Published : 27 Sep 2025, 05:08 PM
বর্তমান সময়ে নানান রকম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবান থাকার বিভিন্ন ধারা চোখে পড়ে। অনেক সময় এগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন বা ক্ষতিকর হয়।
তবে সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি ট্রেন্ড বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে ইতিবাচকভাবে। সেটি হল ‘ফাইবারম্যাক্সিং’— অর্থাৎ প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ‘ফাইবার’ বা আঁশের পরিমাণ বাড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পুষ্টিবিদ লরেন মানাকার সিএনএন ডটকম -এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন— এই ধারা আসলেই মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে।
যে কারণে আঁশ গুরুত্বপূর্ণ
মার্কিন খাদ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ২২ থেকে ৩৪ গ্রাম আঁশ গ্রহণ করা উচিত। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ শতাংশের বেশি নারী এবং ৯৭ শতাংশ পুরুষ এই পরিমাণ পূরণ করতে পারেন না। এর ফলে নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
মার্কিন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. কাইল স্টলার বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আঁশ’কে চিকিৎসক ও গবেষকরা খাদ্যের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছেন। নানান ট্রেন্ড আসে যায়, তবে আঁশ সবসময় কার্যকর।”
আঁশের ধরন ও কার্যকারিতা
আঁশ দু’ধরনের হয়ে থাকে— দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়।
দ্রবণীয় আঁশ পানিতে মিশে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে। এটি হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যেমন- আপেল, কলা, সিট্রাস ফল, ওটস, গাজর, শিমজাতীয় খাবার।
অদ্রবণীয় আঁশ পানিতে মিশে না গিয়ে মল ভারী করে এবং মলত্যাগ সহজ করে। যেমন- সবুজ মটর, ফুলকপি, আলু, গমের ভুষি, বাদাম।
লরেন মানাকার বলেন, “দুই ধরনের আঁশের সুষম গ্রহণ জরুরি। একটির আধিক্য এবং অপরটির ঘাটতি হজমজনিত সমস্যা, যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাস তৈরি করতে পারে।”
আঁশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ
আঁশের ঘাটতি কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য বা অস্বস্তি নয়, বরং বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গেও জড়িত।
লরেন মানাকার সতর্ক করেছেন, বর্তমানে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ‘কোলন’ বা মলাশয়ের ক্যান্সারের হার বাড়ছে। কম আঁশ গ্রহণ এর একটি কারণ হতে পারে।
ডা. কাইল স্টলার বলেন, "যথেষ্ট আঁশ খেলে অন্ত্র দিয়ে বর্জ্য দ্রুত বেরিয়ে যায়, ফলে ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে অন্ত্রের সময় কমে যায়। একই সঙ্গে আঁশ অন্ত্রে পৌঁছে শরীরের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে ফার্মেন্ট হয়ে ‘শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড’ তৈরি করে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।"
কানাডাভিত্তিক খাদ্য-বিশেষজ্ঞ জেনিফার হাউস বলেন, "এই ‘শর্ট-চেইন ফ্যাটি এসিড’ মলাশয়ের কোষকে শক্তি জোগায়, প্রদাহ কমায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।"
অন্যান্য উপকারিতা
আঁশ খাওয়ার আরও উপকারিতা রয়েছে—
মানাকার বলেন, “আঁশ হজম প্রক্রিয়া ধীরে ঘটায় এবং রক্তে শর্করা ধীরে প্রবেশ করে, এতে হঠাৎ শর্করার ওঠানামা হয় না।”
‘ফাইবারম্যাক্সিং’ শুরু করা যায় যেভাবে
ডা. স্টলার পরামর্শ দেন, "হঠাৎ করেই আঁশের পরিমাণ দ্বিগুণ করলে সমস্যা হতে পারে। কারণ আঁশ পানি শোষণ করে অন্ত্রে ফুলে ওঠে, এতে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হয়। তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।"
জেনিফার হাউস বলেন, “প্রথমে সকালের সিরিয়ালে কিছু বেরি যোগ করুন অথবা সাদা ভাতের বদলে একবেলা বাদামি চালের ভাত খান। কয়েক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে আঁশের পরিমাণ বাড়ান।”
আঁশ সবার শরীরে একভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সহজ কিছু উপায়
আরও পড়ুন