Published : 14 May 2025, 06:28 PM
ঘরের সবচেয়ে ব্যবহৃত অংশ সম্ভবত বসার ঘর। যা বিশ্রামের স্থান, কাজের জায়গা, সিরিজ দেখার ঘাঁটি, এমনকি অনেক সময় খাবার টেবিলও থাকে এই ঘরে।
অতিরিক্ত ব্যবহারে ঘরটি হয়ে পড়তে পারে নিস্তেজ, পুরানো ও আকর্ষণহীন। তাই মাঝে মাঝে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন এনে বসার ঘরে নতুনত্ব আনা দরকার।
তবে ঘর বদলাতে কিন্তু বিশাল বাজেটের দরকার পড়ে না। অল্প খরচে, বুদ্ধি খাটিয়ে আর কিছু সহজ উপায়ে ঘরে আনা যায় নতুন এক প্রাণ।
প্রথমেই চোখ দিয়ে ঘরটি বিশ্লেষণ
নতুন করে সাজানোর আগে ঘরটি ভালোভাবে দেখতে হবে। ভাবতে হবে সবচেয়ে বেশি বিরক্তির কারণ? অতিরিক্ত জিনিসপত্র? নরম হয়ে যাওয়া সোফার কুশন? রংয়ের একঘেয়েমি?
যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরসজ্জা-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যারোলাইন লিওনা’র প্রতিষ্ঠাতা লিজ গোল্ডবার্গ রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন, “ঘরে কী কী সমস্যা হচ্ছে সেটা আগে বোঝা দরকার। তাহলেই জানা যাবে পরিবর্তনের ঠিক কোন জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে।”
আসবাবের অবস্থান পাল্টান
নতুন কিছু কেনার চেয়ে বর্তমান জিনিসপত্রের অবস্থান বদল করাও একটা বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
“ঘরের মেঝের বিন্যাস পরিকল্পনার সময় আসবাব একটু এদিক-ওদিক করলেই ঘরটিকে নতুনভাবে দেখতে পারবেন,” বলেন লিজ গোল্ডবার্গ।
নতুন রংয়ে দেয়াল সাজান
রং বদল একেবারে বাজেট-বান্ধব ও কার্যকর উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক ‘গ্যালি এলিক্স ডিজাইন’-এর নকশাকর গোল্ডবার্গ ও গ্যালি এলিক্স- দুজনেই সাদা রং প্রাধান্য দিয়েছেন।
একই প্রতিবেদনে গ্যালি বলেন, “শেরউইন-উইলিয়ামস পিওর হোয়াইট রংটি সবচেয়ে সঠিক সাদা, যা আলোর পরিবর্তনে নীল বা হলুদ হয়ে ওঠে না।”
দেয়ালের পাশাপাশি পুরানো টেবিল বা শেলফেও রংটি করতে পারেন। এতে মিলবে নতুন আসবাবের অনুভূতি।
পুরানো সোফা আবারও নতুন
সোফার কুশন যদি বসে যায়, তাহলে ধুয়ে রোদে শুকাতে দিতে হবে। তাপ কুশনকে আবার ফুলিয়ে তুলবে।
ডেনমার্কের ব্র্যান্ড ‘বো-কনসেপ্ট’-এর ডিজাইন কনসালট্যান্ট লিলি লি বলেন, “কুশন ঘুরিয়ে বসানো ও মাঝে মাঝে সাফ করা, বড় পরিবর্তন আনতে। আর বেশি পুরানো হলে স্লিপকভার ব্যবহার করা যায়।”
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মার্কেট স্টুডিও ইন্টেরিয়র্স-এর ডিজাইনার ভিয়ানকা সোটো বলেন, “নিউট্রাল রংয়ের সুতি বা লিনেন স্লিপকভার (আচ্ছাদন কভার) দিয়েই সোফার পুরো চেহারা বদলে দেওয়া যায়।”
একটিমাত্র নতুন আসবাব আনা
নতুন করে পুরো সেট কেনার দরকার নেই। একটি মাত্র চেয়ার বা ছোট টেবিল আনলেই পরিবর্তন চোখে পড়বে।
গোল্ডবার্গ বলেন, “পুরো সেট একসাথে কেনা কক্ষকে একঘেয়ে করে তোলে। তাই সব সময় পরামর্শ দেনই— মেলানো নয়, মিশিয়ে ফেলুন।”
বর্তমানে ঘরের স্টাইল হল- বিভিন্ন টেক্সচার ও উপাদান মেলানো। কাপড়, মখমল, কাঠের ছোঁয়া এগুলো ঘরকে সমৃদ্ধ করবে।
পুরানো কার্পেট বা গালিচা নিয়ে ভাবা
গালিচা বা কার্পেটে সবচেয়ে আগে পুরনোভাব চলে আসে।
আলিক্স বলেন, “যদি গালিচা পুরানো হয়ে যায়, তাহলে সেটি সরিয়ে ফেলতে হবে। আবার কার্পেটের ওপর নতুন গালিচা রাখলেও নতুনত্ব আসবে।”
এভাবে খরচ না করেই একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে দেওয়া সম্ভব।
শো-পিস বা সংগ্রহ নিয়ে ভাবা
ঘরের নানান কোণে থাকা ছোট শো-পিসগুলোর একটা সজীবতা দরকার।
লিজ গোল্ডবার্গ পরামর্শ দেন, “কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়— যেমন বই, ছোট গ্লোব বা শেল-জাতীয় জিনিস গুচ্ছাকারে সাজিয়ে রাখলে আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়।
আরেকটি পরামর্শ হল- বাড়ির অন্য ঘর থেকে কিছু জিনিস এনে বসার ঘরে ব্যবহার করা।
লিলি লি বলেন, “নিজের সংগ্রহের জিনিসই নতুনভাবে সাজিয়ে নেওয়া যায়, এতে খরচের দরকার পড়ে না।”
কুশন, পর্দা বদলান
ছোট পরিবর্তন, যেমন- নতুন কুশন, পর্দা বা ‘থ্রো’ আনলে সহজেই ঘরের রূপ বদলে যায়।
সোটো বলেন, “টেক্সচারযুক্ত কুশন যেমন- স্টোনওয়াশ লিনেন বা সূক্ষ্ম নকশার ‘বুকলে কুশন’ ঘরের চেহারা অনেক উন্নত করে।”
আলোর স্তর বদলান
পুরানো ওভারহেড লাইটের বা ছাদের ওপর লাগানো লাইট বদলে যদি টেবিল ল্যাম্প বা ফ্লোর ল্যাম্প ব্যবহার করা হয়, তাহলে ঘরের পরিবেশ বদলে যাবে।
যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ‘থিয়া ব্লচ-নিল’য়ের প্রতিষ্ঠাতা থিয়া ব্লচ-নিল বলেন, “আলো ঘরের মেজাজ তৈরি করে। টেবিল ল্যাম্প শুধু আলোই দেয় না, বরং ঘরের এক টুকরা শিল্প হয়ে দাঁড়ায়।”
অপ্রয়োজনীয় জিনিস ছেঁটে ফেলা
সব সময় যোগ না করে, কখনও কখনও কমিয়ে ফেললেই আসে আধুনিকতা।
সোটো বলেন, “কোন জিনিসটি ভারী বা অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে, সেটি ছেঁটে ফেলা উচিত। এতে করে ঘর প্রশান্ত ও পরিপাটি দেখায়।”
আরও পড়ুন