এসি ছাড়াও শীতল থাকতে

বিদ্যুৎ না থাকলে প্রাকৃতিক বাতাসকেই কাজে লাগাতে পারেন।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 July 2022, 10:25 AM
Updated : 23 July 2022, 10:25 AM

বিদ্যুৎ না থাকলে কিংবা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার উদ্দেশ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রটিকে বন্ধ রেখেও এই প্রচন্ড গরমে শীতল থাকার উপায় আছে অনেক। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউস অফ হেলথ’ বলছে, “শরীর লম্বাসময় প্রচন্ড গরম থাকা ক্ষতিকর। কারণ তাতে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। শরীরকে ঠান্ডা করার জৈবিক উপায় হলো ঘাম। তবে সেটাও যখন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট হয় না তখনই বাড়তে থাকে ‘হাইপোথারপিয়া’ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা।”

‘ওয়েল অ্যান্ড গুড’ ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদনে জানা যায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিছু উপায় সম্পর্কে।

শরীরের আদ্রতা

ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিয়া’য়ের ‘এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োলজিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের বিভাগের প্রভাষক ওয়েনডেল পোর্টার বলেন, “প্রচন্ড গরমে আপনি যখন অতিষ্ঠ তখন প্রথম কাজ হবে শরীরের পর্যাপ্ত আদ্রতা বজায় রাখা। পানি পান করাই সবচাইকে মোক্ষম উপায় এই কাজে। পান করার পানির তাপমাত্রা আসলে বড় কোনো প্রভাব ফেলে না কারণ শরীর সেই পানি গরম করে ফেলবে। শরীর নিজেকে শীতল করতে তৈরি করবে ঘাম আর ঘামের উৎপাদনেই জন্য দরকার আদ্রতা অর্থাৎ পানি।”

গোসল

পোর্টার বলেন, “ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল গরম কমানোর কার্যকরী একটা উপায়। আরাম আরেকটু বাড়াতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন ‘পিপারমেন্ট’ যুক্ত সাবান। এতে থাকা ‘মেনথল’ মস্তিষ্কের ‘রিসেপ্টর’কে সক্রিয় করবে। সেই ‘রিসেপ্টর’ মস্তিষ্কে শীতল অনুভূতি দেবে।”

ভেজার কাপড় দিয়ে গা মোছা

ঠান্ডা কিংবা কক্ষ তাপমাত্রার পানিতে ভেজা কাপড় হাতের কবজি কিংবা ঘাড়ে জড়িয়ে রাখতে পারেন শীতল অনুভূতি পাওয়ার জন্য। শরীরের এই অংশগুলোতে রক্তনালী ত্বকের সবচাইতে কাছাকাছি থাকে। ফলে দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমে আসে।

বক্স ফ্যান

পোর্টার বলেন, “ঘরে যদি গরম বেশি হয় আর বাইরে ঠান্ডা বাতাস থাকে তবে এই বক্স ফ্যানগুলো খোলা জানালার সামনে এমনভাবে বসাতে হবে যাতে তা বাইরের বাতাস ভেতরে টেনে আনে আর ভেতরের বাতাস বাইরে টেনে নিয়ে যায়। আবার ভোরে ও সন্ধ্যায় বাড়ির দুই পাশের দরজা জানালা খুলে দিলে বাড়ির ভেতর বাতাস চলাচল বাড়বে, ফলে তাপমাত্রা কমবে।”

পর্দা

যেদিক দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো ঘরের ভেতর প্রবেশ করে সেদিকে দরজা, জানালার পর্দা টেনে দিতে হবে। এতে সরাসরি রোদ এসে ঘর গরম করতে পারবেনা। ঘরে ভারি পর্দাও ব্যবহার করতে পারেন যাতে তাপমাত্রা সহজে বাড়তে না পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসেস অ্যালাইভ’য়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামান্থা হল বলেন, “ঘর দ্রুত ঠান্ডা করা জন্য ১৫, ১৮ তে এসি চালানো মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ঘরের তাপমাত্রা অতোটা ঠান্ডা করতে এসি’টিকে লম্বা সময় চলতে হবে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ হবে প্রচুর। আবার একবার ওই তাপমাত্রায় নেমে আসলে তখন আপনার ঠান্ডা লাগবে। এই অবস্থায় ঘরের তাপমাত্রা সহনীয়, আরামদায়ক অবস্থায় আনা ঝক্কির কাজ এবং বিদ্যুতের অপচয়। তাই যতোটা সম্ভব বেশি তাপমাত্রায় এসি চালানো ভালো।”

পাতলা পোশাক

সুতি কাপড়ে সবচাইতে বেশি বাতাস চলাচল করতে পারে। তাই পাতলা সুতি পোশাক ঘরে পরা জন্য খুব আরামদায়ক হবে। পাশাপাশি বিছানার চাদর, বালিশে কভার হিসেবেও সুতি কাপড় ব্যবহার করলে আরাম পাবেন। সুতি কাপড়ের ‘থ্রেড কাউন্ট’ যত কম, গরমের জন্য তা ততই বেশি আরামদায়ক হবে।

মাটির কাছাকাছি ঘুমানো

মাটি থেকে যত উপরে যাবেন ততই গরম বেশি হবে। তাই যদি সুযোগ থাকে তবে ভবনের উপরের তলা থেকে নেমে এসে নিচের তলাগুলো আরামে ঘুমাতে পারবেন। যদি সম্ভব হয় তো ‘বেইজমেন্ট’য়েও ক্ষণস্থায়ি ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।

জরুরি ঘরোয়া পরিবর্তন

বাড়ির অব্যবহৃত ঘরগুলোর দরজা বন্ধ রাখতে হবে। এতে যতটুকু ঠান্ডা বাতাস ঘরে আসে তার পুরোটাই ব্যবহার করতে পারবেন। শূন্য ঘরের পেছনে ঠান্ডা বাতাস অপচয় হবে না। শৌচাগার ও রান্নাঘরের ‘এগজস্ট ফ্যান’ ব্যবহার করতে হবে। এতে সেখানকার গরম বাতাস ঘরের বাইরে বের করে দেওয়া যাবে। ঘরে ‘এলইডি’ বাতি ব্যবহার করতে হবে। এই বাতিগুলো গরম হয় কম, আবার বিদ্যুৎ সাশ্রয়িও বটে।

রান্নার কাজটা সকালে সেরে ফেলতে পারলে ভালো। কারণ সেসময় বাইরের তাপমাত্রা কম থাকবে। ফলে চুলার আগুনের গরম প্রশমিত করে ফেলা যাবে। চুলায় কম আগুনে রান্না করার চেষ্টা করতে হবে। এতে তাপ কম হবে, জ্বালানিও সাশ্রয় হবে।

ঠান্ডা খাবার ও পানীয় খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম ইত্যাদি সাময়িক প্রশান্তি দেবে ঠিক কিন্তু তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক