Published : 28 Sep 2025, 01:32 PM
হঠাৎ কোনো চাপের মুহূর্তে অনেকেই গভীর শ্বাস নেই। এটি কেবল মানসিক ভারসাম্য রক্ষার উপায় নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা করলে ঘুমের উন্নতি, মস্তিষ্কের পুনর্গঠন, মানসিক চাপ কমানোসহ নানান দিক থেকে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কার্যকরী শ্বাস-প্রশ্বাস থেরাপিস্ট অ্যালিসা পাওয়েল রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “আমরা প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজারেরও বেশি বার শ্বাস নিই। তবে সঠিক ভঙ্গি, গতি এবং কৌশল না মানলে অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে নানান অসুস্থতার কারণ হতে পারে।”
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্নায়ুতন্ত্র শিক্ষাবিদ এবং ‘টেডএক্স’ বক্তা জেসিকা ম্যাগুয়ার একই প্রতিবেদনে বলেন, “শ্বাস-প্রশ্বাস আসলে স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করার শক্তিশালী উপায়। ধীরে ও দীর্ঘশ্বাস আমাদের দেহকে শান্ত ও বিশ্রামের অবস্থায় নিয়ে যায়। আবার সচেতনভাবে টানা শ্বাস নেওয়ার মতো কিছু কৌশল শরীরে সঞ্চিত আবেগ ও চাপমুক্তির পথও খুলে দেয়।”
শ্বাস-প্রশ্বাসের পাঁচটি প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা
মানসিক চাপ কমায়: গভীর শ্বাস নেওয়ার পরই তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাই। তবে নিয়মিত অনুশীলন করলে শরীরের ‘ভেগাল টোন’ উন্নত হয়, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে যোগাযোগকে শক্তিশালী করে। এর ফলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে।
ঘুমের মান উন্নত করে: নিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাস চর্চা অনিদ্রা বা হালকা ঘুমের সমস্যাকে কমাতে সাহায্য করে।
অ্যালিসা পাওয়েল বলেন, “সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাস গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে সহায়তা করে। এমনকি ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র মতো সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।”
মস্তিষ্কের পুনর্গঠন (নিউরোপ্লাস্টিসিটি): নিয়মিত অনুশীলনে মস্তিষ্ক নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে।
জেসিকা ম্যাগুয়ার বলেন, “শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চা মস্তিষ্কে এমন পথ তৈরি করে যা শান্তি ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, পুরানো মানসিক চাপের ধাঁচ ভাঙতে সাহায্য করে।”
মনোযোগ ও স্বচ্ছতা বাড়ায়: দৈনিক শ্বাসপ্রশ্বাস চর্চা করলে চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হয়, মনোযোগ বাড়ে। এমনকি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও অনেকটা হ্রাস পায়। যখন স্নায়ুতন্ত্র নিরাপদ বোধ করে, শরীর অপ্রয়োজনীয় টান থেকে মুক্ত হয়। ফলে কাজের দক্ষতা বাড়ে, সম্পর্কেও মনোযোগী হওয়া যায়।
শক্তি ও উদ্যম বৃদ্ধি করে: অ্যালিসা পাওয়েল বলেন, “শ্বাস-প্রশ্বাস রক্তচাপ কমাতে, কোষীয় শক্তি বাড়াতে এবং শরীরের সহনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করে।”
নিয়মিত চর্চার ফলে শরীরে উদ্যম ও প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পায়।
শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা যেভাবে শুরু করা যায়
জেসিকা ম্যাগুয়ার পরামর্শ দেন, “প্রতিদিন অন্তত কয়েক মিনিট নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস খেয়াল করুন। প্রতি মিনিটে শ্বাস নেওয়ার সংখ্যা গুনুন। যদি উদ্বেগপ্রবণ হন তবে সাধারণত মিনিটে ১৬ বারের বেশি শ্বাস নিন। এটি ধীরে ধীরে ১০ থেকে ১৪ বারে নামিয়ে আনতে চেষ্টা করুন। আর যদি অসহায় বা নিরুৎসাহ লাগে তবে শ্বাসের গতি কিছুটা বাড়াতে হবে।”
একটি কার্যকর পদ্ধতি হল: ৪–৭–৮ অনুশীলন।
এতে ৪ গণনা ধরে শ্বাস নিতে হবে, ৭ গণনা ধরে রাখতে হবে, তারপর ৮ গণনা ধরে ছেড়ে দিতে হবে। এতে স্নায়ুতন্ত্র একটি ছোট ‘রিসেট’ পায়।
অ্যালিসা পাওয়েল আরও বলেন, “অনেকেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন বা দ্রুত শ্বাস নেন, যা স্বাভাবিক নয়। বরং নাক দিয়ে ধীরে, শান্তভাবে শ্বাস নিতে হবে এবং পেট বুকের চেয়ে বেশি উঠবে।”
এজন্য সোজা হয়ে বসে একটি হাত বুকের ওপর ও আরেকটি হাত পেটের ওপর রাখুন। তারপর চোখ বন্ধ করে খেয়াল করুন শ্বাস নেওয়ার সময় শরীর কীভাবে নড়ছে।
দিনে অন্তত দুতিনবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে এই চর্চা করা ভালো।
আরও পড়ুন