Published : 12 Apr 2026, 03:18 PM
পহেলা বৈশাখে বাইরে ঘুরতে না যাওয়া হচ্ছে না? তবে নিজের ঘরকেই উৎসবের অংশ করে তোলা যায়।
ঘরকে বৈশাখের সাজে সাজাতে নতুন কিছু না কিনলেও চলবে। সাজে থাকবে গ্রামীণ ছোঁয়া, পুরানো ঐতিহ্য আর স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
গ্রামীণ উপকরণে সাজ
আগের দিনে বৈশাখে ঘর সাজানোর জন্য ছিল সহজ, হাতের কাছের জিনিস। বাঁশের তৈরি ডালা, পাটের চট, মাটির হাঁড়ি-কলস, শীতল পাটি, কুলা— এসবই ছিল সাজের মূল উপকরণ।
“ঘরের এক কোণে একটি শীতল পাটি বিছিয়ে তার ওপর মাটির কলস বা হাঁড়ি রাখা যেতে পারে”- বলেন অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।
পাশে কুলা রেখে তাতে রঙিন ফুল বা শুকনো ধান সাজালে সহজেই ঘরে আসবে গ্রামবাংলার চিত্র। এতে আলাদা কিছু কেনার দরকার নেই, বরং পরিচিত জিনিসই নতুনভাবে ফুটে উঠবে।
এছাড়া ধান দিয়ে আলপনাও করা যায় বসার ঘরের কোনে।
বৈশাখ আবহ আনতে ঘরের দেয়ালে বা মেঝেতে আলপনা আঁকা যেতে পারে। চালের গুঁড়া দিয়ে সাদা আলপনা, তার সঙ্গে লাল রং এই দুই উপাদানেই হবে সাজ।
পুরানো কাপড়, বিশেষ করে লাল-সাদা শাড়ি দিয়ে পর্দা বা টেবিল ঢেকে দেওয়া যেতে পারে।

ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই নতুন সাজ
নতুন কিছু কেনার আগে খেয়াল করতে হবে ঘরেই কত কিছু আছে। পুরানো কাচের বোতল, মাটির পাত্র, কাগজ কিংবা ব্যবহৃত কাঠের ট্রে সবই ব্যবহার করা যায়।
কাচের বোতলে পানি ভরে তাতে গাঁদা বা রজনীগন্ধা ফুল রেখে দিলে খুব সহজেই একটি সুন্দর সাজ তৈরি হয়।
পুরানো পত্রিকা বা কাপড় দিয়ে বানানো যেতে পারে দেয়ালের ঝুল বা ছোট সাজসজ্জা। প্যাঁচা মুখোশ, ফুল, পাতা, ঢোল সবই তৈরি করা যায়।
বসার ঘরে দেয়ালে আনন্দ উৎসব বা বৈশাখী উৎসব লেখা বোর্ড সাজিয়ে আলাদা আমেজ আনা যায়।
কৃত্রিমতা কমিয়ে আনুন স্বাভাবিকতায়
এখন বাজারে অনেক ধরনের কৃত্রিম সাজসজ্জার উপকরণ পাওয়া যায়। তবে এগুলো ব্যবহার করলে অনেক সময় সাজে প্রাণ থাকে না।
“বৈশাখের সাজে তাই যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করাই ভালো”- বলেন গুলশান নাসরিন।
তাজা ফুল, পাট, বাঁশ, মাটি, কাগজ পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর নয়। কৃত্রিম ফুলের বদলে একমুঠো গাঁদা ফুল ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশে আসবে বদল।
দেয়ালে বা সিলিংয়ে রঙিন কাগজ বিভিন্ন আকারে কেটে টাঙানো যায়।
রংয়ের ব্যবহার
বৈশাখ মানেই লাল-সাদা এই রংয়ের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। তবে শুধু এই দুই রংয়েই আটকে না থেকে হালকা হলুদ, সবুজও ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে খুব বেশি রং ব্যবহার না করাই ভালো। এতে সাজটি ভারী মনে হতে পারে।
আলোর ব্যবহার
ঘরে দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিতে হবে। জানালার পর্দা সরিয়ে দিলে ঘর উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত লাগে।
রাতে ছোট ছোট প্রদীপ বা মোমবাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরে একটি উষ্ণ, শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, যা বৈশাখের সঙ্গে মানানসই।

ছোট ছোট কোণেও থাকুক যত্ন
শুধু বড় জায়গা নয়, ঘরের ছোট ছোট কোণেও একটু সাজানো যেতে পারে। যেমন- বুকশেলফের ওপর একটি মাটির পাত্র, ডাইনিং টেবিলে একটি ফুলের সাজ, বা দরজার পাশে ছোট একটি আলপনা বা ফুল, পাতা কাটা রঙিন কাগজ সাজানো যায়।
পরিবারের সবাইকে যুক্ত করা
বৈশাখে ঘর সাজানো জন্য সবাই যুক্ত হলেই বাড়ে আনন্দ। শিশুরা আলপনা আঁকতে না পারলে রং দিয়ে তাদের হাতে ছাপ বোর্ডে দেওয়া যায়।
পরে তা ঘরের এক কোণে সাজালে শিশুদেরও আনন্দ বাড়ে।
আরও পড়ুন
ঘর সজ্জায় চলতি ধারা যে কারণে এড়ানো ভালো