Published : 10 Nov 2025, 07:00 PM
ভূতের কিংবা যে কোনো ধরনের ভয়ের ছবি দেখে কেউ দেয় চিৎকার কেউ আবার রাতে দেখেন দুঃস্বপ্ন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন এর থেকে বোঝা যায় মানুষটি কতটা অনুভূতি প্রবণ। কীভাবে সে দুনিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপন করছে।
সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া’র ‘মিডিয়া সাইকোলজি রিসার্চ সেন্টার’য়ের পরিচালক পামেলা রাটলেজ বলেন, “অনুভূতি প্রবণ মানুষেরা সাধারণত ভৌতিক সিনেমা পছন্দ করেন। কারণ এটা নিরাপদ উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ প্রদান করে।”
এক ইমেল বার্তায় স্যান্টা বারবারায় অবস্থিত ‘ফিল্ডিং গ্রাজুয়েট ইউনিভার্সিটি’র ‘মিডিয়া সাইকোলজির’ এই ‘প্রফেসর এমিরিটা’ আরও বলেন, “সহানুভূতি প্রবণ মানুষেরা সাধারণত যে কোনো অনুভূতি সহজেই গ্রহণ করে। ফলে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মানসিক আঘাত পাওয়ার প্রবণতাও বেশি থাকে।”
আর তারা ভয় বা উদ্বেগের চাইতে চাপের প্রতি বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়।
“এই ধরনের আঘাত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, এমনকি কোনো কোন সময় দুঃস্বপ্ন দেখার কারণ হতে পারে”- একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ইউটাহ’স স্লিপ ওয়েক সেন্টার’য়ের ক্লিনিকাল সহযোগী অধ্যাপক জেনিফার মান্ডট।
তিনি বলেন, “যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনুভূতি ও স্মৃতিগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে থাকে। যেদিন মস্তিষ্কে অদ্ভূত, ভয়ের ছবি দেখে, ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্ক সেই ছবি প্রক্রিয়াজাত করতে থাকে। যদিও সব সময় এর থেকে দুঃস্বপ্ন তৈরি হয় না, তবে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
এটা শুধু সিনেমা থেকেই নয়, যে কোনো ভয়ের ছবি, গল্প বা বই পড়েও হতে পারে। কিংবা কোনো ভৌতিক পরিবেশ বা বাড়ি ঘুরে আসলেও ঘুমে প্রভাব পড়তে পারে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “বিশেষ করে যাদের কল্পনা শক্তি বেশি বা কোনো কারণে অতীতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের ঘুমের মধ্যে ভৌতিক সিনেমা, গল্প বা পরিবেশ বেশি প্রভাব ফেলে।”
যে কারণে ভৌতিক ছায়াছবি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়
“কোনো ভোতিক ছবির দৃশ্য দেখে হাসি আসে, যেমন- ‘দি এক্সরসিস্ট’ ছবির ‘মুখ দিয়ে সুপ ছোড়ার দৃশ্য’- এটা দেখে আমি প্রচণ্ড হেসেছি। অন্যদিকে আলফ্রেড হিচককের ‘সাইকো’ ছবির শাওয়ার দৃশ্য দেখে পরপর তিন রাত ঠিক মতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি রাতে ঘুমের সময় আলো জ্বেলে রাখতাম ছোটবেলায়”- এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ম্যানহাটন ইউনিভার্সিটি’র ‘কমিউনিকেইশন, সাউন্ড অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস’ বিভাগের অধ্যাপক মাকেল গ্রাবোস্কি।
