Published : 12 Apr 2026, 04:47 PM
আশা ভোঁসলে ভুলটা করেছিলেন ১৩ বছর বয়সে। পরিবারের কথা অমান্য করে গণপতরাও ভোঁসলের হাত ধরতে বাড়ি ছাড়েন শিল্পী। জীবনজুড়ে দুঃসহ যন্ত্রণা নেমে আসে সেই বিবাহিত জীবনে।
ইন্ডিয়া টুডে, বলিউড হাঙ্গামার খবরে এসেছে ‘আশা ভোসলে: আ লাইফ ইন মিউজিক’ বইয়ে কোনো রাখঢাক না রেখে সবিস্তারে সে সব বলে গেছেন আশা ভোঁসলে। বইটি লিখেছেন রমা শর্মা। সেই আত্মকথনে এসেছে যন্ত্রণাময় দাম্পত্য থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন আশা।
প্রথম স্বামী গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে আশা ভোঁসলের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় বিশ বছর। আত্মজীবনে আশা লিখেছেন প্রায়ই তার স্বামী তাকে মারধর করতেন। এমনকি গর্ভাবস্থায়ও রেহাই মেলেনি। ফলে তাকে প্রায়ই হাসপাতালে ভর্তি হতে হত।
আশা লিখেছেন, “পরিবারটি ছিল রক্ষণশীল, তারা গায়িকা পুত্রবধূকে মেনে নিতে পারেনি। আমার স্বামীর মেজাজ চড়া ছিল। হয়তো তিনি কষ্ট দিতে পছন্দ করতেন, হয়তো তিনি স্যাডিস্ট ছিলেন। কিন্তু বাইরে কেউ তা জানতে পারত না। আমি তাকে সম্মান দিতাম, কখনো তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। আমার ধর্ম মেনে কর্তব্য পালন করে গেছি।”
তৃতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জীবনীতে লিখেছেন আশা।
তিনি লিখেছেন, “আমি তখন চারমাসের গর্ভবতী। শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। একবার আমার মনে হয়েছিল আমার আত্মহত্যা করা উচিত। আমি অসুস্থ ছিলাম। আমি চার মাসের গর্ভবতী ছিলাম এবং এমন একটা হাসপাতালে ছিলাম যে, সেটা অবস্থা বর্ণনা করার মত না। আমার মনে হয়েছিল আমি নরকে এসে পড়েছি। প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ছিলাম। তাই, আমি ঘুমের ওষুধ গিলে ফেলি। কিন্তু আমার অনাগত সন্তানের প্রতি আমার ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে আমি মরে যাইনি।”
শ্বশুরবাড়িতে আশার প্রতিদিনের রুটিনটা ছিল এমন, ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্নাবান্না, স্বামী-শাশুড়ির সেবাযত্ন, সন্তান পালনের দায় মিটিয়ে লোকাল ট্রেনে চড়ে স্টুডিও পাড়ায় ঘুরে ঘুরে সংগীত পরিচালকদের কাছে দেনদরবার করতে হত।
গান ও টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়ে স্বামী সঙ্গে মতবিভেদ ক্রমে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। একদিন যার হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন, অচিরে তাকেই ছাড়েন আশা। ১৯৬০ সালে গণপতরাওয়ের থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।
বিশ বছর পর, আশা ভোঁসলে সংগীত পরিচালক রাহুল দেববর্মণকে আশা বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে, ১৪ বছর সংসার করার পর রাহুল মারা যান।