ইতিহাসেও এই উপাদান ব্যবহারের তথ্য মিলবে।
বলা হয়, প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার নামের সঙ্গেও অলিভ তেলের ব্যবহার জড়িয়ে আছে।
আর খাবারের তালিকায় এই তেল যেমন স্বাস্থ্যকর বলে পরিচিত, তেমনি অনেকেই কাছে ত্বকের যত্নে অন্যতম উপাদান হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখতে হবে গায়ে মাখা ও রান্নার অলিভ অয়েলের মধ্যে পার্থক্য আছে।
তবে ত্বকে ব্যবহার যোগ্য জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করা কি সবার জন্য নিরাপদ, নাকি এতে লুকিয়ে আছে কিছু ঝুঁকি?
রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে তা নির্ভর করে ত্বকের ধরন, ব্যবহারপদ্ধতি ও সময়ের ওপর।
ত্বকে অলিভ অয়েলের সম্ভাব্য উপকারিতা
জলপাইয়ের তেল যে কারণে খাবারের জন্য উপকারী, সেই একই গুণাগুণ ত্বকের ক্ষেত্রেও কিছুটা কাজে আসতে পারে।
এতে রয়েছে উপকারী চর্বি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বক আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।
রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, “শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও অনেকে ঘরের ভেতর গরম হিটার ব্যবহার করেন যার ফলে ত্বক থেকে দ্রুত পানি শুকিয়ে যায় এবং ত্বক ফেটে যেতে পারে।”
“এমন অবস্থায় ভেজা ত্বকে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে তা ত্বকের ওপর এক ধরনের আবরণ তৈরি করে, যা ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপকার দিতে পারে”- ব্যাখ্যা করেন এই রূপ-বিশারদ।
ক্ষত সেরে ওঠায় সহায়ক
জলাপাইয়ের তেলে থাকা প্রদাহনাশক উপাদান ক্ষত সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
এই রূপবিশেষর মতে, “অলিভ অয়েলের কিছু উপাদান ত্বকের ভেতরে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা ক্ষত দ্রুত বন্ধ করতে পারে। ত্বকে হালকা আঁচড় বা শুষ্কতার কারণে ফাটল দেখা দিলে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অলিভ অয়েল সেই জায়গায় আরাম দিতে পারে।”
তবে এই উপকারিতা সব ধরনের ক্ষতের জন্য প্রযোজ্য নয়। গভীর ক্ষত, সংক্রমণ বা জটিল ত্বকের সমস্যায় নিজে নিজে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বার্ধক্যের ছাপ কমাতে কতটা কার্যকর?
জলাপাইয়ের তেলে থাকা ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
নিয়মিত আর্দ্রতা পেলে ত্বক কিছুটা মসৃণ দেখায় এবং সূক্ষ্ম রেখা কম চোখে পড়ে। তবে এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়।
বয়সজনিত পরিবর্তন পুরোপুরি ঠেকানো যায় না। বরং সঠিক জীবনযাপন ও সূর্য থেকে সুরক্ষা নেওয়াই বেশি কার্যকর।
ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য ঝুঁকি
যেখানে কিছু উপকারিতা আছে, সেখানেই আছে বড় ধরনের ঝুঁকিও।
শারমিন কচি বলেন, “যাদের ত্বক তেলতেলে বা ব্রণপ্রবণ, তাদের জন্য অলিভ অয়েল ক্ষতিকর হতে পারে। এটি ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, ফলে ব্রণের পরিমাণ আরও বাড়ে। বিশেষ করে মুখে নিয়মিত অলিভ তেল ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা, লালচে-ভাব ও নতুন ব্রণ উঠতে পারে।”
রোদে বের হওয়ার আগে ব্যবহার বিপজ্জনক
অনেকে ভাবেন, প্রাকৃতিক তেল মানেই নিরাপদ।
তবে এই রূপচর্চাকর সতর্ক করে বলেন, “রোদে বের হওয়ার আগে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ত্বক আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই তেল ত্বকে লাগিয়ে রোদে গেলে ত্বকের রং কালচে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।”
ত্বকে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করা উচিত কি-না?
সাধারণভাবে এই তেল, ত্বক পরিচর্যার আদর্শ উপাদান বলা না গেলেও এটি ত্বকের ওপর একটি স্তর তৈরি করে থাকে।
এই কারণেই শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এটি উপকার দিতে পারে। যাদের ত্বকে প্রাকৃতিক তেল কম তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রে জলপাইয়ের তেল ত্বক থেকে পানি বের হয়ে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
যখন ও যেভাবে ব্যবহার তুলনামূলক নিরাপদ
শারমিন কচির পরামর্শ অনুযায়ী- যদি কেউ অলিভ অয়েল ব্যবহার করতেই চান, তবে তা অবশ্যই রাতে গোসলের পর করতে হবে।
গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় কয়েক ফোঁটা তেল লাগালে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
হাত, বাহু বা পায়ের মতো অংশে ব্যবহার করাই নিরাপদ। মুখে পরিমাণ খুবই কম হওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক ভারী হয়ে যেতে পারে এবং সমস্যা বাড়তে পারে।
জলপাইয়ের তেলের বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা যেতে পারে?
সব ত্বকের জন্য অলিভ অয়েল উপযোগী না। সেক্ষেত্রে হালকা ও দ্রুত শোষণযোগ্য তেল উপযোগী।
জোজোবা তেলের গঠন ত্বকের স্বাভাবিক তেলের সঙ্গে অনেকটাই মিলে। তাই এটি সহজে শোষিত হয় এবং রোমকূপ বন্ধ করে না।
অন্যদিকে ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য টি ট্রি তেলের কথা বলেন শারমিন কচি, যা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
আরও পড়ুন