Published : 20 May 2025, 04:49 PM
লিপস্টিকের হালকা ছোঁয়া, চোখে ন্যূনতম কাজ আর এক ফোঁটা ‘স্কিনটিন্ট’। এ সময়ের বিউটি বা সৌন্দর্যের ধারায় এমন হালকা সাজই চলছে।
বড় কোনো মেইকআপ কিট (সামগ্রী) বা ১০ ধাপের ত্বক চর্চার রুটিনের প্রয়োজন পড়ছে না। এই নতুন ধারার নাম 'স্কিনিমালিজম'।
শব্দটি এসেছে 'স্কিন কেয়ার' ও 'মিনিমালিজম' শব্দ দুটি থেকে। মানে হল— ত্বকের যত্নে প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর জিনিসগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে অপ্রয়োজনীয় পণ্য বাদ দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের সৌন্দর্য ও ত্বক যত্ন জগতে এরই মধ্যে ‘স্কিনিমালিজম’ একটি জনপ্রিয় ধারা হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্কিনিমালিজম বলতে যা বোঝায়
এই পদ্ধতিতে ত্বকের যত্নে কম ধাপ ও কম পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর রুটিন তৈরি করা। তার মানে এই নয় যে, ত্বকের যত্ন বাদ দিয়ে দেওয়া বরং অপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ধাপ ছেঁটে ফেলে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু উপকারী রুটিন তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ত্বক বিশেষজ্ঞ ইয়ান মাইকেল ক্রাম রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “স্কিনিমালিজম’ মানে এমন কিছু পণ্য ব্যবহার করা যেগুলো একাধিক কাজ করে এবং ত্বকের জন্য সত্যিকারের উপকারী।”
তার মতে, “এটা শুধু সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে না, বরং ত্বককে ক্লান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।”
স্কিনিমালিজম’য়ের সুবিধা
সময় ও অর্থ সাশ্রয়- কম পণ্য মানেই কম খরচ ও কম সময়ের দরকার হয়।
অতিরিক্ত রাসায়নিক এড়ানো যায়- বেশি পণ্য মানেই বেশি রাসায়নিক উপাদান। যা অনেক সময় ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
টেকসই বিকল্প- কম পণ্য ব্যবহার মানে পরিবেশে কম বর্জ্য ও কম প্যাকেজিং বা মোড়ক, যা পরিবেশবান্ধব।
ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে- অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার বন্ধ হলে ত্বক নিজে থেকেই ‘রি-ব্যালেন্স’ বা পুনঃসামঞ্জস্যতা আসে।
ভ্রমণে সুবিধা- অল্প কিছু পণ্য সহজেই বহনযোগ্য, বিশেষ করে ভ্রমণের সময়।
একনিষ্ঠ রুটিন গড়ে তোলা সহজ- কম ধাপে সহজ একটি রুটিন দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সহজ হয়।
স্কিনিমালিজম যেভাবে শুরু করা যায়
বর্তমান সংগ্রহ মূল্যায়ন করা
ঘরে ত্বকের যত্নে থাকা সব পণ্য একবার বের করে দেখতে হবে। ‘ডুপ্লিকেট’ বা অনুলিপি, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ত্বকে কাজ না করে— এমন সব পণ্য বাদ দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ত্বক বিশেষজ্ঞ জ্যানেট গ্রাফ বলেন, “একই উপাদানের একাধিক পণ্য, যেমন- একাধিক ভিটামিন সি সেরাম বা ময়েশ্চারাইজার রাখার দরকার নেই। এগুলো শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।”
একটি মৌলিক রুটিন তৈরি
ক্লিনজার বা পরিষ্কারক: এমন একটি ক্লিনজার বেছে নিতে হবে যা ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত। অর্থাৎ হালকা কিন্তু কার্যকর।
সেরাম বা ট্রিটমেন্ট: নির্দিষ্ট সমস্যা যেমন শুষ্কতা, রংয়ের অসামঞ্জস্যতা বা ব্রণের জন্য একটি উপযুক্ত ট্রিটমেন্ট পন্য ব্যবহার করা উচিত।
ময়েশ্চারাইজার: সব ত্বকের জন্যই অপরিহার্য ময়েশ্চারাইজার। এমনকি তেলতেলে ত্বকেও পণ্যটি প্রয়োজনীয়, তা নির্বাচন করা।
সানস্ক্রিন: দিনের বেলায় বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ছাড়া চলা যাবে না। এতে সব ধরনের ত্বকেই সমস্যা তৈরি হবে।
সকাল ও রাতের রুটিন সামান্য ভিন্ন হতে পারে
সকালে একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সেরাম ও ভালো মানের এসপিএফ ব্যবহার করতে হবে।
আর রাতে রেটিনয়েডস বা হালকা এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. গ্রেস আয়েনসু-ডানকোয়া বলেন, “সপ্তাহে একবার ত্বকে মাস্ক ব্যবহার করাও ‘স্কিনিমাল’ রুটিনের মধ্যে পড়ে।”
রুটিনটি নিয়মিত মূল্যায়ন করা
কোন পণ্যটি ত্বকে ভালো কাজ করছে, কোনটি প্রয়োজন নেই— তা বোঝার জন্য কয়েক সপ্তাহ পরপর নিজে মূল্যায়ন করা উচিত।
গুণমানের দিকে গুরুত্ব
ইয়ান মাইকেল ক্রাম মন্তব্য করেন, “সংখ্যার চাইতে মান গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের প্রয়োজন বুঝে কম তবে ভালো মানের পণ্য ব্যবহার করাই স্কিনিমালিজমের আসল লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন
চুল ও ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান