০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

যেসব রংয়ের নেইল পলিশ মানিয়ে যাবে সকল ত্বকের সঙ্গে

যদি থাকে সন্দেহ তবে এর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া যাবে যে কোনো রং।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2025, 06:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:13 PM

ফ্যাশন জগতে পোশাক, গয়না কিংবা প্রসাধনীর মতোই নখের রং এখন এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই মনে করেন, নখের রং নির্বাচন করা বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি।

কারণ একবার যদি ভুল রং বেছে নেওয়া হয়, তবে তা অন্তত দুই থেকে চার সপ্তাহ ধরে নখে থেকে যায়।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দ্বিধায় পড়েন তবে এমন রং বেছে নিতে হবে যা সব ত্বকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়।

নিরপেক্ষ ন্যুড

তারকা ম্যানিকিউর বিশেষজ্ঞ জুলি কানদালেক রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এমন ন্যুড রং সবচেয়ে কার্যকর। এ রং না খুব শীতল না খুব উষ্ণ। এতে সেটা কঠিন বা তীব্র মনে হয় না, বরং স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়।”

এই রংয়ের গ্রেডেশন বা ধাপে ধাপে গাঢ়-হালকা পরিবর্তন নখকে আরও সুন্দর দেখায়। পাশাপাশি নখ বাড়তে থাকলেও এটি অস্বস্তিকর লাগে না।

সাদা

সাদা রংয়ের আবেদন চিরন্তন। এটি যে কোনো সময়ের জন্য মানানসই এবং সব ত্বকের সঙ্গেই মিলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘নেইল এক্সেলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সেলিনা পেইন-ফেরবি বলেন, “সাদা রং পরিচ্ছন্ন ও সতেজ এক আবহ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি আবার দৃষ্টিনন্দন বার্তাও দেয়।”

এখানে ভিন্নতা আনতে কেউ কেউ নরম লিনেন ধাঁচের সাদা ব্যবহার করেন, আবার কেউ সাহসী ও উজ্জ্বল সাদা বেছে নেন।

খাঁটি লাল

খাঁটি লাল রং ফ্যাশনের জগতে শক্তির প্রতীক।

মার্কিন ম্যানিকিউর বিশেষজ্ঞ ডাইমাই নুগুয়েন বলেন, “সঠিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ লাল রং গরম ও ঠাণ্ডা দুই ধরনের ‘আন্ডারটোনকেই’ সামঞ্জস্য করে। এতে হাত উজ্জ্বল দেখায়, মৌসুম যাই হোক না কেন।”

এই রংকে তিনি আত্মবিশ্বাসের রং হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাধারণ বাজারে কেনাকাটার সময়ও লাল নেলপলিশ পরলে নিজেকে ফ্যাশন গালিচায় হাঁটার মতো মনে হতে পারে।

হালকা মভ

অনেকেই মভ রংকে কম গুরুত্ব দেন। তবে এটি আসলে গোলাপি ও বাদামির নিখুঁত মিশ্রণ। ফলে এটি না খুব ঠাণ্ডা না খুব উষ্ণ বরং মাঝামাঝি এক সুষম অবস্থান তৈরি করে।

ডাইমাই নুগুয়েন বলেন, “এটি সহজেই ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যখন সাজগোজ করতে চান তবে গাঢ় রংয়ের ঝামেলা চান না, তখন মভ সবচেয়ে ভালো পছন্দ।”

গোলাপি মেজেন্টা

যারা গা ছমছমে নিরপেক্ষ রংয়ের বাইরে কিছু চান, তাদের জন্য মেজেন্টা বা উজ্জ্বল গোলাপি এক দারুণ বিকল্প।

সেলিনা পেইন-ফেরবি বলেন, “এটি সব ধরনের ত্বকে সমানভাবে মানায়। উজ্জ্বল ‘এনার্জি’ যোগ করে এবং সাজকে প্রাণবন্ত করে তোলে।”

গাঢ় বেরি

আরেকটি সাহসী বিকল্প হল বেরি রং। এর মধ্যে রয়েছে ক্র্যানবেরি, প্লাম বা মেরলো শেড। শরৎ ও শীতকালে এই রং বিশেষ জনপ্রিয় হলেও সারা বছরই মানানসই।

এটি উষ্ণ ও ঠাণ্ডা দুই ধরনের ত্বকের সঙ্গেই মিলে যায়। চাইলে এর ওপরে হালকা ঝিলমিল বা গ্লিটার যোগ করা যায় অতিরিক্ত আভিজাত্যের জন্য।

ফ্রেঞ্চ টিপস

যদিও এটি আসলে কোনো রং নয়, তবে ফ্যাশনপ্রেমীরা একে সর্বজনীনভাবে আকর্ষণীয় বলে মনে করেন।

সেলিনা পেইন-ফেরবি বলেন, “ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর হল চিরন্তন ক্লাসিক। এটি আঙুল লম্বা দেখায় এবং এক ধরনের পরিশীলিত সমাপ্তি দেয়।”

এখন আধুনিকভাবে এর নানান রূপ দেখা যাচ্ছে অতি সূক্ষ্ম মাইক্রো ফ্রেঞ্চ থেকে শুরু করে ওম্ব্রে ফ্রেঞ্চ পর্যন্ত।

গোলাপি ন্যুড

এটি এক ধরনের আভা বাড়ানো ধাঁচের রং।

ইমাই নুগুয়েন বলেন, “গোলাপি আন্ডারটোন ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে, আর নিরপেক্ষ বেস এটিকে সব ধরনের ত্বকের জন্য মানানসই করে।”

এছাড়া এটি বর্তমানে জনপ্রিয় ‘নিঃশব্দ বিলাসিতা’ বা শান্ত অথচ আভিজাত্যপূর্ণ ধারার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে যায়।

গ্রেইজ (ধূসর-বেইজ মিশ্রণ)

গ্রেইজ হল ধূসর ও বেইজ-এর অভিনব সংমিশ্রণ। এতে ধূসর অংশ ঠাণ্ডা ও মাটির মতো আবহ তৈরি করে। আবার বেইজ অংশ উষ্ণতা যোগ করে।

ফলে এটি একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও সাহসী মনে হয়। এই রং একদিকে সূক্ষ্ম, অন্যদিকে আবার দারুণ নজরকাড়া।

আরও পড়ুন

নেইল পলিশ ব্যবহারের টুকিটাকি

নেইল পলিশ দীর্ঘস্থায়ী করার উপায়

আইশ্যাডো দিয়ে নেইল পলিশ তৈরি