Published : 26 May 2026, 07:25 PM
ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খানের ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’, আরেফিন শুভর ‘নীল চক্র’ থেকে শুরু করে একগুচ্ছ নতুন সিনেমার ওয়ার্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার করতে যাচ্ছে চ্যানেল আই।
কোরবানির ঈদের বিশেষ আয়োজন হিসেবে সাতদিনব্যাপী ঈদ আয়োজন সাজিয়েছে স্টেশনটি। ঈদের দিন থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সোয়া ১০টায় প্রচার হবে সিনেমাগুলো।
ঈদের দিন ‘নীল চক্র’

অভিনেতা আরেফিন শুভর ‘নীলচক্র: ব্লু গ্যাং’ সিনেমার চিত্রনাট্য তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তি নির্ভরতা থেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার গল্পে তৈরি হয়েছে।
যেখানে দেখা গেছে, দুই বছরে ইন্টারনেটে ১৬ তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস, একের পর এক আত্মহত্যা, পুরো ঘটনাই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের; উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভিডিওগুলো। এর পেছনে কি বড় একটি চক্র রয়েছে? কী চায় তারা সেসব অনুসন্ধানে এক পুলিশ কর্মকর্তার মরিয়া ভূমিকায় এগিয়ে যাবে সিনেমার গল্প।
পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আরেফিন শুভ। আরও আছেন মন্দিরা চক্রবর্তী, সংগীতশিল্পী বালাম, মাসুম রেজওয়ান, ফজলুর রহমান বাবু, প্রিয়ন্তী ঊর্বী, পারভীন পারু, মনির আহমেদ শাকিল, নাজমা আনোয়ার।
এক ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও কাহিনী মিঠু খানের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন নাজিম উদ দৌলা। সিনেমায় তিনটি গান রয়েছে।
দ্বিতীয় দিন শাকিবের ‘প্রিন্স’
রোজার ঈদে মুক্তি পেয়েছিল আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’।
নব্বই দশকে ঢাকার অপরাধজগতকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। এই সিনেমার গল্পে সাম্রাজ্য, প্রভাব ও অ্যাকশনের দৃশ্য তুলে ধরেছেন নির্মাতা।
যেখানে গ্যাংস্টারের রূপে দেখা গেছে শাকিবকে।
শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করেছেন দুই নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর। আরও আছেন আলোচিত ভারতীয় অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য।
বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু, ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ, শরীফ সিরাজসহ অনেকে।
তৃতীয় দিন মেহজাবীনের ‘সাবা’

মধ্যবিত্ত পরিবারের মা ও মেয়ের সংগ্রামী জীবনের গল্প নিয়ে ‘সাবা’ সিনেমাটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মাকসুদ হোসেন।
নব্বই মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন নির্মাতা ও তার স্ত্রী ত্রিলোরা খান দুজনে মিলে।
সিনেমায় দেখা যাবে, সাবার বাবা নেই, আর মা শিরিন সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী। হুইল চেয়ারে ‘বন্দি’ মায়ের একমাত্র ভরসা মেয়ে সাবা। সংসারের বোঝা ও মায়ের সেবার দায়িত্বে ব্যস্ত থেকে নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে তুলতে পারেনি সে। অর্থকষ্টে জর্জরিত সাবা চেষ্টা করে যাচ্ছিল মাকে সুস্থ করে তুলতে। কিন্তু হঠাৎ শিরিনের হার্ট অ্যাটাক হলে চিকিৎসক জরুরি অপারেশনের কথা জানান। তখন দিশাহারা সাবার জীবনে নেমে আসে নতুন সংকট।
সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী; অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী মোস্তফা মনোয়ার।
সিনেমাটি বেশ কিছু চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে গেল বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল।
চতুর্থ দিনে থাকছে ‘টগর’

পূজা চেরী ও আদর আজাদ অভিনীত ‘টগর’ সিনেমায় জয়িতা ও টগরের প্রেমের গল্প, রাজনীতি ও সমাজের নানা অপরাধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে এর আগে গ্লিটজকে পরিচালক আলোক হাসান বলেছিলেন, “‘টগর’ শুধু একটি গল্প নয়, এটি এক তরুণের যন্ত্রণাময় বাস্তবতা ও তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা আগুনের প্রতিচ্ছবি। দর্শকেরা এই সিনেমায় অ্যাকশন, প্রেম, সমাজের বাস্তবতা খুঁজে পাবেন।”
‘টগর’ সিনেমায় আদর ও পূজা ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, রোজী সিদ্দিকী, সুমন আনোয়ার, যোজন, এল আর খান সীমান্ত, শরিফুল।
সিনেমায় দুইটি গান ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট দেশি’ এবং 'ও সুন্দরী' গান দুইটি বেশ আলোচনায় ছিল। গেল বছরের কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি।
পঞ্চম দিনের সিনেমা ‘জয়া আর শারমিন’

