Published : 18 Nov 2025, 05:19 PM
ঘর যতই পরিষ্কার রাখা হোক, অনেক সময়ই হঠাৎ অদ্ভুত গন্ধ পেয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে শীতের সময়ে ঘরের দরজা, জানালা বন্ধ থাকে বলে গুমট গন্ধ হয়।
আবার ফ্রিজের ভেতর জমে থাকা ঘিনঘিনে গন্ধ, বাথরুমে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বা অজানা কোনো জায়গায় আটকে থাকা বাসি গন্ধ- এসবই পুরো পরিবেশকে ভারী করে তোলে।
তবে ঘরের ভেতর থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়ে এই সমস্যাগুলো সহজেই সমাধান করা যায়।
কফির গুঁড়া দিয়ে ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করা
যতই নিয়মিতভাবে ফ্রিজ পরিষ্কার করা হোক, মাঝে মাঝে কিছু খাবারের গন্ধ জমে ভারী হয়ে ওঠে। সাধারণত অনেকেই বেইকিং সোডা ব্যবহার করে থাকেন।
এছাড়াও আছে ভিন্ন একটি উপায় যা হল- ব্যবহৃত কফির গুঁড়া।
ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “ফ্রিজে রাখা খাবারের বিভিন্ন গন্ধ শোষণ করার ক্ষমতা অনেক উপাদানের থাকলেও ব্যবহৃত কফির গুঁড়ায় প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন থাকার কারণে গন্ধ দূর করার ক্ষমতা বেশি।”
“কফি বানানোর পর সাধারণত গুঁড়াটি ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেটিই হালকা করে শুকিয়ে একটি ছোট বাটিতে রেখে ফ্রিজের ভেতরে রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত গন্ধ দ্রুত দূর হয়ে যায়”- বলেন তিনি।
তবে এক্ষেত্রে ইন্সট্যান্ট কফি নয়, ব্যবহার করতে হবে কফি বিন’য়ের গুঁড়া।
এই পদ্ধতির ক্ষমতা এতটাই বেশি যে ব্যয়বহুল কোনো সুগন্ধি বা আলাদা রাসায়নিক ব্যবহার না করেও ফ্রিজে সতেজ ভাব বজায় থাকে। তাছাড়া এটি পরিবেশবান্ধব ও অতিরিক্ত খরচবিহীন একটি সমাধান।
পাতা ও ফুলের সুগন্ধে গোসলঘরকে স্পা–মতো করে তোলা
গোসলঘরকে সতেজ ও আরামদায়ক রাখতে অনেকেই বাজার থেকে বিভিন্ন সুগন্ধি ব্যবহার করেন। তবে এখানে তাজা পাতা ও ফুলও যোগ করা যায়।
এতে গোসলের সময় পুরো পরিবেশে একটি স্বস্তিদায়ক, মনশান্তিকর সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক পাতা ও ফুলের ঘ্রাণ শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
সতেজ বালিশ
বাড়ির অতিথি–বসার ঘর কিংবা শোবার ঘরে রাখা বালিশ প্রায়ই বাতাসে জমে থাকা আর্দ্রতা বা ঘামের কারণে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করে।
বালিশের কভার ধোয়া সহজ হলেও প্রতিদিন সেটা করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাপড় নরম করার ‘শুকনা শিট’ অত্যন্ত কার্যকর।
বালিশের কভার খুলে ভেতরে একটি শিট (কাপড় নরম করার শুকনা সুগন্ধি পাতলা কাগজ) আলতো করে রেখে দিলে পুরো বালিশে হালকা, পরিষ্কার ও আরামদায়ক সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।
যেহেতু এটি কাপড়ের ভেতরেই থাকে, তাই বালিশ ব্যবহারের সময় মাথা রাখলেই মনোরম গন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সুপার শপে বা অনলাইনে এমন শিট পাওয়া যায়।
এটি বিশেষভাবে কার্যকর, যে কারণে অনেক সময় বালিশ দীর্ঘদিন ব্যবহারে যেসব বাসি গন্ধ ঢুকে যায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ঘরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই একটি পরিষ্কার, গোছানো অনুভূতি পাওয়া যায়।
আবর্জনার ডাস্টবিনে প্রাকৃতিক সুগন্ধ তেল ব্যবহার
বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় যতই সুগন্ধ ছড়ানো হোক না কেন, ডাস্টবিন থেকে আসা দুর্গন্ধ পুরো ঘরের পরিবেশ নষ্ট করে দিতে পারে। এজন্য অত্যন্ত সহজ একটি পদ্ধতি তেলযুক্ত তুলার বল।
ডাস্টবিনে নতুন ব্যাগ লাগানোর আগে একটি তুলার বলে পছন্দমতো এসেনশল তেল দিয়ে ডাস্টবিনের তলায় ফেলে দিন। এতে ব্যাগের ভেতর জমে থাকা দুর্গন্ধ সহজেই চাপা পড়ে এবং পুরো ঘরে অনাকাঙ্ক্ষিত গন্ধ ছড়ানোর প্রবণতা কমে।
অনেক ধরনের তেল শুধু সুগন্ধ ছড়ায় না, বরং অতিরিক্ত সুবিধাও দেয়।
এর ফলে শুধু ডাস্টবিনই সুগন্ধিময় থাকে না, ঘরের আশপাশে পোকামাকড়ের উপদ্রবও কমে।
ভ্যানিলা নির্যাস দিয়ে পুরো ঘরে মিষ্টি সুবাস
ঘর সাজানোর বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর এই ভ্যানিলা নির্যাসের কৌশল।
রান্নাঘরে সাধারণত ভ্যানিলা নির্যাস থাকে। সেটিই একটু ভিন্নভাবে ব্যবহার করলে মনোরম ও মনকাড়া সুবাস পুরো ঘর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বাটিতে গরম পানি নিয়ে তাতে সামান্য ভ্যানিলা নির্যাস ঢেলে দিন। গরম পানির কারণে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই নির্যাসের সুবাস পুরো রান্নাঘর ছাড়িয়ে পাশের কক্ষগুলোতেও ছড়িয়ে যাবে।
এই গন্ধ এতটাই মিষ্টি ও আরামদায়ক যে মনে হবে পুরো ঘরের ভেতর যেন কোনো বেকারি সদ্য প্রস্তুত কেক তৈরি করেছে।
ভ্যানিলার সুবাস মানুষের মন ভালো করতে সাহায্য করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ঘরের পরিবেশকে আরামদায়ক করে তোলে।
আরও পড়ুন