Published : 21 Jul 2026, 11:53 AM
দেশের ফ্যাশন, মডেলিং এবং উপস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে এক দশকের পথচলার মাইলফলক উদ্যাপন করলো ‘আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প’ (এএমটিসি)।
নতুন স্বপ্নের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছিল সমাবর্তন উৎসব।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির ‘বজুঁর ব্যাংকোয়েট হল’-এ আয়োজিত এই উৎসবে এএমটিসির মডেলিং কোর্সের ১০টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এবং প্রথমবারের মতো প্রেজেন্টিং ও পেজেন্ট্রি কোর্সের সফল গ্র্যাজুয়েটরা এক মঞ্চে একত্রিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলো বাড়িয়েছিলেন দেশের ফ্যাশন ও বিনোদন জগতের আইকন, মডেল, নৃত্য ও অভিনয়শিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফইএবি)–এর সভাপতি ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘সাদা কালো’র সহপ্রতিষ্ঠাতা আজহারুল হক আজাদ এবং প্রথম আলোর ‘হাল ফ্যাশন’-এর পরামর্শক শেখ সাইফুর রহমান এবং র্যাম্প মডেল, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও প্রশিক্ষক বুলবুল টুম্পা।

এএমটিসির প্রতিষ্ঠাতা ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদের সঙ্গে অতিথিরা যৌথভাবে কৃতি গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন।
আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘স্টার স্টুডেন্ট’ সম্মাননা
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘স্টার স্টুডেন্ট’ সম্মাননা। এএমটিসি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর, যারা গত এক দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ফ্যাশন ও মিডিয়া অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের এই বিশেষ ট্রফি ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি সাদিয়া ইসলাম মৌ নিজ হাতে এই সফল তারকাদের সম্মাননা প্রদান করেন।

যারা ‘স্টার স্টুডেন্ট’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন— ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯’ শিরিন আখতার শীলা, শাহেলা মজুমদার নিধি, বি. প্রসাদ, শারিয়ার আজরাফ, জারিফ শাবাব, ফাইজা ফেরদৌস খান, ফাইজা নূন, ফাতিহা খুলদ মিয়ামি, পারিনাজ লামিয়া, আবন্তিকা রহমান, মাহেলেকা জাবিন, মারিয়া আক্তার মৃদুলা, জিদনি খান, প্রজ্ঞা ইসলাম, রাহনুমা নুরাইন তানহা, ফাহমিদা আহমেদ বুশরা, ফাবলিহা খান, আফসানা আহমাদ, তাহমিনা আঞ্জুম ইলা, উম্মে জামিলাতুন নাইমা, ইয়াসিন আহমেদ সোকাল এবং যুক্তা ভৌমিক।
প্রশিক্ষণ শেষ করে এই কৃতি শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনারদের প্রধান মুখ হিসেবে কাজ করছেন।
কেউ আন্তর্জাতিক র্যাম্পে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, কেউবা সফল কোরিওগ্রাফার, টেলিভিশন উপস্থাপক কিংবা বিউটি পেজেন্টের মুকুট বিজয়ী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এক মঞ্চে ১০ বছরের স্বপ্ন পূরণ
অনুষ্ঠানে নিজের আবেগঘন বক্তব্যে এএমটিসির প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ বলেন, “ঠিক দশ বছর আগে তরুণদের নিজেদের সুপ্ত সম্ভাবনা আবিষ্কারের একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার স্বপ্ন নিয়ে আমাদের এই পথচলা শুরু হয়েছিল। আজ যখন সব ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটদের এক ছাদের নিচে, এক মঞ্চে হাসিমুখে দেখছি তখন সেই স্বপ্ন পূরণের আনন্দ এবং দায়বদ্ধতা আরও গভীর হয়েছে।”

প্রধান অতিথি সাদিয়া ইসলাম মৌ, শুভেচ্ছা বক্তব্যে এএমটিসির প্রশংসা করে বলেন, “গত এক দশকে এএমটিসি শুধু যে ভালো কিছু মডেল তৈরি করেছে তা নয়, বরং প্রশিক্ষণার্থীদের ভেতর থেকে আত্মবিশ্বাস, মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং পেশাদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করা ‘আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প’ (এএমটিসি) বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিভা তুলে ধরতে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’, ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’, ‘মিস কসমো বাংলাদেশ’, ‘মিস্টার কসমো বাংলাদেশ’ এবং ‘ফেইস অব বাংলাদেশ’–এর অফিশিয়াল লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।