Published : 28 Feb 2026, 03:56 PM
"রাত বারোটার ঘড়ির কাঁটা ছুঁতেই আর্ট পেপারে ‘হ্যাপি বার্থডে আব্বা’, আর গোলাপ ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে সাজিয়ে দরজার নিচ দিয়ে চুপচাপ ঢুকিয়ে রেখে আসতাম। আব্বা সকালে উঠে দেখে খুব খুশি হতেন।" বাংলা পপ গানের সম্রাট আজম খানের জন্মবার্ষিকীতে তাকে এমনভাবেই চমকে দেওয়ার চেষ্টা করতেন কন্যা অরণী খান।
আজিমপুরে ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম আজম খানের। শনিবার এই শিল্পীর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী।
বাবার জন্মবার্ষিকী ঘিরে গ্লিটজের কাছে কিছু স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন তার মেয়ে অরণী খান। কথায় কথায় তুলে ধরলেন ঘরের ভেতরের এক অন্য আজম খানকে।
অরণী বলেন, "আমি তো সবার ছোট ছিলাম, বাবার সঙ্গে জোঁকের মত লেগে থাকতাম। বাবাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি। আজকে তো আব্বার জন্মদিন, আমি ছোট ছিলাম তবুও দিনটি আমার কাছে স্পেশাল দিন হয়ে উঠত। আব্বার জন্মদিনে নতুন কিছু সারপ্রাইজ দিতাম। প্রত্যেকবারই আব্বার জন্মদিনের রাত ১২টায় আর্ট পেপারে 'হ্যাপি বার্থডে আব্বা' লিখে খাটে দিয়ে আসতাম, বা দরজার নিচ দিয়ে রেখে আসতাম।
“কারণ আব্বা অনেক তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘুমিয়ে পড়তেন। গোলাপের পাঁপড়ি আর আমার পছন্দের ফুল কিনে এনে কার্ড সাজাতাম।"
সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই কাগজ দেখতেন আজম খান বলে জানিয়েছেন অরণী খান।
তিনি বলেন, “আব্বা খুব সুন্দর করে সেটাকে রেখে দিতেন। সকাল থেকেই অনেক মানুষ বাসায় আসত তাকে উইশ করতে। তারা সেটাও দেখত। অনেক সময় সেই আর্ট পেপার নিয়ে ছবিও তুলতেন আব্বা।”

যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে বলা হত ‘অপসংস্কৃতি’, সে সময় স্রেফ ‘জেদের বশে’ পাড়ায় পাড়ায় বন্ধুবান্ধব নিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে মঞ্চ বানিয়ে গান গাইতেন আজম খান। যে কোনো গান একবার শুনলেই ধারণ করে হুবহু গেয়ে শোনাতে পারতেন।
তার হাত ধরেই স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শুরু হয় পপ মিউজিকের যাত্রা। ১৯৭২ সালের শেষ দিকে ‘সালেকা মালেকা’ আর 'হাই কোর্টের মাজারে' গান দুটি দিয়েই নিজেদের প্রথম রেকর্ড বের করেন। গান দুইটি সেসময় বেশ আলোচিত ছিল।
তার কণ্ঠে ‘আলাল দুলাল’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’, ‘প্রেম চিরদিন দূরে দূরে এক হয়ে থাক না’, ‘আমার বঁধুয়া কী গাইতে জানে গান’ এমন সব গান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
২০১১ সালের ৫ জুন ক্যান্সারের কাছে হার মেনে অনন্তলোকে পাড়ি দেন এই তারকা।
বাবা থাকলে এখন দিনগুলো ‘অন্যরকম হত’ মন্তব্য করে আজম কন্যা বলেন, “আজ যদি আব্বা বেঁচে থাকতেন, আমিও হয়ত কিছু স্পেশাল করতাম। এখন তো আব্বার একটা নাতি আছে, আমার ছেলে। সেও হয়তো নানার জন্য কিছু করত। এসব কথাই মাথায় ঘুরছে। আব্বাকে খুব মনে পড়ে। মন খারাপ হয়।”
বাবার সঙ্গে রমজান মাসেরও বিশেষ স্মৃতি ছিল অরণীর। আজম খান নিজ হাতে ইফতার বানিয়ে খাওয়াতেন সবাইকে।
“প্রত্যেক রমজানে আব্বা নিজে হাতে ইফতার বানাতেন। আমাদের ডাকতেন, একসঙ্গে বসে ইফতার খাওয়াতেন, সেহেরি খাওয়াতেন। ছোট ছিলাম বলে আমি বেশি আব্বার আদর পেয়েছি। আসলে আব্বার স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিনিয়তই আব্বাকে অনেক মিস করছি।”

'উচ্চারণ' ব্যান্ডের বর্তমান কার্যক্রম
চৌদ্দ বছর পর আবারও নতুন করে ফিরেছে ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডের সুর। দুলাল জোহা, পিয়ারু খান, পার্থ মজুমদারসহ একদল অভিজ্ঞ সংগীতশিল্পী আবারও এক হয়ে ‘উচ্চারণকে’ নতুনভাবে মঞ্চে এনেছেন। গেল বছর থেকে দলটি বিভিন্ন কনসার্ট ও টিভি শোতে পারফর্ম করছে।
অরণী জানিয়েছেন, ‘উচ্চারণ’-এর কার্যক্রম চলছে নিয়মিত, প্র্যাকটিস হচ্ছে। এখন রমজান মাস, তাই কোথাও পারফর্ম করছে না দলটি। তবে ঈদ ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় কথা চলছে।
এছাড়া আজম খানের নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ চলছে। সেখানে তার গান, কার্যক্রম ও জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হবে।
অরণী বলেন, "আজম খানের নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ চলছে, যেখানে উনার গান, কার্যক্রম সব কিছু তুলে ধরা হবে। নতুন প্রজন্মেরা যেন আজম খানকে চিনতে পারে, মনে রাখে। গানগুলো যেন থেকে যায়। ওয়েব সাইটের কাজ কাজ শেষ হলে আমরা অফিশিয়ালি এটা চালুর ঘোষণা দিব।"
আজম খানের কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া আরও কিছু গান হল ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’, ‘চার কলেমা সাক্ষী দেবে’ ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘হারিয়ে গেছে খুঁজে পাব না’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’।
আরও পড়ুন:
আজম খানের 'উচ্চারণ' ফিরছে নতুন আবেগে