Published : 18 May 2025, 05:58 PM
রান্নাঘরে দুধ, ডিম কিংবা মাখনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কতক্ষণ রাখা যায়? এমন চিন্তা অনেকেই করেন।
বিশেষ করে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসে উদ্বিগ্ন হলে, এই প্রশ্নগুলো মনে ঘুরপাক খাওয়া খুব স্বাভাবিক।
যখন দুধের প্যাকেট খুলে রাখা অথবা মাখনের প্যাকেট খোলা রেখে দেওয়া হয় তা কি স্বাস্থ্যকর?
এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি’র ‘মিল্ক কোয়ালিটি ইম্প্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম’য়ের পরিচালক এবং দুগ্ধজাত খাবারবিষয়ক গবেষক ডা. নিকোল মার্টিন ও নিউ ইয়র্ক সিটি’র ‘ইন্সটিটিউট অব কালিনারি এডুকেশন’-এর ‘পেস্ট্রি অ্যান্ড বেইকিং আর্টস’ বিভাগের প্রধান নির্দেশক ট্রাং ভু দিয়েছেন মতামত।
দুধ: ফ্রিজের বাইরে কতক্ষণ নিরাপদ?
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)'র মতে, দুধসহ সকল ‘পেরিশেবল’ বা সহজে নষ্ট হয় এমন খাদ্যদ্রব্য দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বাইরে রাখা যেতে পারে।
যদি তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়, তাহলে সেটা এক ঘণ্টায় নেমে আসে। অনেকের কাছেই এই সময়টা একটু বেশি মনে হতে পারে।
তবে ডা. নিকোল মার্টিন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “এই সময়ের মধ্যে দুধ অতটাও ক্ষতিকর হয়ে পড়ে না, যতটা আমরা ভাবি। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং উষ্ণ পরিবেশে দুধে থাকা ব্যাক্টেরিয়া দ্রুত গতি পায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে দুধ নষ্ট হয়ে যায় না।”
তিনি বলেন, “দুধ তিন ঘণ্টা বাইরে রেখে দিলে, সেটি এক সপ্তাহ সতেজ থাকার বদলে হয়ত কয়েকদিন আগেই স্বাদ বা গন্ধে পরিবর্তন আনবে।”
তাই ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে দুধের গন্ধ ও স্বাদ খারাপ লাগছে কি-না সেটা যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সারকথা: দুধ বাইরে দুয়েক ঘণ্টা থাকলে তেমন সমস্যা নেই। তবে ঠাণ্ডা রাখলে সেটির গুণগত মান ভালো থাকে।
কাঁচা ডিম বাইরে রাখা কি নিরাপদ?
‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)'র নির্দেশনা অনুসারে, ডিম দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বাইরে রাখা যেতে পারে।
ডিম বাজারজাত করার আগে ধুয়ে ফেলা হলে ডিমের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর সরে যায় এবং ‘স্যালমোনেলা’ জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
নিকোল মার্টিন বলেন, “যত বেশি তাপমাত্রা, তত দ্রুত ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধি পায়।”
তবে অনেক রেসিপিতে দেখা যায় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ডিম ব্যবহারের নির্দেশ। এটা কি নিরাপদ?
এই বিষয়ে ট্রাং ভু বলেন, “ঘরের তাপমাত্রায় ডিম ব্যবহার করলে অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মেশানো সহজ হয়। ঠাণ্ডা ডিম ব্যবহারে নরম মাখন জমে যেতে পারে, ফলে মিশ্রণে ‘লাম্প’ বা দলা তৈরি হয়।”
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “ডিম এক ঘণ্টায় ঘরের তাপমাত্রায় পৌঁছে যায়, যা নিরাপদ সময়সীমার মধ্যেই পড়ে।”
তার আরও পরামর্শ হল- চাইলে ডিম হালকা গরম পানিতে রেখে ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসা যায়।
তিনি বলেন, “যেহেতু ডিম রান্না করে খাওয়া হয়, তাই উচ্চ তাপে রান্নার মাধ্যমে যে কোনো জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। ডিম ও ডিমজাত খাদ্য ১৬০ ডিগ্রি ফারহানাইট তাপমাত্রায় রান্না করলে জীবাণু মরে যায়।”
সারকথা: রান্নার আগে ডিম দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বাইরে রাখা নিরাপদ। তবে অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করতে হবে।
মাখন: কতক্ষণ বাইরে রাখলে সমস্যা নেই?
গবেষণায় দেখা গেছে, মাখন আসলেই অন্য ‘পেরিশেবল’ বা নষ্টযোগ্য খাবারের চেয়ে কম নষ্ট হয়।
নিকোল মার্টিন বলেন, “মাখনে পানির পরিমাণ কম থাকে, তাই ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধির সুযোগও কম। আর নোনতা মাখনে পানির কার্যকারিতা আরও কম থাকে।”
আরও বলেন, “মাখন বাইরে রাখার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে— রুচিহীন গন্ধ ও স্বাদ। তবে এতে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা কম।
তবে একদম খোলা না রেখে যদি মাখন ঢেকে বা ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখা হয় তাহলে সেটি দুদিন পর্যন্ত নিরাপদভাবে বাইরে রাখা যায়।
আরও পড়ুন