Published : 06 Jun 2026, 06:50 PM
শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে বাপ্পারাজের পরিবর্তে লড়বেন ‘ফাইট ডিরেক্টর’ আরমান।
তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া রুমানা ইসলাম মুক্তির প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গেল মাসে খবর ছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে একটি প্যানেল থেকে সভাপতি পদে বাপ্পারাজ ও সাধারণ সম্পাদক পদে মুক্তি প্রার্থী হচ্ছেন। তবে হঠাৎ করে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান বাপ্পারাজ।
শনিবার বিকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতি সংলগ্ন বাগানে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আরমান ও মুক্তি।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তি বলেন, "সত্যি কথা বলি, আমি কখনো কারো সামনে সহজে কান্না করি না। যখন বাপ্পা ভাই বললেন নির্বাচন করবেন না, সেই মুহূর্তে বাসায় গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম।"
সিনিয়র একজন শিল্পীর পরামর্শেই আরমানকে নিয়ে প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নেন জানিয়ে মুক্তি বলেন, "একটি মিটিংয়ে এক সিনিয়র হঠাৎ আমাকে বললেন, ‘আরমান সভাপতি হবে না কেন? সব বাদ দাও, আরমান নির্বাচন করবে।’
“তখন আমার মনে হলো, কথাটা তো ঠিকই। আরমান মামা তো বিপুল ভোটে সবসময় জয়ী হন। মামা তো এফডিসির একটা হিরো। তাহলে মামা কেন না?"
আরমান বলেন, "তিন দিন ধরে সিনিয়র শিল্পী, টেকনিশিয়ান, সহকর্মী সবাই মিলে ধরেছেন। আমি বলছিলাম, না, আমি এখানে দাঁড়াব না। তারপর সবাই ধরে বলল, আপনি ছাড়া আর কোনো পথ নাই।"
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সিনেমায় যুক্ত থাকা আরমান বলেন, "আমি ফিল্মে ছোট থেকেই। আমি ফাইটার হইছি, ফাইটার থেকে স্টান্টম্যান হইছি, স্টান্টম্যান থেকে ফাইট ডিরেক্টর হইছি, তারপরে প্রডিউসার হইছি, ডিরেক্টর হইছি, আর্টিস্ট হইছি। তিলে তিলে এটা হইছে। এই ফিল্মের জন্য, ইন্ডাস্ট্রির জন্য আমার অনেক মায়া।"
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বহুবার জয়ী হয়েছেন আরমান। কিন্তু সভাপতি পদে এবার প্রথম লড়ছেন তিনি।
এত কম সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "চ্যালেঞ্জ আমি মনে করব না। জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে।"
নির্বাচনে এই প্যানেল নিয়ে মুক্তি বলেন," মায়ের স্বপ্ন, শিল্পীদের অনুরোধ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা মিলেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা নির্বাচিত হলে শিল্পীদের যেসব সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
“শুধু কথায় নয়, আমরা কাজে বিশ্বাসী। গত দেড় বছরে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে থেকেও অনেক কাজ করেছি। আমরা আগামী দিনেও কাজে প্রমাণ দিতে চাই।"
গত ২৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৪-২৬ মেয়াদ।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।