Published : 24 Jul 2025, 05:41 PM
ঘরের পরিবেশ সতেজ রাখতে সুগন্ধি মোমবাতি বা ঘ্রাণযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করা হয়। তবে প্রাকৃতিকভাবে ঘরে সুগন্ধ ছড়াতে চাইলে গাছের বিকল্প নেই।
এমন কিছু ‘ইনডোর প্ল্যান্ট’ বা গৃহসজ্জার গাছ আছে, যেগুলো শুধু চোখর শান্তিই নয়, মনকেও প্রশান্ত করে এগুলোর স্বভাবজাত ঘ্রাণে।
কিছু গাছ আবার ফুল ফোটায়, আবার কিছু শুধু পাতা থেকেই ছড়ায় দারুণ সুবাস।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গাছ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিউপ্ল্যান্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ হানফেই নিইউ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ঘরের জন্য উপযোগী কিছু ছোট ও সুগন্ধি গাছ আছে যেগুলো সহজে বাড়ির বাতাসে মিশে যায় এবং এক ধরনের হালকা প্রশান্তি তৈরি করে।”
মাদাগাস্কার জ্যাজমিন: ছোট গাছে বড় ঘ্রাণ
‘বিয়ের ফুল’ নামে পরিচিত এই উদ্ভিদের প্রধান আকর্ষণ এর মৃদু কিন্তু মিষ্টি জ্যাজমিন ঘ্রাণ। এটি উজ্জ্বল তবে পরোক্ষ আলো পছন্দ করে এবং মাঝেমধ্যে পানি দিলেই চলে।
ছোট হলেও এর সুবাসে গোটা ঘর ভরে ওঠে। এই গাছের জন্য প্রয়োজন উজ্জ্বল ও পরোক্ষ আলো। খুব কড়া রোদের প্রয়োজন তেমন পড়ে না। আবার পানিও খুব বেশি প্রয়োজন হয় না। তবে মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে।
হানফেই নিইউ বলেন, “এই গাছের সুগন্ধ হালকা ও আরামদায়ক, যা যে কোনো কক্ষে স্নিগ্ধ আবহ তৈরি করতে পারে।”
ক্যাটলিয়া অর্কিড: মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ
বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড ভিন্ন ভিন্ন ঘ্রাণ দেয়। ক্যাটলিয়া প্রজাতির অর্কিডের ঘ্রাণ মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণের সাথে সামান্য সিট্রাস বা লেবুর মতো গন্ধও ছড়ায়। যত্ন একটু বেশি নিতে হলেও ঘরের সৌন্দর্য ও ঘ্রাণের জন্য এটি আদর্শ।
এই গাছের জন্যও প্রয়োজন উজ্জ্বল ও পরোক্ষ আলো। আর পানি প্রতি ৭ থেকে ১০ দিনে একবার। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি বা ফুটানো ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার ভালো।
আরও প্রতিবেদন
বাগানে রাখুন রোগ প্রতিরোধক গাছ

পুদিনা: ঘ্রাণ ও রান্না, দুই-ই একসাথে
শুধু ফুল নয়, কিছু ভেষজ গাছও ঘরে প্রাকৃতিক সুবাস ছড়াতে পারে।
পুদিনা গাছের পাতার ঘ্রাণ সতেজ, শীতল; আবার মুখরোচক। রান্নাঘরে রাখলে রান্নায় ব্যবহার করাও সহজ হয়।
পুদিনা গাছের জন্য পূর্ণ সূর্য অথবা আংশিক ছায়া দুইটিই প্রয়োজন হয়। আর গাছ বাঁচাতে মাটি সবসময় সিক্ত রাখা প্রয়োজন।
এই গাছের সুবাস শুধু ঘরের পরিবেশ বদলায় না বরং চা, পানীয় বা সালাদে ব্যবহারে স্বাদেও আনে বৈচিত্র্য।
সিট্রাস গাছ: ঘরে লেবুর সুবাস
যদিও সিট্রাস গাছ সাধারণত বাইরে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, তবে ছোট লেবু (মেয়ার লেমন) বা কমলা গাছ ঘরের মধ্যেও বেড়ে উঠতে পারে। এই গাছের ফুল এবং ফল দুটোই ঘরে এক ধরনের সতেজ সিট্রাস ঘ্রাণ ছড়ায়।
এ গাছের জন্য অবশ্যই থাকতে হবে পূর্ণ সূর্যালোক। আর প্রতি সপ্তাহে একবার পানি প্রয়োজন। খেয়াল রাখতে হবে মাটি এক ইঞ্চি গভীরে শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে।
তবে এই গাছগুলোকে গ্রীষ্মকালে বাইরে রোদে রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে পোকামাকড় দিয়ে পরাগায়নও প্রয়োজন হতে পারে।
প্লুমেরিয়া বা কাঠগোলাপ: ঘরে ট্রপিক্যাল সুবাস
কাঠগোলাপের ঘ্রাণ ভালো লাগে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না হয়ত। এই ফুল থেকে পাওয়া যায় মিষ্টি, কিছুটা মসলাদার, ফলের মতো অথবা ভ্যানিলা সুবাস। যদিও জাতভেদে পরিবর্তিত হয় এই ঘ্রাণ।
বালুমিশ্রিত মাটি ও প্রচুর আলোতে সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠে এই গাছ। প্রয়োজন পূর্ণ সূর্য এবং মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে। এই গাছের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এর রঙিন ফুল এবং দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের কারণে।
ইউক্যালিপটাস
ঘরে অ্যারোমাথেরাপি’র সুবাস ছড়াতে চাইলে ইউক্যালিপটাস উদ্ভিদের তুলনা হয় না।
নিইউ বলেন, “কাঠ আর সবুজেটে গন্ধ যুক্ত পত্রল-গাছটি দ্রুত জন্মায়। ফলে ঘরের মধ্যে এক ধরনের প্রকৃতির ছোঁয়া দেয়।
পুরো রোদ বা হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হয়। আর মাটি সবসময় আর্দ্র রাখা আবশ্যক।
ঘরের ভেতরে এমন গাছ রাখা শুধু যে জায়গাকে সুগন্ধি করে তোলে তা নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। সঠিক গাছ বাছাই করে এবং সঠিকভাবে যত্ন নিলে ঘরে বসেই উপভোগ করা যাবে প্রাকৃতিক সুবাস।
হোইয়া লাকুনোসা: কম যত্নে বেশি সুঘ্রাণ
এই গাছের পাতাগুলো ঘন, সবুজ। আর ফুল থেকে ছড়ায় পারফিউমের মতো মিষ্টি ঘ্রাণ। এই গাছের যত্ন খুব সহজ। তাই যারা গাছের যত্নে নতুন, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
এই গাছের যত্নে দরকার পরোক্ষ আলো। একই ভাবে মাটি শুকালে গাছে পানি দিতে হবে।
হানফেই নিইউ বলেন, “এই গাছের সুবাস ঘরের প্রতিটি কোণে পৌঁছে যায়। আর এর সবুজ পাতা ঘরের চেহারাও উজ্জ্বল করে তোলে।”
আরও পড়ুন