Published : 02 Jul 2026, 09:48 AM
অসাধারণ এক ক্লাব মৌসুমের পর বিশ্বকাপও রাঙাচ্ছেন হ্যারি কেইন। তার সেই পারফরম্যান্সের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে সতীর্থদের। তেমনই মুগ্ধ একজন অ্যান্থনি গর্ডন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কেইনের দুই গোলের পর লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে আনলেন ইংলিশ এই উইঙ্গার।
কেইনের জোড়া গোলেই ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হারের শঙ্কা উড়িয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে প্রথমবার পিছিয়ে পড়েও মাঠ ছাড়ে তারা জয় নিয়ে।
জয়ের মূল নায়ক তো কেইনই, তবে পার্শ্বনায়ক এই গর্ডন। তিনি ও বুকায়ো সাকা মাঠে নামার পরই খেলার চিত্র বদলে যায়। বিশেষ করে গর্ডন একের পর এক গোলের জোগান দেন বাম পাশ থেকে। কেইনের দুটি গোলই এসেছে তার সহায়তায়।
তবে তিনি নিজের অভিভূত কেইনের পারফরম্যান্সে। মৌসুমজুড়ে অধিনায়কের পারফরম্যান্সে তার মনে পড়ে যাচ্ছে লিওনেল মেসির কথা, যাকে তিনি মনে করেন সর্বকালের সেরা।
“প্রতিদিন তার আশেপাশে থাকাটা অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা, কারণ শীর্ষ পর্যায়ের কারও সংস্পর্শে এলে বোঝা যায়, তিনি ফুটবলের কতটা চূড়ায় রয়েছেন। এমন একটি মৌসুম তিনি কাটাচ্ছেন, যা কেবল সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিও মেসিই ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন। সুতরাং, এটিই প্রমাণ করে যে, তিনি কোন পর্যায়ে খেলছেন।”
ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা গোলস্কোরারকে কাছ থেকে দেখে নিজেও সমৃদ্ধ হচ্ছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।

“তার মতো কারও আশেপাশে থাকলে অবশ্যই যতটা সম্ভব তার অভ্যাসগুলো গ্রহণ করতে চাইবেন এবং তিনি কেন এই পর্যায়ে আছেন, তা বোঝার জন্য তার প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন।
স্রেফ ঘটনাক্রমে এরকম হয়ে যাননি তিনি। এর পেছনে রয়েছে প্রতিদিনের ধারাবাহিকতা; তিনি কতটা কঠোর পরিশ্রম করেন, প্রতিটি ফিনিশিং ড্রিল, তিনি এসব করেন আবেগ ও নিষ্ঠায়। এসবে কখনোই কোনো ভুল করেন না। তার আশেপাশে থাকাটা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।”
পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড যখন কোনোভাবেই ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছিল না, ৬০তম মিনিটে সাকা ও গর্ডনকে একসঙ্গে নামান কোচ টুখেল। ৭৫ মিনিটের আগ পর্যন্ত পিছিয়েই ছিল দল। তবে গর্ডনের দাবি, তখনও জয়ের বিশ্বাস তার ছিল।
“আমি কখনোই ভাবিনি যে ওরা আমাদের হারাতে পারবে। জানতাম আমরাই জিতব, কারণ আমি মাঠের সবার ওপর ভরসা করি। জানি, অনুশীলনে কীভাবে কাজ করতে হয়। ৯০ মিনিট ধরে আমাদের মোকাবেলা করা যে কারও জন্যই কঠিন হবে, কারণ আমরা অনেক পরিশ্রম করি এবং নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিই।”
ইংল্যান্ডের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। ৭৫তম মিনিটে সেই দেয়ালে ফাটল ধরায় কেইনের হেড। ৮৬তম মিনিটে তার জয়সূচক গোলটি তো আসরের সেরা গোলগুলির একটি।
কেইনকে শট নেওয়া মাত্র গর্ডন বুঝে গিয়েছিলেন, জায়গামতোই যাচ্ছে বল।
“শটটা নেওয়া মাত্রই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে, এটা জালে ঢুকবে। ততক্ষণে উদযাপন শুরু করে দিয়েছিলাম। দেখুন, যে কেউই একটা ভালো গোল করতে পারে। এই স্তরের যে কেউই টপ কর্নারে বলটা রাখতে পারে। কিন্তু তার (কেইন) যে ধারাবাহিকতা, সেটাই আসল। অনুশীলনে প্রতিদিন, প্রতিটি ম্যাচেই তিনি অসাধারণ। তার স্তর অনেক উঁচুতে।”
এভারটনে ৬ বছর ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডে ৩ বছর কাটিয়ে সম্প্রতি বার্সেলোনায় নাম লেখানো গর্ডন নিজের কৃতিত্ব খুব বেশি দেখছেন না। শুধু বললেন, নিজের কাজটা করার চেষ্টা করেছেন।
“আমরা কঠোর অনুশীলন করি, কঠোরভাবেই খেলি। আমি শুধু নিজের একটা প্রভাব রাখার চেষ্টা করি। চেষ্টা করেছি সুনির্দিষ্ট থাকার, সরাসরি খেলার। জানতাম ওরা ক্লান্ত থাকবে, তাই আমি সরাসরি খেলার চেষ্টা করেছি, ওদেরকে আরও ক্লান্ত করে হ্যারিকে (কেইন) বলটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”