Published : 21 Jul 2026, 10:50 PM
ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় বিপর্যয় এবং একাধিক প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বড় সমাবেশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বার্ষিক ‘শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে তার হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতি ছিল। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর প্রথম এই সমাবেশ থেকে মমতা ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) মোকাবেলা করতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তৃণমূল প্রধান জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীন বিভেদ ও পারস্পরিক মতপার্থক্য পাশে সরিয়ে রেখে বিজেপি’র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই জোরদার করাই এখন বিরোধী শিবিরের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে যুব কংগ্রেসের একটি কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মী নিহত হন। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।
সেই থেকে প্রতি বছর নিহত কর্মীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে দলটি। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি অংশ আলাদাভাবে ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন করেছে।
এদিক থেকে এবারের অনুষ্ঠান ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। তৃণমূল কংগ্রেস এবছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তিন টুকরো হয়েছে।দলের একাংশ আছে মমতার সঙ্গে।
আরেক অংশ চলে গেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আর তৃতীয় অংশ নিজেদের নাম বদলে সামিল হয়েছে অপরিচিত রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ে।
মমতার শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয় কলকাতার বিড়লা তারামন্ডলের কাছে। সেখানকার সমাবেশে দল ছেড়ে যাওয়া বা ভিন্নমত পোষণ করা নেতা-কর্মীদের নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও 'বিশ্বাসঘাতক' বা দলত্যাগীদের তিনি আর তৃণমূলে ফিরিয়ে নেবেন না।
অন্যান্য বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে ককরোচ পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান যে, বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াই ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অহংকারের চেয়ে অনেক বড়। তিনি কংগ্রেস ও সিপিএমসহ 'ইন্ডিয়া' জোটের সমস্ত শরিক দলকে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, একইদিনে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের পৃথক কর্মসূচিতে তৃণমূলের এই ঐক্যের আহ্বানকে খারিজ করে তীব্র আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব তৃণমূলকে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, “তৃণমূলকে আসলে পরিচালনা করছে বিজেপি। আমরা (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অমিত শাহকে ভয় পাই না। আমরা রাজপথে নেমে আন্দোলন জোরদার করব।”
সমাবেশে উপস্থিত প্রাক্তন কংগ্রেস সংসদ সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে। পুলিশ দলের কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। এত বড় জমায়েত কংগ্রেসের জন্য এক বিরাট সাফল্য। এটি তো কেবল ট্রেলার; রাজ্যে পরিবর্তন আসবেই।”
অনুষ্ঠানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, সমাবেশে আসার পথে দলের ১১ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সময় তিনি আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পথসভা এবং স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে পতাকা উত্তোলনসহ একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এছাড়া আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের কথা জানান তিনি, যেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।