১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাছ বাঁচাতে কখন পানি দেবেন, কখন নয়

বেশি দিলেও সমস্যা আবার কম দিলেও গাছ শুকিয়ে যাবে।

গাছ বাঁচাতে কখন পানি দেবেন, কখন নয়
ছবি: freepik

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Apr 2025, 06:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:26 PM

অনেকেই ঘরের কোণে বা বারান্দায় কিছু সবুজ গাছ রাখেন। এগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও দেয়।

তবে সব সময় ঘরের ভেতরের গাছ বাঁচিয়ে রাখা যায় না। নিয়ম করে পানি দেওয়ার পরও গাছ শুকিয়ে যায়, পাতা ঝরে পড়ে। অথচ এসব গাছ সহজে টিকে থাকার মতো বলেই ঘরে লাগানো হয়। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?

যুক্তরাজ্যের উদ্ভিদ-বিজ্ঞানী ও লেখক বেকি সিয়র্ল বলছেন, “গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শুধু পানি দিলেই হবে না, কখন পানি দিচ্ছেন সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”

রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “সঠিক সময়ে পানি না দিলে গাছ হয়ত কিছুদিন টিকে থাকবে, কিন্তু ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাবে।”

যে কারণে সময় গুরুত্বপূর্ণ

একই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গাছ বিক্রয় ও পরিচর্যার সংস্থা ‘দ্য সিল’-এর ‘প্ল্যান্ট এডুকেশন’ প্রধান প্যারিস লালিকাটা বলেন, “অধিকাংশ সময় গাছ শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ কাজ করে। একটি অতিরিক্ত পানি দেওয়া অন্যটি পর্যাপ্ত পানি না দেওয়া।”

অতিরিক্ত পানিতে গাছের গোড়ায় পচন ধরে, ছত্রাক হয় এবং পাতা হলদে হয়ে যায়। আর কম পানি পেলে পাতা শুকিয়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং গাছ নিস্তেজ দেখায়।

তবে শুধু কতটুকু পানি দেওয়া হচ্ছে তা নয়, পানি দেওয়ার সময়টাও বড় বিষয়। যেমন- গরমের দুপুরে পানি দিলে তা দ্রুত বাতাসে উড়ে যায়, গাছের গোড়ায় পৌঁছানোর আগেই। ফলে যতই পানি দেওয়া হোক, গাছ ঠিকমতো পানি শোষণ করতে পারে না।

ঘরের গাছে কখন পানি দেওয়া উচিত নয়

অনেকেই মনে করেন, যেহেতু সকালের রুটিনে উঠে সবাই কাজ করে, তাই গাছেরও একটা নিদিষ্ট রুটিন থাকা উচিত।

তবে প্যারিস লালিকাতা বলেন, “গাছের পানির চাহিদা নির্ভর করে আলোর পরিমাণ, ঘরের তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতার ওপর। তাই একেকদিন একেকভাবে গাছের পানি প্রয়োজন হতে পারে।”

তিনি উদাহরণ দেন, “যদি গাছের মাটি ভিজে থাকে, তাহলে নতুন করে পানি দেওয়া ঠিক নয়। আবার যদি পাতায় ঝিম ধরা ভাব দেখা যায়, তখনই পানি দেওয়ার সময়। গাছকে বোঝার চেষ্টা করলে, ঠিক সময়ে পানি দেওয়া সহজ হয়ে যায়।”

বেকি সিয়র্ল বলেন, “গাছের পাতায় কোনো রকম দাগ, পোকার উপদ্রব বা পচা-ভাব আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। যারা মাটির পাত্রে গাছ রাখেন, তারা একটা ইনার পট ব্যবহার করতে পারেন যাতে গাছকে বাইরের ডেকোরেটিভ পট থেকে বের করে পানি দেওয়া যায়, তারপর সেটা আবার রাখলে নিচে পানি জমে থাকবে না।”

বাইরের গাছে কখন পানি দেওয়া সবচেয়ে খারাপ সময়

বাইরের গাছ তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। কারণ সেটা প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। তবে এখানেও ভুল সময় পানি দিলে সমস্যা হয়।

বেকি সিয়র্ল বলেন, “সবচেয়ে খারাপ সময় হল রোদে তেতে ওঠা দুপুরে পানি দেওয়া। এই সময় পানি মাটিতে ঢোকার আগেই বাষ্প হয়ে যায়। সকালের দিকে পানি দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তখন গাছের শিকড় পানি টানার জন্য প্রস্তুত থাকে, আবার পরিবেশও ঠাণ্ডা থাকে, ফলে পানি বাষ্প হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।”

“সন্ধ্যার দিকেও অনেকে পানি দেন। এতে সমস্যা হয় যে, গাছ ভেজা মাটিতে পুরো রাত কাটায়। ফলে ছত্রাক জন্মাতে পারে, এমনকি গাছের শিকড়ে পচন ধরতে পারে” বলেন এই উদ্ভিদবিজ্ঞানী।

প্যারিস লালিকাতাও একমত, তিনি বলেন, “সকালে পানি দেওয়া মানে গাছকে সারাদিনের জন্য প্রস্তুত করা।”

যা করলে গাছ ভালো থাকবে

এই দুই বিশেষজ্ঞ আরও কিছু পন্থা দিয়েছেন যাতে গাছ আরও সুস্থ থাকে।

প্রথমত, সঠিক পাত্র বাছাই করা খুব জরুরি। টেরাকোটার পাত্র দ্রুত শুকিয়ে যায়, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুর জন্য উপযুক্ত।

অন্যদিকে, প্লাস্টিক বা সিরামিক পাত্র পানি ধরে রাখতে পারে বেশি সময়, যা আদ্রতাপূর্ণ পরিবেশে ভালো কাজ করে।

দ্বিতীয়ত, পানি দেওয়ার সময় এর তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের গাছে খুব ঠাণ্ডা পানি দিলে শিকড়ের ওপর ধাক্কা লাগে। তাই সবসময় কক্ষ তাপমাত্রার বা হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।

বাইরে মাটিতে লাগানো গাছগুলোর ক্ষেত্রে তাপমাত্রার প্রভাব একটু কম পড়ে, কারণ মাটি কিছুটা নিরোধক হিসেবে কাজ করে।

তৃতীয়ত, ঘরের বাতাস যদি খুব বেশি শুকনা হয়, তাহলে গাছ পানি হারায় দ্রুত। বিশেষ করে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট বা এয়ার কন্ডিশন্ড ঘরে এই সমস্যা বেশি হয়। তখন হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে ‘ফিডল-লিফ ফিগ’ বা ময়শ্চার-চাহিদাসম্পন্ন গাছের জন্য।

আবার যারা আলোর কাছাকাছি গাছ রাখতে চান, তাদের জন্য স্যাক্যুলেন্ট ধরনের গাছ ভালো; অর্থা যেসব গাছের পাতা মোটা এবং রসালো। আর যাদের জানালা থেকে দূরে রাখতে হবে, তাদের জন্য ফিলোডেনড্রন বা পাতাবাহার ধরনের গাছ আদর্শ।

আরও পড়ুন

বাড়িতে বাগান

কয়েক ধাপের বাগান

বাগানে রাখুন রোগ প্রতিরোধক গাছ

ছোট পরিসরে বাগান