০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যেসব জিনিস কখনই কাপড় শুকানোর যন্ত্রে দেওয়া যাবে না

সিনথেটিক কাপড়, রবারযুক্ত জুতা বা অলঙ্কার লাগানো পোশাক ড্রায়ারে দিলে নষ্ট হবেই।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2025, 01:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

যদিও আমাদের দেশে আবহাওয়ার কারণে কাপড় শুকানোর যন্ত্র বা ‘ড্রায়ার’ ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে অনেক ওয়াশিং মেশিনের সাথে ড্রায়ার সংযুক্ত থাকে।

শুকানোর কাজে ব্যবহার হলেও কিছু কিছু কাপড় বা জিনিস ড্রায়ারে দিলে তা শুধু ওই কাপড় বা জিনিস-ই নয় বরং ড্রায়ারও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

সুইডেনভিত্তিক গৃহস্থালি যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসকেও’ -এর পণ্য বিশেষজ্ঞ ও বাজারজাতকরণ বিভাগের সহ-সভাপতি ব্রায়ান জোন্স রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন কিছু জিনিসের কথা জানান, যা কখনই ড্রায়ারে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, “কিছু কিছু বস্তু আছে, যেগুলো ড্রায়ারে দিলে সেগুলোর স্থায়িত্ব কমে যায়। আর অনেক সময় ড্রায়ারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

রাবারযুক্ত কোনো জিনিস

যেসব জিনিসে রাবার রয়েছে, যেমন- রাবার সোল যুক্ত জুতা, বাথরুমের ম্যাট বা ‘রাবার ব্যাকিং’যুক্ত কার্পেট। এগুলো ড্রায়ারে দিলে ভীষণ ক্ষতি হয়।

ব্রায়ান জোন্স বলেন, “উচ্চ তাপমাত্রায় রাবার গলে যায়। আকার বিকৃত হয়। আর কখনও কখনও ড্রায়ারের ভেতর আটকে গিয়ে যন্ত্রে স্থায়ী ক্ষতি করে।”

ফলে এসব বস্তু বাতাসে শুকানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

ইলাস্টিক মিশ্রণে তৈরি পোশাক

জিম অর্থাৎ ব্যায়ামের পোশাক, অন্তর্বাস, সাঁতার কাটার পোশাক সাধারণত স্প্যানডেক্স বা ইলাস্টিক মিশ্রণে তৈরি। এই উপাদান গরম সহ্য করতে পারে না।

জোন্স বলেন, “স্প্যানডেক্স ড্রায়ারে দিলে তার স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে, ফলে পোশাক ঢিলে হয়ে যায় এবং তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।”

তাই এসব পোশাক ছায়ায় বা হালকা বাতাসে শুকানই শ্রেয়।

অতিসংবেদনশীল বা নরম কাপড়

সিল্ক, চামড়া বা উল ধর্মী কাপড় এবং যেসব পোশাকে দানাদার অলংকরণ বা কাঁটা, পুঁতি থাকে তা কখনই ড্রায়ারে দেওয়া উচিত নয়।

উচ্চতাপে এই ধরনের নরম বা সজ্জিত কাপড় স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিল্ক চটচটে হয়ে যেতে পারে, উল সঙ্কুচিত হয়ে যেতে পারে এবং অলংকরণ খুলে পড়তে পারে।

বালিযুক্ত কাপড়

সৈকতে ঘোরার পর বা পিকনিকে গিয়ে বালু লাগা পোশাক বা তোয়ালে ড্রায়ারে দেওয়া একটি মারাত্মক ভুল।

জোন্স বলেন, “বালিযুক্ত কাপড় ড্রায়ারে দিলে বালুর কণাগুলো ড্রায়ারের যন্ত্রাংশে গিয়ে ঘর্ষণ তৈরি করে, ফলে যন্ত্রের ক্ষতি হয়।”

তাই এই ধরনের কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করে, রোদে শুকানো সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

পোষা প্রাণীর লোমে ভর্তি জিনিস

পোষা প্রাণীর কম্বল, বিছানার চাদর বা এমন কোনো কাপড় যাতে অতিরিক্ত লোম লেগে আছে তা ড্রায়ারে দিলে বিপদ হতে পারে।

জোন্স বলেন, “এই ধরনের কাপড় ড্রায়ারে দিলে অতিরিক্ত লোম জমে ‘লিন্ট ট্র্যাপে’ আটকে যায়, যা আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ায়।”

লোমযুক্ত কাপড় বাতাসে শুকানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

তেল বা গ্যাসে দাগযুক্ত কাপড়

রান্নাঘরের তোয়ালে বা গ্যারেজে ব্যবহৃত কাপড়, যেগুলোয় তেল বা গ্যাস লেগে আছে, ড্রায়ারে দিলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে।

এই ধরনের কাপড় সূর্যের আলোয় ভালোভাবে শুকানো এবং ড্রায়ারে দেওয়ার আগে দাগ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি।

জোন্স আরও বলেন, “এই ঝুঁকি কমাতে ড্রায়ারের ‘লিন্ট ট্র্যাপ’ প্রতিবার ব্যবহার শেষে পরিষ্কার করতে হবে এবং বছরে কয়েকবার গভীরভাবে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।”

ক্যানভাসের স্নিকার্স

অনেকেই ক্যানভাস স্নিকার্স ধুয়ে ড্রায়ারে দিয়ে দেন যাতে দ্রুত শুকিয়ে যায়। কিন্তু এটি একটি বড় ভুল।

জোন্স বলেন, “ড্রায়ারের গরমে জুতার ভেতরের আঠা গলে যায় এবং জুতার আয়ু অনেক কমে যায়।”

বরং এটি বাতাসে শুকিয়ে নিলে জুতা ভালো থাকে দীর্ঘদিন।

অতিরিক্ত টিপস: যে জিনিস ড্রায়ারে দেওয়া যায়

জোন্স বলেন, “বাটন-ডাউন শার্ট অনেকেই ড্রায়ারে দেন না ভাঁজ পড়ার ভয়ে। তবে যদি পারমানেন্ট প্রেস সেটিং ব্যবহার করা হয় এবং সময়মতো শার্টটি বের করে নেওয়া হয়, তবে তা নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন।”

আরও পড়ুন

কাপড় ছাড়াও যা ধোয়া যায় ওয়াশিং মেশিনে

যেভাবে ওয়াশিং মেশিনে জুতা ধোয়া যায়

প্রতিদিনের কাপড় পরিষ্কার ও যত্নের বিশেষ কৌশল

অন্তর্বাস ধোয়ার পদ্ধতি