উচ্চতা ভীতি সামলানোর উপায়

উঁচু দালান থেকে নিচে তাকালে পা শিরশির করতেই পারে। তবে আতঙ্ক কাজ করলে অন্য কথা।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 June 2022, 06:50 AM
Updated : 30 June 2022, 06:50 AM

উচ্চতায় ভয় বা ‘ফিয়ার অফ হাইটস’- চিকিৎসা শাস্ত্রে যার নাম ‘অ্যাক্রোফোবিয়া’।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক’য়ের তথ্যানুসারে বিশ্বের প্রায় ৬ শতাংশ মানুষের এই ভয় কাজ করে।

মানুষভেদে ভয়, আতঙ্ক, অস্বস্তির মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর এই বিষয়গুলোর মাত্রা নির্ভরশীল।

কোনো একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা বা বস্তুকে ভয় পাওয়াকে ‘ফোবিয়া’ বলা হয়। আর উচ্চতা ভীতি বা ‘অ্যাক্রোফোবিয়া’ সেই তালিকার শীর্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডায়মন্ড রিহ্যাব’য়ের ‘থেরাপিউটিক কনসালটেন্ট’ কাসোন্দ্রা গ্লেন বলেন, “মানুষের বিবর্তন বিবেচনা করলে উচ্চতা অস্তিত্বের ওপর হুমকি। তাই উচ্চতার ভয়টা মানুষের মাঝে সবচাইতে বেশি দেখা যায়।”

ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “এমনকি কোনো উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে থাকার চিন্তাও মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়, হাত-পা ঘামতে থাকে, মাথা ঘোরাতে দেখা যায়। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কারণে ‘কর্টিসল’ নামক মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন নিঃসৃত হয়, সঙ্গে থাকে কাঁপুনি।”

এই বিষয়গুলো নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারা আর না পারাই বলে দেবে আপনার ‘ফোবিয়া’ আছে, না-কি নেই।

যেমন কোনো উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মাটির দিকে তাকালে যদি শুধু হাত-পা ঘামে, পেটের মধ্যে শিহরণ অনুভব করেন, তবে ওইটুকুকে ‘ফোবিয়া’ বলা যায় না। এইটুকু সবারই হয়।

গ্লেন বলেন, “উচ্চতার ভয়ের জন্য যদি দৈনন্দিন জীবনের কোনো কাজ করতে আপনি অপারগ হন তবেই আপনার আতঙ্ককে ‘অ্যাক্রোফোবিয়া’ ধরা যাবে। যেমন- উচ্চতা ভীতির কারণে যদি লিফ্টে উঠতে, বারান্দায় দাঁড়াতে, রোলার কোস্টারে চড়তে, বিমানে ভ্রমণ করতে না পারেন তবে তা ‘অ্যাক্রোফোবিয়া।”

উচ্চতা ভীতি সামলানোর পন্থা

কাসোন্দ্রা গ্লেন বলেন, “থেরাপির মাধ্যমে উচ্চতার ভয় দূর করা সম্ভব। তবে চিকিৎসার পথে ‘চ্যালেঞ্জ’ হল যে কোনো ভয় দূর করতে সেই ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়। আর এক্ষেত্রে মুখোমুখি হতে হবে উচ্চতার। দুই ধরনের থেরাপি ব্যবহার হয় উচ্চতার ভয় দূর করতে, ‘এক্সপোজার থেরাপি’ আর ‘সিবিটি থেরাপি।”

‘এক্সপোজার থেরাপি’তে সহজ ভাষায় রোগীকে উচুঁতে নিয়ে গিয়ে তাকে তার ভয়ের সঙ্গে মোকাবেলা করতে বাধ্য করা হয়। যেমন- রোলার কোস্টার’য়ের চড়া, পাহাড়ে ওঠা, ‘ট্রাপিজ’য়ে ওঠা ইত্যাদি। একজন পেশাজীবী ‘থেরাপিস্ট’ রোগীর সঙ্গে থাকবেন সবসময়।”

‘সিবিটি থেরাপি’ হল অনেকটা প্রাথমিক বা মৃদুমাত্রার থেরাপি যা ‘এক্সপোজার থেরাপি’য়ের আগে ব্যবহার হয়।

এখানে মূলত ব্যবহার হয় ‘ভার্চুয়াল রিয়ালিটি’। উদ্দেশ্য থাকে ভয় বা আতঙ্কের মাত্রা জানা এবং মন থেকে ভয় কাটানো চেষ্টা করা।

দুই থেরাপিতে রোগীকে উচ্চতার মুখোমুখি হয়ে সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শেখানো হয়।

যা মনে রাখা জরুরি

কাসোন্দ্রা গ্লেন বলেন, “উচ্চতার ভয় দূর করা জন্য নিজের এই পরিস্থিতির কথা আস্থাভাজন মানুষদের জানাতে হবে। এতে ভয় দূর করার প্রক্রিয়ায় তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারবে, যোগাবে সাহস।”

“দলবেঁধে থেরাপিতে যোগ দেওয়া দারুণ একটা ব্যাপার হবে। এই রকম ভয় এবং তা দূর করা ইচ্ছা থেকে দলের অন্যান্যদের সঙ্গে একটা বন্ধন তৈরি হয়। এতে ভয় দূর করার প্রক্রিয়াটা আরও সহজ হবে।”

কারণ আপনার ভয়ের সময় আপনি এখন আর একা নন। আবার সাহসও বাড়বে এই ভেবে যে আপনার মতোই আরেকজন যে উচ্চতাকে ভয় পায় সে যখন মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে তাহলে আপনিও পারবেন।

“ধৈর্য্য প্রয়োজন অনেক। শুধু উচ্চতার ভয় নয়, যেকোনো ভয় দূর করার ক্ষেত্রেও সময়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া ভুল হবে। আবার দলের অন্য কেউ তার ভয়কে জয় করে ফেললো কিন্তু আপনি পারলেন না এই ভেবে হতাশ হওয়ার চলবে না। প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব তালে কাজ করে। তাই হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত”, বলেন গ্লেন। 

খুব বাড়াবাড়িও আবার করা যাবে না। ভয়ের মুখোমুখি হওয়ারও একটা মাত্রা থাকবে। হুট করেই প্রচণ্ড ভয়ের মুখোমুখি হয়ে বরং বিপদে পড়তে পারেন, সেই অভিজ্ঞতা সারাজীবনের জন্য আতঙ্কে ফেলে দিতে পারে যা পক্ষান্তরে উচ্চতার ভয় আরও বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক