Published : 24 Jun 2026, 03:42 PM
কোনো স্কুল-কলেজে নকল পাওয়া গেলে দায় সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, সেক্ষেত্রে সেখানকার প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, "নকল এখন নেই, এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু নকলের রূপ চেঞ্জ হয়েছে। করোনার মত ভেরিয়েন্ট চেঞ্জ হয়েছে। সে জন্য আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষার অ্যাক্ট পরিবর্তন করেছি। কেবিনেটে সেটা পাস হয়েছে। এবার সংসদে সেটা পাস হবে।
"ধরুন, কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেল। একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী তার বয়স ১৬ বছর, আমরা সে নকল পাওয়ায় ওই আন্ডার এইজডকে আমরা পানিশমেন্ট দিতে পারি না। কিন্তু নকলটা ওই প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেল, প্রতিষ্ঠান প্রধান রেসপন্সিবল। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বুধবার আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভায় কথা বলছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রমজান বিবেচনায় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

"যদিও এটাকে আমরা একটু পেছাতে পারতাম। কিন্তু আমরা ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। তারা বলেছে আফটার রোজা-ঈদের চেয়ে বিফোর ঈদ হয়ে যাওয়াই ভালো।"
জুন মাসেই এসএসসির কোর্স শেষ হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।"
এজন্য স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টিও নির্ধারণ করার আহ্বানও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর এসএসসি পরীক্ষার ফল ভালো হলেও হঠাৎ পাসের হার ২০২৫ সালে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ভাষ্য, "এটায় স্টেডি গ্রাফ থাকতে হবে। এটা ক্রমান্বয়ে উপরের দিকে যাবে এটা হঠাৎ নিচে যেতে পারে না। তারমানে সেখানে লেখাপড়ার কোনো দুর্বলতা ছিল, পরীক্ষা ব্যবস্থায় কোনো অবস্থা ছিল।"
এছাড়া ২০২২ সালের পর থেকে যেসব শিক্ষক অবসর ভাতা পাননি তাদের জন্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তা চালুর কথাও এই সভায় জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।