আজম খানকে সামনে থেকে দেখা এবং তার ব্যান্ডের সঙ্গে বাজানো দুইজন ব্যক্তি হলেন ফুয়াদ নাসের বাবু এবং লাবু রহমান। তারা জানিয়েছেন সহশিল্পী আজম খানকে নিয়ে তাদের স্মৃতি, গানের পিছনের গল্প।
Published : 05 Apr 2025, 09:07 AM
তিনি না থাকলে বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত হত না- যাকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলা হয়, তিনি আজম খান। গান শুরুর পর যার নামের আগে ‘পপগুরু’ তকমা বসতে সময় লাগেনি, তিনি গানের চর্চা করতেন বেশিরভাগ সময়ে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ‘আড্ডায় বসে’।
যে সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে বলা হত ‘অপসংস্কৃতি’, সে সময় স্রেফ ‘জেদের বশে’ পাড়ায় পাড়ায় বন্ধুবান্ধব নিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে মঞ্চ বানিয়ে গান গাইতেন তিনি।
একবার এক সাক্ষাৎকারে আজম খান বলেছিলেন, ‘বন্ধুবান্ধবরা আমার গান ভালো বললেও, আমি আসলে গায়ক না, সিরিয়াসও ছিলাম না’।
মাঝে একাত্তরের রণদামামা তার রক্তে নাচন তোলে; ‘শখের’ গান সরিয়ে রেখে অস্ত্র হাতে হায়েনা বধে রণাঙ্গনে কাটে বিক্ষুব্ধ সময়।
গান নিয়ে উদাসীন সেই মানুষটিই পরে বন্ধু নীলু, মনসুরের গিটার আর সাদেকের ড্রামসের সঙ্গে, ‘সিরিয়াস’ হয়ে ১৯৭২ সালে তৈরি করেন ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শুরু হয় রক মিউজিকের যাত্রা।
সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিতে আজম খানকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দিয়েছে সরকার।
‘উচ্চারণ’ শুরুর আরও পরে আজম খান নিজের ঘরানায় শামিল করে নেন সেই সময়কার যাদেরকে, তাদের মধ্যে দুজন হলেন ‘ফিডব্যাক’ ব্যান্ডের ফোয়াদ নাসের এবং গিটারিস্ট লাবু রহমান। তারা বাজাতেন পপগুরুর গানের সাথে।
দুজনের চোখেই আজম খান ‘তারকাখ্যাতিকে তুচ্ছজ্ঞান করা অপার প্রতিভার একজন সাদাসিধে গোছের মানুষ’। যিনি বাজারের থলে হাতে যেমন বাজার করেছেন, অবাধে মিশেছেন পাড়া প্রতিবেশীর সঙ্গে, তেমনি অগুণতি দর্শকের সামনে কোনো সন্ধ্যা-রাতে মাইক্রোফোনের সামনে গেয়েছেন কোনো রক সংগীত।
ফোয়াদ নাসের এবং লাবু রহমানের কথায় জানা গেলে সমসাময়িক বহু বাজিয়ে তার সঙ্গে বাজানোর জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতেন।
আজম খানকে নিয়ে গ্লিটজের কাছে গল্প করতে করতে ফোয়াদ আর লাবু কখনো ডুব দিয়েছেন স্মৃতিতে, কখনো তাদের কথায় মূর্ত হয়েছে আজম খানের কোনো একটি গানের পেছনের গল্প। এছাড়া পপগুরুর সঙ্গে তাদের নিজস্ব সম্পর্কের ছন্দ তুলে ধরেছেন তারা।
মৃত্যুর সাড়ে ১৩ বছর পর আজম খানের স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় তাদের অনুভূতিও জানিয়েছেন তারা।
‘প্রথম দেখায় স্বপ্নের মত লেগেছিল তাকে’
আজম খান প্রথমবার মঞ্চে উঠে পরিবেশন করেছিলেন নিজেদের সম্বল চারটি মাত্র গান। এরপর ধীরে ধীরে আজম খান এবং তার গানের পরিচিতি বাড়ে। ঢাকা শহরের পাড়া মহল্লায় গাইতে গাইতেই বাহাত্তরের শেষ দিকে ‘সালেকা মালেকা’ আর ‘হাই কোর্টের মাজারে’ গান দুটি দিয়েই নিজেদের প্রথম রেকর্ড বের করেন। ততদিনে আজম খানদের পারফরমেন্স দেখার অপেক্ষায় তৈরি হয়ে গেছে তরুণদের একটি দল।
চুয়াত্তরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘বাংলাদেশ’ গানটি গেয়ে সারা দেশ কাঁপিয়ে দেন গায়ক। তবে এর কিছুদিন পরেই অসুস্থ হয়ে যান আজম খান, সুস্থ হতে বেশ সময়ও লাগে। ছেদ পড়ে গানে। ভেঙে যায় ‘উচ্চারণ’।
পঁচাত্তরের শেষের দিকে ব্যান্ড পুনর্গঠনের জন্য তরুণ রকারদের আস্থায় নিয়েছিলেন এই গায়ক। সেই সময় তার সঙ্গে যুক্ত হন ফোয়াদ নাসের, ড্রামার পিয়ারু খান ও রিদম গিটারিস্ট দুলাল জুহা। সে সময় তিনটা গিটার, ড্রামস, আর একজন ভোকাল মিলেই চলছিল ব্যান্ডের কার্যক্রম।
আজম খানের গলায় প্রথম গান শোনার স্মৃতি হাতড়ে ফোয়াদ নাসের বলেন, “আজম ভাই আমদের বড় ছিলেন, আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে তার পরিচয় ছিল, স্বাধীনতার পরপরই উনাকে দেখেছি আড্ডায় বসে গানের চর্চা করতেন। উনার বন্ধু বান্ধব যেমন নীলু ভাই, তাদের সঙ্গেই সুর করতেন, গান করতেন। তখনও প্রফেশনালি গান করতেন না।”
আজম খানের মধ্যে পপ তারকা জর্জ হ্যারিসনের স্টাইল খুঁজে পেয়েছিলেন ফোয়াদ।
“১৯৭৩ সালের দিকে উনারা একটা গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, তখন নীলু ভাই গিটারে ছিলেন, সাদেক ভাই ড্রাম বাজাতেন, সেই অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। উনাকে দেখলাম জর্জ হ্যারিসনের মত চুল, স্টাইল নিয়ে গান করছেন কিন্তু তিনি বাংলা ভাষায় গান করছেন, প্রথম দেখায় স্বপ্নের মত লেগেছিল তাকে।”
ওই সময়ে ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছিল বলে ভাষ্য তার।
“তাদের পরিচিতি এমনভাবে তৈরি হয়েছিল যে, কোনো গানের অনুষ্ঠানে তিলধারণের জায়গা থাকত না, সদস্যরা প্রত্যেকে উচ্চারণের পাওয়ার হাউজ ছিলেন। আর আজম খানের গায়কী অন্যরকম একটা রূপ ধারণ করেছিল। তখন আরপিএম রেকর্ড বের হত, তার ‘সালেকা মালেকা’ গান অনেক জনপ্রিয় এবং উনার রেকর্ড সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বিক্রি হয়েছিল।”
সাহস করে ব্যান্ড তৈরি করলেও, ইন্সট্রুমেন্টের দিক থেকে ‘উচ্চারণের’ নিজস্ব ভাণ্ডার ছিল শূন্য।
“ঢাকায় বড় বড় হোটেল যেমন ইন্টারকন্টিনেন্টালে গান গাইত, এমন কিছু দলের কাছ থেকে ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে আসতেন আজম খানের দলের লোকজনরা।”
এমন ঘটনা টানা দুই বছর ধরে চলে বলে জানান ফোয়াদ নাসের।
কত সাল নাগাদ আজম খানের সঙ্গে যোগ দেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছিয়াত্তরের দিকে আমাদের উনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ডাকেন তিনি, আমরা তখন মাত্র শুরু করেছি। উনার ডাক শুনে তো ভড়কে গেলাম, এমন বড় বড় মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে তিনি বাজিয়েছেন, আমরা সেই সাউন্ডটাকে আনতে পারব কি না একটা সন্দেহ ছিল। কিন্তু আমরা মোটামুটি বাজিয়ে গেলাম, দেখলাম যে আমরা পারছি।”
‘আজম ভাইয়ের এপিটাফে আমার গানের লাইন’
সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে শান্তিনগরে বাস করতেন গিটারিস্ট লাবু রহমান। যিনি আজম খানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন। সেই সময়টায় জোনাকি সিনেমা হলে পপ শো হত, সেখানে ব্যান্ড ‘উইন্ডি সাইডস’, ‘উচ্চারণ’, ‘স্পন্দন’, ফিরোজ সাঁই- সবার গান শুনে এসে লাবু সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি গিটার বাজাবেন।
বড় ভাইয়ের গিটার নিয়ে বই পড়ে গিটার বাজানো শিখেছিলেন তিনি এবং একসময় ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ডে গিটার বাজানোর ডাক আসে। পরে তো লাবু রহমানের লেখা ‘আমি যারে চাই রে’ গেয়েছিলেন আজম খান, যা জনপ্রিয় হয়েছিল।
এই গানের পেছনের গল্প তুলে ধরে লাবু রহমান বলেন, “উনার সঙ্গে কাটানো অনেক সময়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই গান নিয়ে। আমার লেখা এবং আমার সুর করা এই গানটা তিনি গেয়েছেন। উনার কবরেও এই গানের কথা লেখা আছে। এটা আমার অনেক বড় পাওয়া।
“গানটা বানিয়েছিলাম আজম ভাইয়ের ওখানে যুক্ত হওয়ার আরও আগে। আমরা চার পাঁচজন বন্ধু মিলে সকাল বেলা রমনা পার্কে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে গিয়েছিলাম। গান শুনে এসে আমরা সবাই সেই আবেগ থেকে বের হতে পারছিলাম না। বন্ধুদের মধ্যে আমি গিটার বাজাতাম। গিটার নিয়ে বসে ওখানে সবাই মিলে গানটা লিখে ফেললাম। গিটার বাজিয়ে আমি সুরটা করছি আর কাগজ কলম নিয়ে লিখছি। মানে গাইতে গাইতে লিখে ফেলা আরকি। সবাই মিলে তখন গানটা গাইলাম।”
পরবর্তীতে আজম খানকে দিয়ে লাবু এই গানটি করিয়েছিলেন।
সেই ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একদিন হঠাৎ করে আজম ভাইকে বললাম, ‘ভাই, আমার একটা গান আছে, আপনি গাইবেন নাকি?’ আমার ফ্রেন্ডরা সেখানে ছিল। ওরা বলল, ‘আজম ভাই গানটা খুব ভালো, গানটা আপনি গাইলে ভালো হবে’। আমি যে রকম গাইলাম, সেরকম না, আজম ভাই উনার স্টাইলে গানটা করলেন। তারপর কী হল জানি না। উনি স্টেজে গানটা গাওয়া শুরু করলেন, মানুষ পছন্দও করল।”
‘উচ্চারণ’ ব্যান্ড ছেড়ে আটাত্তরের পর পুরোদমে গিটার বাজানো শুরু করেন লাবু; যোগ দেন ‘ফিডব্যাক’এ।
একবার ‘ফিডব্যাক’ এবং আজম খানের এক কনসার্টে সবাইকে অবাক করে দিয়ে লাবু রহমানের নাম ধরে ডেকে উঠেন পপগুরু।
লাবু বলেন, “মেডিকেল কলেজে ফিডব্যাক এবং আজম খানের কনসার্ট ছিল। আজম ভাইয়ের পরে আমরা গান করব, তখন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ‘ভাই কী গান দিয়ে শুরু করবেন?’ বললেন, ‘তোমার গানটা দিয়ে শুরু করব’। তখন আমার ব্যান্ডের সবাই শুনল যে এই গানটা আমার। স্টেজে উঠে আজম ভাই বললেন, ‘আজকে লাবুর গান দিয়ে শুরু করব’। ফিডব্যাকের সবাই একটু অবাক হল।
“স্টেজে উঠেই লাবু বলে একটা ডাক দিয়ে বসলেন তিনি। ‘আমি যারে চাইরে সে থাকে মোর অন্তরে’ গানের মাঝখানে আমার নাম ধরে তিনি টান দেন। সেই স্মৃতিটা আমায় এখনো আবেগতাড়িত করে।”
দুজনের কাছে আজম খান ছিলেন দুরকম
ফোয়াদ নাসেরের কাছে আজম খান ছিলেন একজন ‘রহস্যময় জাদুকর’ আর লাবু রহমানের চোখে ‘সিম্পল পারসন উইথ এ বিগ হার্ট অ্যান্ড ট্যালেন্ট’।
আজম খানকে নিয়ে শুনতে চাই এমন কথায় ফোয়াদ নাসের উত্তর দেন, “কাছ থেকে লোকটাকে যত দেখেছি মনে হত এক প্রকার রহস্য, এই একটা ব্যক্তি এতগুলো মানুষকে টানছে, এক অদ্ভুত জাদুকর। বিন্দুমাত্র তারকাখ্যাতি উনার মধ্যে ছিলেন না, সাধারণভাবে থাকতেন। লুঙ্গি পরে বাজারে চলে যেতেন। পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, ক্রিকেট খেলছেন, সাঁতার শেখাচ্ছেন- একজন প্রাণবন্ত লোক ছিলেন। স্টারডম উনার মধ্যে ছিল না, সবাই উনার সঙ্গে কাজ করার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন।”
লাবু রহমানের কথায় ব্যক্তি আজম খানের মধ্যে রকস্টারের অহমিকার লেশমাত্র ছিল না।
“আজম খানের সাথে কাজ করার, মেশার এবং উনাকে চেনার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। উনি যে একজন রকস্টার ওই ফিলিংসটাই উনার ছিল না, উনি সাধারণ একজন নিরীহ ভদ্রলোক ছিলেন, উনার লাইফ স্টাইলটা ছিল এককথায় সিম্পল পারসন উইথ এ বিগ হার্ট অ্যান্ড ট্যালেন্ট। উনার কাছ থেকে অনেক গুণই আমি এখনো নিজের মধ্যে ধারণ করি।”
‘উচ্চারণে’ থাকার সময় পপগুরুর সঙ্গে ঝগড়া হত বলেও জানিয়েছেন লাবু।
“উনি একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠতেন। তো ন্যাচারালি উনার সাথে আমার প্রতিদিনই উনার সঙ্গে ঝগড়া হত। কারণ আমি সকাল সকাল গিয়ে বসে থাকতাম। উনি তারপর উঠবেন, নাস্তা করবেন, এমন করতে করতে দুইটা বেজে যেত। আমরা এমনিতেই দেরি করে প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতাম।”
ছিয়াত্তরের পর থেকে আটাত্তর পর্যন্ত আজম খানের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন লাবু রহমান।
স্বাধীনতা পদক উনার প্রাপ্য ছিল
আজম খানের গান নিয়ে যতটা কথা হয়, যুদ্ধের গল্প তেমনভাবে উচ্চারিত হয় না। দুই নম্বর সেক্টরের সেকশন ইনচার্জ হিসেবে যুদ্ধ করেছেন তিনি। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’তেও এসেছে, মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে গান গেয়ে যোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতেন আজম খান।
স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকীতে এসে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিতে আজম খান পেলেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতি শাখায় তার এ পুরস্কার এসেছে।
যুদ্ধের প্রায় পাঁচ দশক পর এবং মৃত্যুর সাড়ে ১৩ বছর পর এই গায়কের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তির ঘটনাটি ফোয়াদ নাসেরের কাছে ‘অত্যন্ত সুসংবাদ’।
“বাংলার রক গানের জন্যও এটা বিরাট সুসংবাদ, আমরা উনার এই অর্জনকে নিজের করে নিয়েছি, উনার এটা প্রাপ্য ছিল। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, স্বাধীনতার পর সংগীতের একটি ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ১৩ বছর পরে হলেও উনি পেয়েছেন এতে আমরা আনন্দিত।”
আজম খান স্মরণে কোনো অনুষ্ঠান নেই
আগে অনেক ব্যান্ড আজম খানের গান করত, এখন সেটা কমে গেছে কেন জানতে চাইলে ফিডব্যাকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফোয়াদ নাসের বলেন, “আমরা গাই তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে, তাকে স্মরণ করতে। উনাকে নিয়ে তো এখন তেমন কোনো আয়োজন হয় না, হলে হয়ত সেখানে গাওয়া হত।”
আর লাবু রহমানের কাছেও ফোয়াদের কথা যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, “কনসার্ট তো কমে গেছে এখন, আর এখন কনসার্টে যারা গায় তারা তাদের জনপ্রিয় গানগুলোই গায়, আলাদা করে কেউ সেই সময়টা পায় না। তাদের স্মরণে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় না আমাদের দেশে, তাই তাদের গান গাওয়াও কমে গিয়েছে।”
আজম খানের গানগুলো নতুন করে সংকলন করা যায় কি না বা এই উদ্যোগ কেউ নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে ফোয়াদ নাসের জানালেন, তার মৃত্যুর পর একটা চেষ্টা হয়েছিল, যদিও পরে ওই কাজটি গতি হারায়।
“উদ্যোগটা ছিল উনার রেকর্ড করা গানগুলো যার কাছে আছে সেগুলো একসঙ্গে করে সংকলন করে রাখা। গানগুলো আর্কাইভ করে রাখা, যেন পরবর্তী প্রজন্ম বা কেউ যদি তার গান নিয়ে কাজ করতে চায় সেটা যেন পায়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটা হয়নি।
“আজম খানের জন্মদিন ঘিরে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটা আজম মেলা করার খুব ইচ্ছা আমার আছে, চেষ্টা করছি যদি সুযোগ হয় তাহলে করব।”
আজিমপুরে ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম আজম খানের। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। ২০১১ সালের ৫ জুন ক্যান্সারের কাছে হার মেনে অনন্তলোকে পাড়ি দেন এই তারকা।
তার কণ্ঠে ‘আলাল দুলাল’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’, ‘প্রেম চিরদিন দূরে দূরে এক হয়ে থাক না’, ‘আমার বঁধুয়া কী গাইতে জানে গান’ এমন সব গান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
আজম খানের কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া আরও কিছু গান হল ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’, ‘চার কলেমা সাক্ষী দেবে’ ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘হারিয়ে গেছে খুঁজে পাব না’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’।