Published : 25 Jun 2026, 03:40 PM
অনেকেই ভ্রমণে বের হওয়ার আগেই, পরেরবারের ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে শুরু করেন।
কেউ আবার সপ্তাহের শুরুতেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার কিংবা ছুটির দিনের ছোট কোনো আয়োজন ঠিক করে রাখেন।
গবেষণা বলছে, এসব পরিকল্পনা শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, বর্তমানেও মন ভালো রাখতে সহায়ক। অর্থাৎ সুখ শুধু সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করাও সমান আনন্দ দিতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতের কোনো ইতিবাচক ঘটনার কথা কল্পনা করা, তার প্রস্তুতি নেওয়া এবং সেই দিনটির অপেক্ষায় থাকা মানসিক সুস্থতা বাড়াতে ভালো কাজ করে।
এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনার সময় পাওয়া আনন্দ বাস্তব অভিজ্ঞতার চেয়েও বেশি হতে পারে।
সুখের অনুভূতিতে পরিকল্পনার প্রভাব
‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’তে প্রকাশিত চীনের সাউথওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং শেনসি নরমাল ইউনিভার্সিটি’র যৌথভাবে করা গবেষণায় দেখা গেছে, যখন ভবিষ্যতের কোনো আনন্দদায়ক ঘটনার কথা কল্পনা করা হয়, তখন মস্তিষ্কের পুরস্কার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত অংশ অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা আনন্দময় মুহূর্তের মতো ইতিবাচক ঘটনার কথা ভাবতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাদের সাধারণ কিছু ঘটনার কথাও ভাবতে বলা হয়।
ফলাফল দেখায়, আনন্দের মুহূর্ত কল্পনা করার সময়, মস্তিষ্কের যে অংশ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আনন্দের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। আর সেটি অনেক বেশি সক্রিয় হয়।
গবেষকদের মতে, এই সক্রিয়তার সঙ্গে মানসিক সুস্থতারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
অপেক্ষার আনন্দ কেন গভীর?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মনোবিজ্ঞানী ড. অ্যামি ভিগলিওত্তি রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “যখন ভবিষ্যতের কোনো সুখকর অভিজ্ঞতার কথা কল্পনা হয়, তখন শরীর ও মস্তিষ্ক অনেকটা সেই অভিজ্ঞতার জন্য আগেভাগেই ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে শুরু করে।”
তার মতে, “যদি কেউ সাগরপাড়ে ছুটি কাটানোর কথা ভাবেন, তাহলে সমুদ্রের বাতাস, ঢেউয়ের শব্দ কিংবা শান্ত পরিবেশ কল্পনা করার সঙ্গে সঙ্গেই মন অনেকটা স্বস্তি অনুভব করতে শুরু করে। যদিও বাস্তবে তখনও সেই জায়গায় যাওয়া হয়নি, তবু কল্পনার শক্তি ইতিবাচক আবেগ তৈরি করে।”
পরিকল্পনা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি
ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতাই মানুষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই ক্ষমতা মানুষকে শুধু বিপদ এড়াতে নয়, বরং ইতিবাচক অনুভূতি তৈরিতেও সাহায্য করে।
তাই ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর উপায়।
নিজের লক্ষ্য ঠিক করলে এবং সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রস্তুতি নিলে আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদ বাড়ে। এই অনুভূতি মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ভ্রমণ নয়, ছোট পরিকল্পনাও দেয় আনন্দ
অনেকেই মনে করেন, সুখের জন্য বড় কোনো ভ্রমণ বা বিশেষ আয়োজন প্রয়োজন। তবে এই গবেষণা বলছে, বিষয়টি এমন নয়।
বন্ধুদের সঙ্গে খাবারের পরিকল্পনা, সকালে হাঁটতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহান্তে সময় কাটানো কিংবা নিয়মিত শরীরচর্চার সময় ঠিক করাও একই ধরনের ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
পরিকল্পনা সম্পর্কও দৃঢ় করে
কোনো পরিকল্পনা যখন অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখন ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ে।
তখন সবাই সেই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবে, পরামর্শ আসবে কিংবা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবে। এই পুরো প্রক্রিয়াই আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌথ পরিকল্পনা আনন্দর সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কও দৃঢ় করে।
লক্ষ্য থাকলেও বাড়ে মানসিক সুস্থতা
সুখ শুধু লক্ষ্য অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা, ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতের ইতিবাচক ফলাফল কল্পনা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পরিকল্পনা যেন বর্তমান থেকে পালানোর উপায় না হয়
গবেষণার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “পরিকল্পনা তখনই উপকারী, যখন তা বাস্তবসম্মত এবং নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।”
পরিকল্পনার উদ্দেশ্য বর্তমান জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং বর্তমানকে আরও অর্থবহ করে তোলা।
তাই ভালো পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত, যা নিজের লক্ষ্য, সম্পর্ক এবং মানসিক সুস্থতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন