Published : 24 Jun 2026, 12:25 AM
ফেইসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার এক যুবকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল লোক। এ সময় একটি মন্দির ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামে এ ঘটনায় ওই যুবককে হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছেন তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
আটক সুদীপ্ত রায় (২১) ওই গ্রামের বাসিন্দা নিখিল রায়ের ছেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই যুবকের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সুদীপ্ত রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেইসবুকে তার আইডি থেকে একজনের স্ট্যাটাসে ফটোকার্ড দিয়ে একটি কমেন্ট করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
এদিন বিকালে বাদাঘাট বাজারে সুদীপ্তকে পেয়ে কয়েকজন তাকে ধাওয়া দিয়ে আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে একটি দোকানে নিয়ে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে ওই দোকানের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল লোক। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন।

এক পর্যায়ে পুলিশ ও বাজার কমিটির লোকজন এসে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে সুদীপ্তকে পুলিশ হেফাজতে দেন। কিছুক্ষণ পরে একদল লোক বাদাঘাট বাজারের মেইন রোড ধরে মিছিল নিয়ে সুদীপ্তের বাড়ির দিকে ছুটে যান। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সুদীপ্তের বাড়ি, দোকান ও একটি মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। তবে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন।
এরপর থেকে পুলিশ সুদীপ্ত রায়ের বাড়ি, গ্রাম ও মন্দিরে পাহাড়া বসিয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় বাদাঘাট বাজারে জমিয়ত নেতা রাফিকুল ইসলামের আহ্বানে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক মাহবুব মল্লিক বলেন, “এলাকার সুধীজনদের নিয়ে আন্দোলনকারীদের নিবৃত করেছি। কেউ যাতে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা না করতে পারে আমরা সজাগ আছি। যে অপরাধ করেছে তার বিচার হোক।
“কিন্তু কোনও নিরপরাধ মানুষের ওপর যাতে কেউ আঘাত করতে না পারে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে আছে। এলাকার কেউ উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সুদীপ্ত রায়ের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সুদীপ্ত দোষ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”