তার কথায়, “ভৌতিক ছবি বেশি কাজ করে যদি চমকে ওঠার বিষয় থাকে। যেমন- ‘এলিয়েন’ ছবিটি দেখতে গেলে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি হিসেবে। তারপর চমকে উঠলেন যখন যখন দেখলেন, এলিয়েন বের হয়ে আসছে মানুষের পেটের ভেতর থেকে। যখন এই ধরনের আৎকে ওঠার মতো ছবি দেখতে যাওয়া হয় তখন নিজের মধ্যে বিপদের আশঙ্কা থেকে এক ধরনের সুরক্ষার অনুভূতি কাজ করে।”
“একইভাবে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও নিরাপদ জায়গায় নিজের সুরক্ষার অনুভূতি নামিয়ে ফেলে দেহ যাতে ঘুমাতে পারে। তবে মস্তিষ্কের কিছু অংশ মনে করায় ওই ভয় পাওয়াটা ছিল মজার আর আনন্দদায়ক। আবার কিছু অংশ একই সাথে উত্তেজিত থাকে ওই ভয়ের অংশ হিসেবে”- ব্যাখ্যা করেন এই অধ্যাপক।
আর এই কারণেই ভৌতিক সিনেমা দেখলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সহানুভূতিশীল ব্যক্তিত্বরা বেশি ভীত হয়
রাটলেজ বলেন, “ভৌতিক সিনেমা অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসল হরমোন উৎপন্ন করে, যা দেহকে অতিরিক্ত সতর্ক করে তোলে। ফলাফল হিসেবে যখন ছবির শেষে উত্তেজনা কমে যায় তখন স্নায়ু শিথিল হয়, হৃদস্পন্দন কমে ডোপামিন এবং এন্ডোরফিনস নিঃসরণের মাধ্যম্যে আনন্দের অনুভূতি জাগে।”
তিনি আরও বলেন, “ভয় অনুভব করা তারপর সেটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া- এই অনুভূতি চাপ কমানো ও মোকাবিলার প্রক্রিয়াগুলো শক্তিশালি করে।”
তাছাড়া দলগতভাবে ভয়ের ছবি দেখলে বন্ধনও দৃঢ় হয়।
ভয়ের পর ভালো ঘুম দেওয়ার উপায়
ভৌতিক ছবি দেখে ঘুমের সমস্যা হলে নানান রকম কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে, যা ভয়কে করবে জয়।
ভয় পাওয়ার সময় নির্ধারণ: যদি ভয়ের ছবি রাতে দেখলে ঘুমাতে সমস্যা হয়, তবে দিনের বেলায় সময় করা যেতে পারে।
আবার ধরা যাক, কোনো ভৌতিক এলাকা বেড়িয়ে এসে হালকা মনের মেজাজ তৈরি করতে দেখা যায়, হাস্যরসাত্মক কোনো ছবি, যা মন ও মস্তিষ্ককে করবে শিথিল, জাগাবে আনন্দের অনুভূতি।
চিন্তায় টুপি পরানো: নিজেকে বারবার বলতে হবে, একটা আনন্দদায়ক মজার বিনোদন নিয়েছিলাম বন্ধুদের সঙ্গে। মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া খাটিয়ে এভাব বারবার মনে করাতে থাকলে ভয়ের মাত্রা কমে আসে।
শান্ত করা: ইয়োগা, মন শান্ত করার সংগীত শোনা, আনন্দদায়ক বই পরার মাধ্যমে উত্তেজিত অনুভূতি শান্ত করা যায়। আর সেই শান্ত মেজাজ নিয়ে ঘুমাতে গেলে ব্যাঘাতও ঘটবে না রাতে।
নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে আগে: রাটলেজ বলেন, “যদি মনে হয় ভয়ের সিনেমা দেখে সামলাতে পারবেন না বা বন্ধুদের সঙ্গে কোনো ভৌতিক পরিবেশ দেখতে গেলেও মজার চাইতে অস্বস্তি বোধ করবেন তাহলে সেসব অভিজ্ঞতা না নেওয়াই উচিত হবে। আসলে কোনোটাতে ভালো বোধ করবেন সেটাই আগে বিবেচনা করতে হবে, আর সেটাই করা উচিত যেটা আনন্দের অনুভূতি দেয়।”
আরও পড়ুন
মনের গভীরে প্রত্যাখ্যানের ভয় আর সেটা সামলানোর উপায়