পিপলু আর খান পরিচালিত দুই নারীর সম্পর্কের গল্প নিয়ে ‘জয়া আর শারমিনের’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল গেল বছর।
চিত্রানাট্যে, জয়া একজন অভিনেত্রী; অন্যজন তার সহকারী। কোভিড মহামারীর কারণে বাইরের জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা দুজন গৃহবন্দী জীবন কাটাতে বাধ্য হয় দীর্ঘ সময়।
প্রথম দিকে তাদের সম্পর্কটা ছিল পেশাগত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের পরিধি বাড়তে থাকে। একসঙ্গে রান্না, গল্প করা, পুরোনো স্মৃতিচারণাসহ, নানাকিছুতেই তারা একে অপরের সঙ্গী হয়ে ওঠে। তারপরও এ ঘনিষ্ঠতার মধ্যে ছিল অদৃশ্য এক দেয়াল।
জয়ার তারকাখ্যাতি এবং শারমিনের সাধারণ জীবনের ফারাক একটা সময় তাদের সম্পর্ককে জটিল করে তোলে। সম্পর্কের উত্থান-পতনের গল্পই দেখা যাবে এই সিনেমায়।
এতে জয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান এবং শারমিন চরিত্রে কাজ করেছেন মঞ্চের অভিনেত্রী মহসিনা আক্তার।
সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন পিপলু আর খান ও নুসরাত ইসলাম। প্রযোজনা করেছেন পিপলু ও জয়া।
সিনেমায় জয়া আহসান, মহসিনা আক্তার ছাড়াও বিশেষ উপস্থিতিতে রয়েছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী।
ষষ্ঠ দিন প্রচার হবে ‘বাড়ির নাম শাহানা’

বিচ্ছেদের পরও নিজের মত করে বাঁচতে চাওয়া এক নারীর অদম্য লড়াইয়ের গল্পের সিনেমা ‘বাড়ির নাম শাহানা’।
সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে লিসা গাজী গ্লিটজকে বলেছেন, সত্য কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের এক রক্ষণশীল মফস্বলের আবহের বিপরীতে দৃঢ়চেতা এক নারীর বেঁচে থাকার পথ অন্বেষণ করে।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্র দীপা, যিনি কোনোভাবেই চান না বিচ্ছেদের পর পরিবার বা সমাজ তার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করুক। রক্ষণশীল শহরে বড় হওয়ার পরও দীপা সমাজের কূপমণ্ডূকতা পুরোপুরি অস্বীকার করে নিজের মত করে বেঁচে থাকতে চায়।
‘বাড়ির নাম শাহানা’ সিনেমার বেশির ভাগ চিত্রগ্রহণ করা হয়েছে বাংলাদেশে, কিছু অংশের শুটিং হয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি ছোট শহরে।
সিনেমায় দীপা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনান সিদ্দীকা। এ ছাড়া আছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লুৎফর রহমান জর্জ, ইরেশ যাকের, কাজী রুমা, কামরুন্নাহার মুন্নীসহ অনেকে।
লীসা গাজীর সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেছেন আনান সিদ্দীকা।
শেষ দিন ‘শরতের জবা’

কুসুম শিকদার পরিচালিত ‘শরতের জবা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও কুসুম শিকদার নিজেই।
অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা এবং প্রযোজনার দায়িত্ব সবই সামলেছেন তিনি।
নিজের লেখা বই ‘অজাগতিক ছায়া’ থেকে ‘শরতের জবা’ গল্পটি চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে এনেছেন কুসুম।
চিত্রনাট্য নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “‘শরতের জবা’ হল সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্পের সিনেমা। চিত্রনাট্যে ভৌতিক আবহ, রহস্য এবং প্রেম খেলা করেছে।”
সিনেমায় দেখা গেছে, একজন একাকী নারীর রহস্যময় জীবনের গল্প। অতৃপ্ত প্রেম, আঘাতের পর আঘাত, কিছু অপ্রত্যাশিত মৃত্যু জড়িয়ে যায় জবার জীবন। জবা কি আসলেই খুনি? নাকি অদৃশ্য কোন শক্তি রয়েছে তার সাথে? এমনই থ্রিলার গল্পে এগিয়েছে সিনেমা।
সিনেমায় দুটি প্রধান নারী চরিত্র আছে। একজন জবা, আরেকজন বেলী। বেলী চরিত্র করেছেন নিদ্রা দে নেহা, আর জবা চরিত্রে কুসুম অভিনয় করেছেন।
সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন জিতু আহসান, শহীদুল আলম সাচ্চু, নরেশ ভূঁইয়া, বড়দা মিঠু, অশোক ব্যাপারী ।