Published : 29 Jun 2025, 04:02 PM
চেনা পথ ধরে হাঁটা কি একঘেয়ে মনে হয়? তবে হাঁটার অভ্যাসকে একটু ভিন্নভাবে নেওয়া যেতে পারে।
রংয়ের খোঁজে হাঁটা, যা মানসিক প্রশান্তির এক অভিনব পদ্ধতি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষত ভিডিওভিত্তিক অ্যাপে এটি এখন বেশ জনপ্রিয়।
শুধু পা চালানো নয়, চোখ চালিয়ে খুঁজে বেড়াতে হবে নির্দিষ্ট একটি রংয়ের জিনিসপত্র। এই অভ্যাস মানসিক স্বস্তি, মনোযোগ বৃদ্ধি ও দৈনন্দিন উদ্বেগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক ও বৈবাহিক পরামর্শক সাবা হারুনি লুরি এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক ও পুষ্টিবিদ গ্রেস লটম্যান রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই রংয়ের হাঁটার ইতিবাচক দিকগুলো ও কীভাবে সহজে শুরু করা যায় এই নিয়ে দিয়েছেন নানান পরামর্শ।
কী এই রংয়ের হাঁটা?
রংয়ের হাঁটা একটি মানসিক প্রশান্তি ও সচেতনতার অনুশীলন। এটি করতে হলে হাঁটার আগে একটি রং ঠিক করে নিতে হয়।
এরপর হাঁটার সময় সেই নির্দিষ্ট রংয়ের জিনিস চোখে পড়লেই খেয়াল করতে হবে। হোক তা হলুদ ফুল, নীল চেয়ার কিংবা সবুজ পাতা। এটি এমন এক অনুশীলন যা মনকে মুহূর্তে টেনে আনে এবং চারপাশে সচেতনভাবে তাকাতে শেখায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘টেক রুট থেরাপি’ নামক থেরাপি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, পারিবারিক ও বৈবাহিক পরামর্শক এবং থেরাপিস্ট, সাবা হারুনি লুরি বলেন, “রংয়ের হাঁটা এক ধরনের গ্রাউন্ডিং বা বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনার কৌশল, যা উদ্বেগ বা মানসিক চাপে থাকা অবস্থায় মনের ভার কমাতে সাহায্য করে। এটি চিন্তাভাবনা থেকে এক ধরনের মানসিক বিরতি দেয়।”
কেন এটি অন্যান্য হাঁটার চেয়ে আলাদা?
শুধু হাঁটার মাধ্যমেই শরীর ও মনের উপকার হয় এ কথা নতুন কিছু নয়। আধা ঘণ্টার মতো হালকা ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, ঘুম ভালো করতে এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
হাঁটার সময় শরীরে ভালোবোধের হরমন ‘এন্ডরফিনস’ নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমায়।
তবে লুরি বলছেন, “শুধু হাঁটা মানেই মানসিক প্রশান্তি আসবে তা নয়। যদি হাঁটার সময় মনে মনে দিনের কোনো ঝামেলা, ব্যর্থতা বা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবেন, তাহলে হাঁটাও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।”
সেখানে রংয়ের হাঁটা একটি উদ্দেশ্য তৈরি করে দেয়। রং খুঁজে বেড়ানোর কাজে মনোযোগী হয়ে ওঠাতে নেতিবাচক চিন্তা দূরে থাকে।
এটি কীভাবে কাজ করে?
এই অভ্যাস থেকে মনোযোগ কেন্দ্রিভূত করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’কে সক্রিয় হয়। যা বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করে। এক কথায়, এটি উদ্বেগের বিপরীতে কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘অনার নিউট্রিশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক গ্রেস লটম্যান বলেন, “হাঁটার সময় দিক পরিবর্তনের এই কৌশল মনকে শান্ত করে এবং একঘেয়ে চিন্তার বদলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। বিশেষ করে যারা চুপ করে বসে বা শুয়ে ধ্যান করতে পারেন না, তাদের জন্য এটি চমৎকার বিকল্প।”
শহরে বা রংহীন পরিবেশে কী করবেন?
সবাই যে সবুজ গাছপালা বা রঙিন বাড়ির আশপাশে থাকেন তা নয়। তখনও এই অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সাবা লুরি পরামর্শ দেন, “রংয়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য ইন্দ্রিয় ব্যবহার করতে। হাঁটার সময় মনোযোগ দিন আশপাশের শব্দ, গন্ধ বা বাতাসের অনুভূতির প্রতি।”
লটম্যান আরও বলেন, “চাইলে অক্ষরভিত্তিক খেলা খেলতে পারেন যেমন আজ ‘ক’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া জিনিস খুঁজবেন। অথবা প্রিয় গান গুনগুন করে গাইতে পারেন, প্রিয় বইয়ের নাম মনে করতে পারেন। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মনকে এমন কিছুতে ব্যস্ত রাখা যা নেতিবাচক চিন্তায় না যায়।”
যেভাবে শুরু করা যায়
একটি রং বাছাই করা: বাইরে যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট একটি রং ঠিক করতে হবে। তা লাল, নীল, হলুদ যাই হোক।
হাঁটার সময় রংটি খুঁজে বের করা: রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড, গাড়ি, গাছ, পোশাক সবকিছুর ভেতর সেই রং খুঁজে বের করার কাজ করতে হবে।
প্রতিদিন ভিন্ন রং বাছা: এতে অনুশীলনে বৈচিত্র্য আসবে ও মনোযোগ আরও বাড়বে।
বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে নিয়ে করা: এটি সামাজিক যোগাযোগের একটি উপায়ও হতে পারে।
হাঁটার সময় ফোন থেকে দূরে থাকা: পুরো মনোযোগ দিতে হবে চোখ ও মন দিয়ে খোঁজার অভ্যাসে।
রংয়ের হাঁটার ইতিবাচক দিক
মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। বর্তমান মুহূর্তে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে। শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও দেয়। বিষণ্নতা ও উদ্বেগ কমাতে আর সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটা