Published : 13 Apr 2026, 12:22 PM
একজন তৈরি করতেন সুরের লহর, অন্যজন তা কণ্ঠে তুলে ছড়িয়ে দিতেন ঈন্দ্রজাল। রাহুল দেববর্মণ এবং আশা ভোঁসলে, ভারতীয় সংগীতের এক আশ্বর্য জুটি!
ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন তারা, পরের দুই দশকে হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের অন্যতম সেরা জুটি। সংগীতের প্রতি টান তাদের জীবনকেও বেঁধে দেয় এক সুতোয়।
পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আশার ভিন্ন মেজাজের কণ্ঠের কাজ শ্রোতাদের আকৃষ্ট করলেও, রাহুল দেববর্মণের সঙ্গে জ্যাজ রিফ এবং ল্যাটিন বিটের সংমিশ্রণে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন আশা। তাদের দীর্ঘ সৃষ্টিশীল অংশীদারত্ব আশা ভোঁসলের শিল্পীসত্তাকে আরও বিস্তৃত করে।
এনডিটিভি লিখেছে, আশা ও রাহুলের যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। ‘রিদমের রাজা’ হিসেবে পরিচিত ওপি নায়ার আশাকে পরিচিতি এনে দিলেও বৈপ্লবিক আরডি বর্মণ আশার গায়কশৈলীকে বদলে দিয়েছিলেন।

১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া 'তিসরি মঞ্জিল' সিনেমায় রাহুলের সংগীত পরিচালসায় ‘আজা আজা ম্যায় হুঁ পেয়ার তেরা’র মত চার্টবাস্টার গান উপহার দেন আশা, যা ছিল সেই সময়ের বিচারে এক দুঃসাহসী পশ্চিমা নিরীক্ষা।
বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সখ্য গড়ে ওঠে রাহুল ও আশার মধ্যে। বিভিন্ন ধারা ও ঘরানার সংগীতে আশার অনায়াসে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতার প্রশংসা করতেন রাহুল। অন্যদিকে আশাও তার সুর রচনার নির্ভীক পদ্ধতির কদর করতেন।
আশার কণ্ঠে ছিল ক্ষিপ্রতা। আশা-রাহুলের তৈরি ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’ গানগুলো হিন্দি চলচ্চিত্রের গানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে।
স্টুডিওর বাইরে দুজনেই জীবনের কঠিন যাত্রার সম্মুখীন হয়েছিলেন। আশা ভোঁসলেকে তার প্রথম দাম্পত্য জীবনে দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিন সন্তানকে নিয়ে আশা এক লড়াই করছিলেন।
প্রথম বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা আশাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। অন্যদিকে রিতা প্যাটেলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রাহুল ছিলেন নিঃসঙ্গ।

তাই যখন তারা একে অপরকে খুঁজে পেলেন, সেই সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছুতে গড়াল। ১৯৮০ সালে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ে হল তাদের।
তাদের একসঙ্গে পথচলাও মসৃণ ছিল না। আশির দশকে স্বাস্থ্যগত সমস্যার পাশাপাশি রাহুলের কর্মজীবনে অবনতি ঘটে। এই পুরো সময়টায় আশা দৃঢ়ভাবে তার পাশে ছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন সম্পর্ক টিকবে না। তবে কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থেকে তারা গড়ে তুলেছিলেন অটুট বন্ধন।
১৪ বছরের দাম্পত্যের পর, ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে ৫৫ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান রাহুল। বছরখানেক আগে রাহুলকে উৎসর্গ করে 'সাইয়াঁ বিনা' নামে একটি একক গান প্রকাশ করেন আশা।
পুরনো খবর
কণ্ঠের যে জাদু আশা ভোঁসলেকে করে তোলে প্লেব্যাক সুপারস্টার
আশা ছিলেন বলিউডের মানুষের 'স্বজন'
আশাজির সঙ্গে আমার ছিল অন্তরের সম্পর্ক: রুনা লায়লা
কত সম্পদ রেখে গেছেন আশা ভোঁসলে?
যন্ত্রণাময় দাম্পত্য থেকে আত্মহননের চেষ্টা, আশার জীবনের এক অধ্যায়