Published : 21 Jul 2026, 11:16 PM
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংবিধান প্রণয়নে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের যুগান্তকারী অবদানের কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে গুণীজনদের সম্মান করার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যায়নের মাপকাঠি পরিবর্তনের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পেশাজীবী সমাজকে রাজনীতিমুক্ত করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে খুলনা বিভাগীয় আইনজীবী সমিতির ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সামার কনভেনশন ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
আইন পেশার পূর্বসূরী ও গুণী ব্যক্তিদের প্রতি নতুনদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর পরাদর্শ দেওয়ার সময় তিনি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা আমীর-উল ইসলামের উদাহরণ টানেন।
আইনজীবী সমিতিকে রাজনীতিমুক্ত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, “ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামের সাথে আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু উনি বাংলাদেশের সংবিধানের মুখবন্ধ লেখায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে উনি যে দক্ষতার পরিচয় দেন, দিয়েছেন, সেটা কিন্তু আমরা ভুলে যেতে পারি না।"
অনুষ্ঠানের অন্য আলোচক আইনজীবীরা আইন পেশায় প্রবেশের মানদণ্ড কঠোর করা, কল্যাণমূলক (বেনাভোলেন্ট) তহবিল সংস্কার এবং বার কাউন্সিলের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেন।
তারা বার কাউন্সিলকে আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি মান্ধাতার আমলের আইন পরিবর্তনের দাবি তোলেন।
ক্ষমতাকেন্দ্রিক তোষামোদের সংস্কৃতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আজকে আমাকে আপনারা প্রধান অতিথি করলেন, আইনমন্ত্রী হলাম। কালকে আমি এখানে থাকব না, আমাকে ভুলে যাবেন। এই পরিবেশটা যাতে না থাকে। এরকম একটি পরিবেশ তৈরি করেন।”
দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার উদাহরণ টেনে সমাজে 'পলিটিক্স অব রিকনসিলিয়েশন' বা ঐক্যের কথা বলেন তিনি।
তার সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক, সংসদ সদস্য নওশাদ জামির বলেন, "আইনমন্ত্রী যেটা বললেন যে রিকনসিলিয়েশনের কথা বলছেন, যে আমাদের আসলে একটা জাতিকে এক করতে হবে। যে বিভাজনের রাজনীতি আমাদের ছিল, এই বিভাজনের রাজনীতিতে আমাদের থাকা যাবে না।"
অনুষ্ঠানে আইন পেশার মান রক্ষার্থে শেষ বয়সে এসে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে প্রবেশের নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণের কথা বলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল।
তিনি বলেন, "আপনি ২০/৩০ বছর চাকরি করলেন, চাকরি করার পরে অথবা চাকরি থেকে ডিসমিসড হওয়ার পরে আপনার মনে হলো যে আইনজীবী হওয়া লাগবে। এসে এখানে এনরোলমেন্টের অ্যাপ্লিকেশন করতেছেন, আমরা বার কাউন্সিল সনদ দিয়ে দিচ্ছি। ইট শুড বি স্টপড। আপনি ৩৫ বছর হোক, ৩৪ বছর হোক বা ৩০ হোক, ইট শুড বি স্টপড ফর এভার।"
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "এখন হাজার হাজার ছেলেমেয়েরা জীবনের লক্ষ্য হিসেবে পড়াশোনা করতেছে আইনজীবী হওয়ার জন্য। ৩০ বা ৩২ বয়স আমাদের চর্চা করা উচিত।"
নতুন আইনজীবীদের মানের অবনতির কথা তুলে ধরে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, "আগে দেখতাম সিনিয়ররা জুনিয়রদের প্রতি নজর রাখতেন, তারা কীভাবে কাজ করে, ডিকটেশন নিতেন। এখন কোনো ডিকটেশন-টিকটেশনের কোনো ব্যবস্থা নাই। ওখান থেকে সব কি ক্লার্করাই বানায় টানায় দেয়, এগুলো নিয়ে এখন চলে আসে। যেজন্য এই প্রফেশনের মধ্যে একটা ধস নেমেছে।"
এছাড়া পেশাগত অসদাচরণের বিচারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেন আলোচকরা। পেশাগত অসদাচরণের বিচারের ব্যবস্থা করার দাবিও করা হয়।
বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটিতে বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্তির সমালোচনা করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের কোশ্চেন চিন্তা করে না, বিকজ তাদের তো জবাবদিহিতা নাই। বার কাউন্সিলের এমেন্ডমেন্টটা এমন করেন, কোনো জাজ থাকবে না।"