১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আগুনে দগ্ধ হলে যা করতেই হবে: প্রাথমিক চিকিৎসা ও সতর্কতা

অন্যকে সাহায্য করতে বা নিজের জন্য হলেও জানা জরুরি।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2025, 01:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

আগুনে পোড়া শুধুই শারীরিক ক্ষতির নাম নয়! এটি হতে পারে মানসিক আতঙ্ক, দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণা এবং জীবনঘাতী জটিলতার সূচনা।

অনেক সময় ছোট একটি ভুল কিংবা অবহেলা বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। তাই আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর প্রথম মুহূর্তে কী করবেন আর কী করবেন না—তা জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

হেল্থ এইড হাসপাতালের ডা. আফিফ বাসার এই বিষয়ে বলেন, “সঠিক প্রাথমিক চিকিসা যেমন একজন রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে, তেমনি ভুল পদক্ষেপে বিপদ আরও বাড়তেও পারে।”

অগ্নিদগ্ধ রোগীর প্রাথমিক চিকিসা ও সতর্কতা

“আগুনে পুড়ে গেলে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রভাব ফেলতে পারে”- বলেন এই চিকিসক।

এছাড়া সঠিক প্রাথমিক চিকিসা রোগীর ব্যথা কমাতে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে।

তাপের উস থেকে সরিয়ে নেওয়া: প্রথমেই রোগীকে আগুনের উস বা উত্তপ্ত বস্তু থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে।

আগুন নেভান: যদি রোগীর পোশাকে আগুন লেগে থাকে, তবে তাকে মাটিতে শুইয়ে কম্বল বা মোটা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলতে হবে। রোগী দৌড়াদৌড়ি করলে আগুন আরও ছড়িয়ে যেতে পারে।

ঠাণ্ডা পানি ঢালুন: পোড়া স্থানে দ্রুত প্রচুর পরিমাণে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ঢালতে হবে। ট্যাপের নিচে কমপক্ষে ২০ মিনিট আক্রান্ত স্থান ধরে রাখতে হবে। পুরো শরীর পুরে গেলে বালতি ও মগ ব্যবহার করেও পানি ঢালা যেতে পারে। এতে পোড়া অংশের তাপমাত্রা কমে, ব্যথা কমে এবং ক্ষতির পরিমাণ কম হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, গুরুতর বা তৃতীয় মাত্রার পোড়ার ক্ষেত্রে সরাসরি ঠাণ্ডা পানি বা বরফ ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমে (হাইপোথার্মিয়া) যেতে পারে এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগী শকে যেতে পারে।

পোশাক ও গয়না সরান: পুড়ে যাওয়া স্থান থেকে দ্রুত কাপড় ও গয়না খুলে ফেলা জরুরি। তবে কাপড় চামড়ার সাথে লেগে থাকলে টেনে খোলার চেষ্টা কোনোভাবেই করা যাবে না। এতে চামড়া উঠে গিয়ে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

আক্রান্ত স্থান ঢাকা: পোড়া স্থানটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত গজ অথবা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে দিন। এতে সংক্রমণ রোধ করা যায়। ক্ষত স্থান খোলা রাখলে ধুলোবালি লেগে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।

ফোসকা ফাটাবেন না: যদি ফোসকা পড়ে, তবে তা ফাটানোর চেষ্টা করবেন না। ফোসকা ফাটলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ওপরে তুলে রাখুন: যদি সম্ভব হয়, পোড়া অংশটিকে হৃদপিণ্ডের উচ্চতার ওপরে তুলে রাখতে হবে। এটি ফোলা কমাতে সাহায্য করে।

হাসপাতালে স্থানান্তর: প্রথমিক চিকিসা দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ‘বার্ন ইউনিট’য়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে যদি পোড়া গভীর হয়, শরীরের বড় অংশ পুড়ে যায়, মুখ বা শ্বাসনালি আগুনে পুড়ে যায়, অথবা বৈদ্যুতিক শক থেকে পুড়ে যায়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

যা কোনোভাবেই করা যাবে না

অনেকেই না বুঝে পোড়া স্থানে তেল, মাখন, টুথপেস্ট, রং বা ঘরোয়া মলম ব্যবহার করেন। পোড়া স্থানে এ ধরনের কোনো কিছু ব্যবহার করা যাবে না। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। আর চিকিসায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া রোগীকে মুখে কোনো খাবার বা পানীয় দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে যদি রোগী অজ্ঞান থাকে।

আরও পড়ুন

সাধারণ পোড়ার ঘরোয়া সমাধান

দ্রুত রোদপোড়া-ভাব কমাতে প্রাকৃতিক উপাদান

পোড়া ক্ষত সারাতে মাছের চামড়া