Published : 14 Sep 2025, 05:39 PM
ছোট জায়গা মানেই সৃজনশীলতার জন্য আরও সুযোগ। শরৎকালের আগমনে ঘর সাজানোর আনন্দই আলাদা।
অনেকেই এই সময়ে প্রিয় শীতল চাদর, কুশন, আর ঘ্রাণমাখা মোমবাতি ব্যবহার করে বাড়িকে আরামদায়ক করে তোলেন।
তবে যারা ছোট বাসায় থাকেন, তাদের জন্য সাজসজ্জার কাজটা কখনও কখনও সীমাবদ্ধ মনে হতে পারে।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “ছোট জায়গার ঘরগুলোকে বহুমুখীভাবে ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় এগুলো শুধুই কার্যকরী মনে হয়, তবে হয়ে ওঠে আনন্দহীন। অথচ সঠিক সাজসজ্জার মাধ্যমে জায়গা বড় দেখাতে ও উষ্ণতা যোগ করে বরং নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করা যায়।”
কুশনের জাদু যোগ করা
কুশন সবসময়ই বসার ঘরকে উষ্ণতা ও গভীরতা দেওয়ার অন্যতম উপাদান। কয়েকটি সুন্দর কুশন মুহূর্তেই ঘরে প্রাণ যোগ করতে পারে।
কারণ কিছু কিছু কুশন যে কোনো ঘরে উষ্ণতা ও আরাম যোগ করতে সক্ষম। ঘরের রংয়ের সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি কুশনের কাভার কিনে নেওয়া যায়।
আগে থেকে থাকা কুশন ব্যবহার করতে পারেন, শুধু কাভার বদলালেই নতুনত্ব আসবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কাভার খোলার মতো ব্যবস্থা থাকে, যাতে সহজে ধুয়ে ব্যবহার করা যায়।
ঘ্রাণে ভরিয়ে তুলুন পরিবেশ
ঘ্রাণের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘরের পরিবেশকে বদলে দেওয়া যায়।
গুলশান নাসরিন পরামর্শ দেন, “মোমবাতি বা এসেনশল অয়েলের মিশ্রণ পাল্টে শরতের উপযোগী করে নিতে পারেন। এতে ঘরে উষ্ণতা আসবে। কারণ গন্ধ অনুভূতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে।”
শরৎকাল মানেই বিভিন্ন মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ। তাই পছন্দ মতো ঘ্রাণমাখা মোমবাতি কিংবা এসেনশল অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বসার ঘর শরতের স্বাদে ভরে উঠবে।
শুধু তাই নয়, ঘ্রাণকে কেন্দ্র করে আরামদায়ক এক পরিবেশ গড়ে উঠবে, যা দিনের শেষে আপনাকে প্রশান্তি দেবে।
প্রাকৃতিক উপাদান ঘরে আনা
শরৎ প্রকৃতির উপাদানকে ঘরে আনার আদর্শ সময়।
গুলশান নাসরিন বলেন, “শরতের বিভিন্ন ফুল, যেমন- দোলনচাঁপা, কাশ, শিউলি, পদ্ম, শাপলা, জুঁই, কেয়া, বকুল, বেলি, দোলনচাঁপা, শালুক, মালতী, জবা, কামিনী, মাধবী ও মল্লিকা সংগ্রহ করে ফুলদানিতে সাজাতে পারেন বা ফুল দিয়ে বইয়ের তাক সাজাতে পারেন।”
এগুলো ফুলের দোকান, বাড়ির ছাদবাগান বা ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যায়। এ ধরনের আয়োজন খুব বেশি খরচ ছাড়াই ঘরে এনে দিতে শরতের মৌসুমি আবহ।
ছোট ছোট এই পরিবর্তনই পুরো ঘরের পরিবেশে বড়সড় প্রভাব ফেলে।
দেয়ালে নতুনত্ব
ছোট জায়গার বসার ঘর সাজাতে দেয়ালকে কাজে লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ। দেয়ালে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ছবি বা প্রিন্ট ঘরকে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে, অথচ মেঝের জায়গা নষ্ট হয় না।
অল্প খরচে কিছু প্রিন্ট কিনে দেয়ালে সাজাতে পারেন। এতে ঘরে বাড়তি মাত্রা যোগ হবে।
বিশেষ করে শরৎ-অনুপ্রাণিত রংয়ের ছবি ব্যবহার করলে ঘরে মৌসুমি আবহ তৈরি হবে। এতে ছোট বসার ঘরও হয়ে উঠবে উষ্ণ আর স্নিগ্ধ।
সাজসজ্জায় সংরক্ষণ যোগ
একই সঙ্গে ঘর গোছানো ও সাজানোর সুযোগ কেন হাতছাড়া করবেন? ট্রে, তাক বা ছোট স্টোরেজ এসব ব্যবহার করে ঘরকে সুন্দর রাখার পাশাপাশি জিনিসপত্রও গুছিয়ে রাখা যায়।
শরতের জন্য চাইলে মোমবাতি, মৌসুমি রংয়ের শোপিস কিংবা ছোট ফুল এসব ট্রেতে সাজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ঘর যেমন গুছানো থাকবে, তেমনি সাজও হয়ে উঠবে মৌসুমি।
শরতের মৌসুমে ছোট ঘরকে বড় দেখানোর বাড়তি পরামর্শ
আয়না ব্যবহার
আয়না শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং আলো প্রতিফলিত করে ঘরকে উজ্জ্বল ও প্রশস্ত দেখায়। বড় আয়না ঘরে রাখলে জায়গা অনেকটা খোলা মনে হয়।
হালকা রং ব্যবহার
গাঢ় রং সাধারণত জায়গাকে ছোট করে তোলে। তাই দেয়াল ও আসবাবে হালকা রং, যেমন- সাদা, ধূসর বা নিরপেক্ষ টোন ব্যবহার করতে হবে। এতে ঘর বড় দেখাবে।
আসবাবের অনুপাত ঠিক রাখা
আসবাব সাজানোর সময় ৬০/৪০ নিয়ম মেনে চলতে পারেন।
নাসরিন বলেন, “অর্থাৎ, ঘরের ৬০ শতাংশ অংশে আসবাব, আর ৪০ শতাংশ ফাঁকা রাখা ভালো বুদ্ধি। এতে ঘর খোলা মনে হবে এবং চলাফেরার জায়গা থাকবে।”
আরও পড়ুন.
ছোটখাট অভ্যাসে বাসা-বাড়ি গুছিয়ে রাখা যায় সহজে