Published : 06 May 2026, 02:54 PM
গুজব ছিল কলকাতার অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকেটে লড়বেন বিধানসভা নির্বাচনে, কিন্তু তা হয়নি। তবে ভোটের কদিন আগে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারে নেমেছেন তিনি। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুল ব্যাবধানে ধরাশায়ী করে বিজেপির জয়ের পর অভিনেতা বলেছেন, যদি রাজ্যের উন্নয়ন হয়, সিনেমা শিল্পের উন্নতি হয় এবং টালিগঞ্জে ফেডারেশনের ‘খবরদারি বন্ধ হয়’ তাহলে ব্যক্তিগতভাবে তিনি খুশি হবেন।
কলকাতার বাংলাদৈনিক আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকে পরমব্রত তার এই মতামত তুলে ধরেন।
পরমব্রত বলেছেন তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন কী না তা নিয়ে নির্বাচনের আগে থেকে বিস্তর জল্পনা হয়েছে।
পরমব্রতের কথায়, ‘‘আমার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ও আছে। সেই কারণেই উনি জানতেন, আমি এসআইআর-এর বিরোধী। তাই শেষের দিকে কয়েকটা নির্বাচনি প্রচারে যোগ দিয়েছিলাম।’’
এর পাশাপাশি পরমব্রত বলেন, “আমি বিজেপির দর্শনের বিরোধী হলেও বিজেপির কিছু জিনিসের বিরোধী নই। সেটা হল, তাদের পার্টির মজ্জায় রয়েছে ব্যবসা, উন্নয়ন ও শিল্প। সেই উন্নয়ন যদি পশ্চিমবঙ্গে হয়, তা হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হব। সে ক্ষেত্রে দল-রং কিছুই দেখব না।
“নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হাজারও রাজনৈতিক কাঁটাছেড়া হতে পারে, কিন্তু ভোটের এই ফলে যদি সিনেমা শিল্প এবং ফেডারেশন রাজনৈতিক খবরদারি মুক্ত হয় তাহলে সেটা স্বস্তিদায়ক হবে সবার জন্যে। এটা হওয়ার দরকার ছিল।’’
এবারের নির্বাচনের মাঠ যে সহজ হবে না তা জানাই ছিল পরমব্রতর। কিছু বিধায়কের অন্যায় কাজ মমতার ভালো কাজকে ম্লান করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘একটা সরকার যখন ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী একটা হাওয়া তৈরি হয়। এই সরকারের যেমন বেশ কিছু ভালো কাজ, ভালো প্রকল্প ছিল, ঠিক তেমনই তাদের এক শ্রেণীর কর্মীদের ঔদ্ধত্য, কিছু বিধায়কের জুলুমবাজি, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে চুরি-দুর্নীতি—এগুলো তো অস্বীকার করা যায় না। কিছু বিধায়কের জুলুমবাজি মানুষের কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়র ভাল কাজকে গৌণ করে দিয়েছে।এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্যও নই, কর্মীও নই।’’
তৃণমূল সরকারের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন তাদের হয়ে প্রচারে নামলেন প্রশ্নে পরমব্রত বলেন, ‘‘আমি আর্দশগত ভাবে বিজেপির উল্টোদিকের মানুষ। আমি এসআইআর প্রক্রিয়াটি যেভাবে হয়েছে, সেটি সমালোচনা করার মতো বলেই প্রথম থেকে মনে হয়েছে। এবং প্রক্রিয়াটা বেশ গোলমেলে। আমার মনে হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে কথা বলা দরকার। প্রথমে বেশ কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল হয়। পরে যে ভাবে ৩৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ল সেটা আমার কাছে অসাংবিধানিক মনে হয়েছে।
“আর একটা গণতন্ত্রে একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার আছে। সেই সময় এই অন্যায়গুলোক প্রতিবাদ করার রাস্তা হিসেবে তৃণমূলকেই দেখতে পেয়েছি। কারণ বামেরা কোথাও নেই, কংগ্রেসের তো অস্তিত্বই নেই।’’
পরমব্রত শিল্প ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে নতুন সরকার নিয়ে যেমন আশাবাদী, তেমনই চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও প্রত্যাশা রাখছেন।
পাশাপাশি টালিগঞ্জের ক্ষেত্রে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
পরমব্রত বলেন, “তৃণমূল আসলে চলচ্চিত্র শিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিল, যারা কোনোভাবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বছরের পর বছর এক ধরনের ক্ষমতা পুঞ্জীভূত করেছিলেন, যার বিরুদ্ধে গত বছর একটা লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। প্রথম থেকেই এই লড়াইয়ে প্রথম সারিতে ছিলাম আমি। কিন্তু আমার উপরে আমার কোম্পানির অনেক দায়িত্ব থাকে।
“যখন আমার এবং আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখন একটা সময়ের পরে অব্যাহতি চাইতেই হয় আমাকে। সেই লড়াইকে রাজনৈতিক রং লাগানো হয়। এবং এ ক্ষেত্রে কেউই আমাদের উপকারে আসতে পারেননি।’’