Published : 21 Jul 2026, 11:01 PM
ভোটার স্থানান্তর, সংশোধন, এনআইডি নবায়ন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন সহজতর করতে কিছু বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবায় এবার যুক্ত হয়েছে ভোটার এলাকা স্থানান্তর কার্যক্রম। পাশাপাশি ভোটার স্থানান্তর আবেদনের ক্ষেত্রেও ফি দিতে হবে ইসিকে।
মঙ্গলবার ইসির সভায় এনআইডি নবায়ন, ভোটার স্থানান্তর, সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনসহ একগুচ্ছ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৮৩ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছে। এছাড়া ১৬-১৭ বছর বয়সীরা নিবন্ধনের আওতায় রয়েছেন, যারা এনআইডি পাচ্ছেন। ভোটার হওয়ার যোগ্য বা ১৮ বছর হলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভূক্ত হন।
নতুন ভোটার হতে এবং এনআইডি তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের অনলাইনে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়।
কিন্তু ভোটার স্থানান্তরের বিষয়ে স্থানীয় নির্বাচন অফিসে গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিতে হত। অনলাইনে আবেদনের সুযোগ ছিল না এতদিন। বর্তমান ইসি এ নিয়ে অনলাইনে আবেদন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল।
মঙ্গলবার সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা হয়। এতে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, এনআইডি উইং মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এনআইডি সংশোধনের ব্যাপারে কিছু প্রস্তাবনা ছিল। ভোটার এলাকা স্থানান্তর, এ পদ্ধতিটা অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এই মাইগ্রেশনের জন্য একটা সংশোধনী ফি দিতে হবে। যেটা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ফি আছে, সেটা নতুন করে আসবে।”
২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা করার পাশাপাশি এনআইডি দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ও বিধিমালায় এনআইডি নবায়ন, ফি নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “১৫ বছর হলে এনআইডি নবায়নের ব্যাপার আছে। এই এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত একটা ফর্ম থাকবে এবং সেই ফর্মে কি কি তথ্য থাকবে- যেমন একটা ফ্যামিলি ট্রির কথা বলা হয়েছে। আবেদনকারী বা এনআইডিধারীকে তার পরিবারের তথ্যটা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রেও একটা ন্যূনতম ফির ব্যাপার আছে।”
এনআইডি দেওয়ার লক্ষ্যে ইসি ১৬ বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ শুরুর প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় বলেও তথ্য দেন আখতার আহমেদ।
এদিকে বর্তমানে এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধন আবেদন থাকলে তা কেন্দ্রীয়ভাবে এনআইডি উইং অনুমোদন করে। এখন মাঠ কর্মকর্তাদের এ ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বর্তমান ইসি।
সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “মাঠ পর্যায়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের একটা বিষয় আমরা এনআইডিতে সেন্ট্রালি করে থাকি। এখন এসএসসি, জেএসসি, পিএসসির পাবলিক এক্সাম সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে এই সংশোধনগুলো করতে পারব। সেই ডেলিগেশনটা মাঠ পর্যায়ে দেওয়া হবে।”
প্রবাসী ভোটারদের ভোটার নিবন্ধন সহজতর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তথ্য দিয়ে ইসি সচিব বলেন, “প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ব্যাপারে টু-স্টেপ মেকানিজম ছিল। প্রবাসীরা ফর্ম জমা দিয়ে বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরে আমাদের এখানে তদন্তে আসত। তদন্ত হওয়ার পরে সেটা আপলোড হত। আমরা বলছি, প্রবাসে আপলোড করে দিবেন বায়োমেট্রিকটা, আমরা এখানে তদন্তে যথার্থতা পেলে এখান থেকেই অ্যাপ্রুভাল দিয়ে দেব। এতে একটা স্টেপ কমে যাবে।”
বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার কার্যক্রম ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।