Published : 13 Apr 2026, 04:44 PM
বাজারে যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই একটি তালিকা তৈরি করা হয়। আবার মনে মনে সিধান্ত হয় প্রয়োজনের বাইরে কিছুই কেনা যাবে না।
তবে বাজার থেকে ফিরে দেখা যায় ব্যাগ ভরে গেছে অতিরিক্ত জিনিসে। কখনও অপ্রয়োজনীয় নাস্তা, কখনও আবার একই জিনিস বারবার কেনা।
বিষয়টি শুধুই ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা নয় এর পেছনে কাজ করে মন, অভ্যাস এবং পরিস্থিতির কিছু প্রভাব।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মনোবিজ্ঞানী নাদিয়া নাসরিন বলছেন, “কেনাকাটার মুহূর্তে অনেক সময়ই সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না বরং আবেগ ও সময়ের প্রভাবেও সিদ্ধান্ত হয়। তাই মানসিক অবস্থা সরাসরি কেনাকাটার আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।"
ক্ষুধা: সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় কারণ
বাজারে যাওয়ার আগে অনেক সময় খালি পেটে থাকা হয়। তখন মস্তিষ্কের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে দ্রুত তৃপ্তি পাওয়া। ফলে তালিকার কথা ভুলে গিয়ে এমন অনেক খাবার কিনে ফেলা হয়, যা আসলে প্রয়োজনই ছিল না।
ক্ষুধা আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে চোখে পড়া প্রতিটি খাবারই আকর্ষণীয় মনে হয়। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে আবেগের কাছে হেরে যাওয়া।
অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা
অনেকের মধ্যেই অদৃশ্য ভয় কাজ করে, যদি পরে না পাওয়া যায়? অতীতে কোনো সংকট, পারিবারিক অভিজ্ঞতা বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই মানসিকতা তৈরি করতে পারে।
মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যতের অভাব এড়াতে চায়। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে রাখলে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। যদিও বাস্তবে এটি অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ছাড়ের ফাঁদ
বাজারে গেলে প্রায়ই দেখা যায় পণ্যের পাশে বড় করে লেখা ‘ছাড়’ বা ‘মূল্যহ্রাস’ বা ‘একটা কিনলে একটা ফ্রি’। তখন মনে হয় সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
নাদিয়া নাসরিন ব্যাখ্যা করেন, “মস্তিষ্ক প্রথমে বেশি দামটি মনে রাখে, এরপর কম দামে সেটি কিনলে নিজেকে লাভবান মনে হয়। তবে এতে আসলে এমন কিছু কিনে ফেলা হয়, যা হয়তো প্রয়োজনই ছিল না। এই মনস্তাত্ত্বিক কৌশল অজান্তেই বেশি খরচ করায়।”
ক্লান্তি ও চাপ: আবেগের কেনাকাটা
দিনের শেষে ক্লান্ত, চিন্তিত বা মানসিকভাবে চাপে থাকলে নিজের অজান্তেই এমন কিছু কেনা হয়, যা ভালো অনুভূতি দেয়।
মিষ্টি, নতুন খাবার বা বিশেষ কিছু এসব কেনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। এই মুহূর্তের আনন্দ দীর্ঘমেয়াদে বাজেট বা প্রয়োজনের কথা ভুলিয়ে দেয়।
মস্তিষ্কের আনন্দ
খাবার কেনা শুধু প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, এটি মস্তিষ্কে এক ধরনের আনন্দও তৈরি করে। ভবিষ্যতে সেই খাবার খাওয়ার কল্পনা থেকেই আনন্দ পাওয়া যায়।
এই ছোট আনন্দই বাড়তি জিনিস কিনতে উৎসাহ দেয়।
নিজের আচরণ বোঝার গুরুত্ব
“বাজারে গিয়ে বেশি কেনাকাটা করা কোনো ব্যতিক্রম নয়, এটি স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক আচরণ”- বলেন নাদিয়া নাসরিন।
তবে নিজের এই প্রবণতা বুঝতে পারলে এবং সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শিখলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সম্ভব।
নিজের প্রয়োজন, অভ্যাস এবং আবেগকে বুঝে চলাই সবচেয়ে বড় কৌশল।
আরও পড়ুন
অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধের উপায়