Published : 24 Jun 2026, 03:45 PM
চীনা প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগন আলিবাবাকে কালো তালিকাভুক্ত করায় তারা এ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
চীনা কোম্পানিটির দাবি, এ সিদ্ধান্তের কোনো আইনি ভিত্তি নেই ও এর ফলে তাদের ব্যবসায়িক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
৮ জুন পেন্টাগন ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’র তালিকাটি আরও বড় করে মোট ১৮৮টি কোম্পানিকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। এরপরই ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসে ফেডারেল আদালতে এ মামলাটি করে আলিবাবা।
চীনের সামরিক বাহিনী যেন নিজেদের প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য দেশটির বেসরকারি খাতের সুবিধা নিতে না পারে সেই উদ্বেগ থেকে মার্কিন প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।
আলিবাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ, চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে তারা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে, বিশেষ করে সামরিক ও বেসামরিক খাতের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছে।
পেন্টাগন আরও দাবি করেছে, আলিবাবা পরোক্ষভাবে চীনের ‘স্টেট-ওনড অ্যাসেটস সুপারভিশন অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশন’ বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত।
তবে এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আলিবাবা বলেছে, “এ সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই।
“আলিবাবা স্বাধীন এক পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত, যার কোনো সদস্যরই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমাদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা মূলত খুচরা ব্যবসা, পণ্য পরিবহন ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যপ্রযুক্তির জন্য তৈরি, কোনো অস্ত্র, প্রতিরক্ষা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য নয়।”
এ মামলার মাধ্যমে আলিবাবা মার্কিন সরকারের কালো তালিকা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া দেননি পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। ফলে এ নিয়ে তাদের সংস্থা কোনো মন্তব্য করবে না।
বাইদু ও বিওয়াইডি’ও এ তালিকায় রয়েছে
সাম্প্রতিক মার্কিন আইন অনুসারে, এ মাস থেকেই পেন্টাগন এই কালো তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। ২০২৭ সাল থেকে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টির মাধ্যমেও এসব কোম্পানির পণ্য বা সেবা কিনতে পারবে না মার্কিন প্রশাসন।
তবে এ তালিকায় নাম থাকা মানেই যে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া বিষয়টি এমন নয়।
এ মাসে আলিবাবা ছাড়াও আরও কিছু চীনা কোম্পানিকে এই তালিকায় যোগ করেছে পেন্টাগন। যার মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি বাইদু, গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিওয়াইডি, নিও এবং বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ‘উক্সি অ্যাপটেক’।
আলিবাবার মতোই ‘উক্সি অ্যাপটেক’ কোম্পানিটিও ১১ জুন মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা করেছে।
পেন্টাগনের এ সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা ও খামখেয়ালি’ বলে বর্ণনা করে আলিবাবা বলেছে, এ পদক্ষেপের কারণে এরইমধ্যে তাদের এমন ক্ষতি হয়েছে, যা আর পূরণ করা সম্ভব নয়।
“অনেক আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কোম্পানির জন্য চীনের বাজারে প্রবেশ করার প্রধান মাধ্যম আলিবাবা। এমন অবস্থায় আলিবাবাকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে তকমা দেওয়ার মানে আমাদেরকে চীনের সামরিক বাহিনীর হাতিয়ার ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা।
“এ সিদ্ধান্তের ফলে আলিবাবার সুনাম সরাসরি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং আমেরিকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোম্পানির বর্তমান বিভিন্ন সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”