Published : 10 May 2026, 06:52 PM
মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণের প্রয়োজন না হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয় প্রতি বছরের এদিন। রোববার ১০ মে আন্তর্জাতিক মা দিবসটি ঘিরে গ্লিটজের কথা হয় দেশের নাটক-সিনেমা অঙ্গনের কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে।
তাদের কেউ মায়ের সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি টেনে আনলেন, কেউ বা বললেন বিপদের দিনে মাকে ছায়া হিসেবে পাওয়ার কথা। কেউ বা বুকভরা কষ্ট নিয়ে স্মরণ করলেন পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া মাকে।
অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, বিদ্যা সিনহা মিম এবং পরিচালক তানিম নূর-এই তিনজন তাদের মাকে নিয়ে অনুভূতির কথা গ্লিটজের কাছে তুলে ধরলেন।
‘মা-বাবাকে গ্র্যান্টেড করে নেওয়া উচিত নয়’: নাজিফা তুষি
মা-বাবার সঙ্গে কাটানো সময়ই জীবনের ‘সবচেয়ে মূল্যবান’ বলে মনে করেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি।
মা দিবস নিয়ে গ্লিটজকে অভিনেত্রী বলেন, “প্রতিদিনই এই দিবসের মূল্য দেওয়া উচিত। শুধু মা দিবসে উদযাপন করলেই হবে না, বরং কেন এই দিবস সেটা সবসময় মাথায় রাখা দরকার। মা ছাড়া পৃথিবী প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এক ধরনের অচল।”
মানুষ অনেক সময় না বুঝেই বাবা-মাকে ‘গ্র্যান্টেড’ ধরে নেয় বলে মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রকাশ হচ্ছে মায়ের প্রতি যত্ন ও সময় দেওয়া।
তুষি বলেন, “আমরা অনেক সময় বুঝে বা না বুঝে মা বাবার সঙ্গে সম্পর্কগুলো গ্র্যান্টেড ধরে ফেলি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অনেক সময় সম্পর্কগুলোকে চিরস্থায়ী ভেবে নেয় এবং না বুঝেই মা-বাবাকে কষ্ট দেয়। আমিও এই ভুল করেছি। কিন্তু এখন মনে হয়, তারা যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন তাদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোই জীবনের আসল অর্থ।”
ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে সময় ও যত্ন করার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই অভিনেত্রী।
“একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে সময় ছাড়া কিছুই দিতে পারে না। ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে যত্ন আর সময় দেওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়েদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। তাদের খাবার, বিশ্রাম, একটু সময় দেওয়া, কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এসবই তাদের কাছে অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।”
মাকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “ছোটবেলায় মায়ের কোলে ঘুমাতাম, কাঁদতাম। এখন বড় হয়ে গেছি, মনে হয় মাকেই আমি জড়িয়ে ধরে রাখি।”
শৈশবের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে তুষি বলেন, ছোটবেলায় একবার তিনি ঢাকার নিউ মার্কেটে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন।
“তখন এত ফোন ছিল না। একটি দোকান থেকে বাসার টিএনটি নম্বরে ফোন করে পরিবারকে জানাই, সেসময়ের একটি দৃশ্য এখনো আমার চোখে ভাসে। আমার মা আমাকে দেখে দৌড়ে আসছিলেন। তার কান্নাভেজা, দিশেহারা মুখটা এখনও আমাকে খুব নাড়া দেয়।”
২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নাজিফা তুষি।
সেই সময়ের মায়ের উদ্বিগ্ন মুখ তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে বলে জানান তিনি।
“বিপদের সময়ই বোঝা যায়, জীবনের আসল মানুষ কারা। তো ওই যতবার বিপদে পড়ছি ততবার আমার মা আমাকে যেভাবে আগলে রেখেছেন সেইগুলোই আমার কাছে স্পেশাল মোমেন্ট।”
মা দিবসে বিশেষ কিছু করার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপও করেন এই অভিনেত্রী। শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে তুষি বলেন, “কিছু করতে পারছি না। আমরা তো সেলফিশ দেখেন এত স্পেশাল ডে, মায়ের জন্মদিন বলি, মা দিবস বলি কোন সময় থাকতে পারি না শুধুমাত্র নিজের জন্য, নিজের জীবনের কাজের জন্য। এটা নিয়ে মন খারাপ হয়। আজকে চেষ্টা করবো শুটিংয়ের পরে মাকে যদি একটু স্পেশাল ফিল করানো যায়।”
‘মা শুধু অভিভাবক নন, আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু’: মিম
মাকে 'পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়' বলে বর্ণনা করেছেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, নিঃশর্ত এবং আজীবনের বলে মনে করেন তিনি।
মিম বলেন, “তিনি এমন একজন মানুষ, যাকে ভালোবাসতে কোনো বিশেষ দিবসের প্রয়োজন হয় না। জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়, প্রতিটি সাফল্য আর প্রতিটি স্বপ্নের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে যিনি পাশে থাকেন, তিনি মা।”
নিজের অর্জনের পেছনেও মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, “আজ আমি যা কিছু অর্জন করেছি, যে জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি, তার প্রতিটি ধাপে আমার মায়ের অবদান জড়িয়ে আছে। ছোটবেলা থেকে আমাকে সাহস দেওয়া, অনুপ্রেরণা দেওয়া এবং সবসময় আগলে রাখার জন্য আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। মা শুধু আমার অভিভাবক নন, তিনি আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু ও সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।”
একইসঙ্গে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
‘আমার জীবনে মাই সবচেয়ে বড় স্মৃতি’: তানিম নূর
মায়ের স্মৃতিকে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বলে তুলে ধরেছেন পরিচালক তানিম নূর। এই পরিচালক তার মাকে হারিয়েছেন বহু বছর আগে।
মা দিবসকে কেন্দ্র করে গ্লিটজের সঙ্গে তিনি মায়ের সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেন।
তানিম নূর বলেন, “আমার জীবনে মাই সবচেয়ে বড় স্মৃতির জায়গা এবং মায়ের কথা সবসময় মনে পড়ে। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি আছে, যেগুলো হঠাৎ হঠাৎ মনে এসে যায়।”
একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে তানিম নূর জানিয়েছেন, ক্লাস ফোরে পরীক্ষায় ভালো ফল করার পর মা তাকে ঢাকার সোবহানবাগের একটি বইয়ের দোকানে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি তাকে দুইটি বই কিনে দেন, যা তার শৈশবের স্মরণীয় উপহার হিসেবে আজও মনে আছে।