Published : 26 Jun 2026, 10:58 PM
সরকার মাসুদের কবিতা
কূটাভাস
পর্যটক, ছায়াঘন মেঠো পথে সন্দেহ বেশি
সারি সারি বাবলার কাঁটা নিয়ে
রাস্তা বেঁকে গেছে ;
বাতাসে উপচে পড়ে এলোকেশী
ঝাউ! তুমি যাকে চাও সে থাকে সাঁকোর পাশে
কখনো বা আরণ্যক রেল বাঁকে।
সবুজের আড়াল থেকে ডেকে আনো তাকে,
সেও তো আমার মতো সূর্যাস্তের পাখি ভালবাসে
রহস্যকাহিনি সন্ধ্যা নদীর মতো টানে আমাকে
ওই পারে শুকতারার মতো উজ্জ্বল কুঁড়েঘর
এ পারে নদীর ঘাটে একটা নৌকাও যদি থাকে!
ব্রিজ
মোলায়েম বৃষ্টিপতনের ভেতর
ব্রিজ পার হয়ে যাই
আমি মাথা গরম করে দেয়া রোদের ভেতর
ব্রিজ পার হয়ে যাই
অসুখ- বিসুখে ঠাসা বসন্তের ভেতর
পাতা আছে অন্য একটা ব্রিজ!
ওই কংক্রিটের স্হাপনা পার হওয়ার পর
আমি ভেতরে -ভেতরে কিছুটা বদলাই
প্রতিটা ব্রিজ আমাকে মনে করিয়ে দেয়
সম্পর্কের অমোঘ বিচ্ছেদ!
মায়াপাহাড়
কী এক কারণে একজনের মুখ
আরেকজনের মনে থাকে!
আর শুধু কি মনে? মাথাতেও!
নিসঙ্গ দু'জন মানুষ জড়াজড়ি করে
শুয়ে থাকলে কেবল লেপে নয়,
আরাধ্য উত্তাপ মেলে কাঁথাতেও!
তবু এ জীবনে শুধু মনে হয়
ট্রাভেল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে হাঁটার সময়
ক্রমাগত পিছু হটে কিছু দূরের মায়াপাহাড়।
ওয়েস্ট হিল কটেজ থেকে
জানালা দিয়ে পাহাড়ের নিচে তাকিয়ে আছি
আমার মাথার ভেতর থেকে
পাহাড়ি নদীর দিকে তাকিয়ে আছি।
ওপারে কমলার বাগান -----
কমলা গাছগুলো সাজুগুজু করে আছে
স্বচ্ছ উজ্জ্বলতার ভেতর!
আমি ভাবছি পাহাড়ি নদী জন্ম নেয়
রহস্যঘেরা ভূ-দৃশ্যের অনিঃশেষ
সংশয়ের ভেতর; গিরিপথে
দাঁড়িয়ে থাকা গাছের এলোচুলগুলো
আঁচড়ে দিচ্ছে এখন ভবঘুরে বাতাস ।
বই
বই তো লেখা হয় মাথার ভেতর
কাগজে যা লিখি
তা হচ্ছে বইয়ের খোলস!
বইয়ের আসল পাঠ হয় চোখ বন্ধ করে
প্রতিটি পাঠের বর্ণময় স্মৃতি
আমাকে ভাবাতুর করে বারবার।
বই সে সময়ে পড়ার টেবিল থেকে
তাকিয়ে থাকে আমার দিকে
সে তখন আমাকেই পড়ে!
কীভাবে প্রেমিক মনে
মনে পড়ে একদিন বিষণ্ণ আলোর সূর্য
স্বাস্থ্যকর বনপাড়া, টিলার আঁধার
আর সুন্দরের এলোমেলো চূড়া পার
হয়ে দিশাহারা দু 'জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ
একটি ক্যামেরা
আনন্দের ভাঙ্গা ছবি তুলে
কেন-যে তাকালো আত্মবেদনার দিকে!
ভাবি আর দেখি, কীভাবে প্রেমিক মনে
স্মৃতিবিকালের আলো হয়ে আসে ফিকে!