Published : 30 Jun 2025, 04:06 PM
সেই বাহাত্তরে পপগুরু আজম খান গড়ে তুলেছিলেন গানের ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। তার প্রয়াণে থমকে গিয়েছিল যে গানের দলের যাত্রা, সেই ব্যান্ড ১৪ বছর পর ফিরছে নতুন করে।
আজম খানের ছোট মেয়ে অরণী খান জানিয়েছেন, নতুন উদ্যমে ‘উচ্চারণ’কে সাজিয়ে গুছিয়ে তোলা হচ্ছে।
অরণী খান গ্লিটজকে বলেন, "আমরা এ বছরই নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছি উচ্চারণ ব্যান্ডের কার্যক্রম শুরু করার। পরিবারের সদস্যদের সব সময় চাওয়া ছিল, আব্বুর গানগুলো সবার মাঝে বেঁচে থাকুক।
"গানগুলো যেভাবে আব্বা গাইতেন, ব্যান্ডগুলো গাইত সব কিছু একই রকম থাকবে। শুধু মানুষগুলো পরিবর্তন হচ্ছে।"
নতুন প্রজন্মের কাছে আজম খানের গানগুলো পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অরণী।

অরণী আরও জানিয়েছেন, শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে উচ্চারণ ব্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে দেওয়া হবে।
ব্যান্ডটির বর্তমান লাইনআপে আছেন পিয়ারু খান, দুলাল, কোসেক, শিপার ও তুহিন।
যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে বলা হত ‘অপসংস্কৃতি’, সে সময় স্রেফ ‘জেদের বশে’ পাড়ায় পাড়ায় বন্ধুবান্ধব নিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে মঞ্চ বানিয়ে গান গাইতেন আজম খান।
একবার এক সাক্ষাৎকারে আজম খান বলেছিলেন, ‘বন্ধুবান্ধবরা আমার গান ভালো বললেও, আমি আসলে গায়ক না, সিরিয়াসও ছিলাম না’।
গান নিয়ে উদাসীন সেই মানুষটিই পরে বন্ধু নীলু, মনসুরের গিটার আর সাদেকের ড্রামসের সঙ্গে, ‘সিরিয়াস’ হয়ে ১৯৭২ সালে তৈরি করেন ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শুরু হয় রক মিউজিকের যাত্রা।
প্রথমবার মঞ্চে উঠে 'উচ্চারণ' ব্যান্ড পরিবেশন করেছিলেন নিজেদের সম্বল চারটি মাত্র গান। এরপর ধীরে ধীরে আজম খান এবং তার গানের পরিচিতি বাড়ে। ১৯৭২ সালের শেষ দিকে 'সালেকা মালেকা' আর 'হাই কোর্টের মাজারে' গান দুটি দিয়েই নিজেদের প্রথম রেকর্ড বের করেন।
আজিমপুরে ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম আজম খানের। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। ২০১১ সালের ৫ জুন ক্যান্সারের কাছে হার মেনে অনন্তলোকে পাড়ি দেন এই তারকা।
তার কণ্ঠে ‘আলাল দুলাল’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’, ‘প্রেম চিরদিন দূরে দূরে এক হয়ে থাক না’, ‘আমার বঁধুয়া কী গাইতে জানে গান’ এমন সব গান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
আজম খানের কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া আরও কিছু গান হল ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’, ‘চার কলেমা সাক্ষী দেবে’ ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘হারিয়ে গেছে খুঁজে পাব না’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’।
আরও পড়ুন: