Published : 18 Jun 2026, 05:36 PM
প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথা বলা হলেও সবখাত সমান সুযোগ পাচ্ছে না দাবি করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
তার কথায়, “আমরা বলেছি যে, রপ্তানিমুখীর ক্ষেত্রে আমরা বহুমুখীকরণ করতে চাই, আমরা ডাইভারসিফিকেশন করতে চাই; কিন্তু সেখানে আমরা কিছু মিক্সড সিগন্যাল পাচ্ছি।
“মিক্সড সিগন্যাল কেমন? এখানে বাজেটে বলা হয়েছে যে—যেসব রপ্তানিমুখী কমপ্লায়েন্ট পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান, খেয়াল করবেন শব্দটা পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রতিবছর বন্ডেড অডিটের বাধ্যবাধকতা রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তো আমরা যারা পোশাক শিল্প করি না, তারা আমরা কি দোষটা করলাম?”
বৃহস্পতিবার সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত বাজেট বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, “তো বহুমুখীকরণ যদি বলাই হয়—এটা শুধু পোশাক শিল্প না করে যেকোনো রপ্তানিমুখী শিল্প, যাদের সেই রিস্ক প্রোফাইল নেই; তাদেরকে এই বন্ডের ম্যান্ডেটরি প্রতিবছরের অডিট থেকে রেহাই দেওয়া উচিত, এটা আমরা মনে করি।”
তৈরি পোশাক খাত ছাড়া অন্যান্য রপ্তানি খাতের বাধা নতুন বাজেটেও দূর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না যে সরকার আসলে কোন দিকে এগোতে চাইছে।
এ ব্যবসায়ী নেতার ভাষ্য, “বাজেটে এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে আটটা সেক্টরকে আরো ডিউটি ফ্রি ইম্পোর্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এটা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে; এটা একটা ভালো জিনিস।
“কিন্তু সেখানে একটা ভ্যালু এডিশন (মূল্য সংযোজন) ক্রাইটেরিয়া দেওয়া হয়েছে ৩০ শতাংশ।... সেখানে এই ভ্যালু এডিশন ৩০ শতাংশ অবাস্তব। এটাকে আপনাদের আবার বিবেচনা করতে হবে।”
এর ব্যাখ্যায় নাসিম মঞ্জুর বলেন, “টেক্সটাইলের জন্য হয়তোবা ৩০ শতাংশ হতে পারে- যেহেতু লোকাল সাপ্লাই চেইন হয়েছে; অন্যান্য সব ক্ষেত্রের জন্য এটা ১৫ শতাংশ এর বেশি হওয়া উচিত না।”
র্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রকৃত ঘাটতি প্রায় চার লাখ কোটি টাকা হতে পারে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয় ঘোষণা দেন; সেখানে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এতো বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণার পর থেকেই আয় কোত্থেকে হবে, বাস্তবায়ন কী করে হবে—সেসব শঙ্কার কথা উঠে আসছে।
র্যাপিডের অনুষ্ঠানেও এ প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মাধ্যমে ভোগ বাড়ানোর কথা বলেন। সেক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ও বেড়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারি ব্যয় কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়লে ‘অটোমেটিক্যালি প্রবৃদ্ধি বাড়বে’।
এর পাশাপাশি প্রশাসনের জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ‘এরর’ কমানোর কথা বলেন। ‘এরর’ কমানোর জন্য রিস্ক বেইজড অডিট এবং আমদানির মূল্যায়ন ও শুল্কায়নে অ্যাসাইকুডার ব্যবহারের কথা বলেন।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, “এইগুলো যদি করেন, তাহলে আপনার এরর কমে যাবে। তাহলে রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে।
“আবার সাথে সাথে যদি আপনি কর অব্যাহতি দেওয়া কমান, অর্থাৎ পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির জন্য যদি কর অব্যাহতি দেওয়া কমান, তাহলে আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়বে।”
তিনি বলেন, “রাজস্ব ব্যবস্থা বাড়ার অর্থাৎ ফিসকাল স্পেস তৈরি করার কৌশল হচ্ছে দুটো। একটা হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকোচন থেকে সম্প্রসারণ। সেইটা আপনার আয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এক। আর দুই হচ্ছে যে, আমাদের অপচয় বা জালিয়াতি বা ফাঁকি বা অনিয়ম-দুর্নীতি অর্থাৎ এরর কমায় দিলে আপনার আয় বেড়ে যাবে।
“এটিই হচ্ছে আমাদের কৌশল।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য রুবানা হক, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু ইউসুফ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।