Published : 14 Jul 2026, 05:07 PM
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার গানের অনুষ্ঠান হওয়ার যে খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা ঠিক নয় বলে জানিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি।
সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের বরাত দিয়ে শিল্পকলার জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "১৮ জুলাই শিল্পকলা একাডেমিতে রুনা লায়লার গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে না, আমরা উনার (রুনা লায়লা) কাছ থেকে তারিখ নিতে গিয়েছিলাম।
“উনি জানিয়েছেন, এ অনুষ্ঠান এখন নয়, পরে উনি নিজেই একটা তারিখ দেবেন। ১৮ তারিখ গানের অনুষ্ঠান হওয়ার যে সংবাদ ছড়াচ্ছে, সেটি ঠিক নয়।"
১৮ জুলাই অনুষ্ঠান হওয়ার যে খবর দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তাতে আয়োজক হিসেবে শিল্পকলা একাডেমির কথা বলা হয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমি গত বছর থেকে দেশবরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠান করছে। এর আগে সাবিনা ইয়াসমীন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশ পেয়েছে রুনা লায়লার গান 'অনায়াসে'।
ষাট বছরের সংগীত জীবনে বাংলা, উর্দু, হিন্দি পাঞ্জাবিসহ ১৮টি ভাষায় দশ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন রুনা লায়লা। গানে গানে সমাদৃত হয়েছেন দেশে দেশে, খ্যাতির অনন্য উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রুনা সিনেমায় প্লেব্যাক শুরু করেন কিশোরী বয়স থেকেই। উর্দু গানের বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে গাইতেন। 'জুগনু' সিনেমা দিয়ে ১৯৬৫ সালে তার প্লেব্যাক ক্যারিয়ার শুরু হয়। আর বাংলা সিনেমাতে গান গাওয়া শুরু করেন সুবল দাসের সুরে 'স্বরলিপি' ছবিতে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার গান রেকর্ড হয়ে যায় তার।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে আসেন রুনা। সে সময় ভারতে বড় তিনটি কনসার্টে গান পরিবেশন করে সে দেশের দর্শকদের কাছেও সমাদৃত হন। বিশেষ করে ‘দমাদম মাস্ত কলন্দার’ গান গেয়ে ভারতে আলাদা পরিচিতি পান তিনি। ভারতের দুই কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের সঙ্গেও সখ্য হয়।
আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন রুনা লায়লা। বাংলাদেশ সরকার এই শিল্পীকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কারেও ভূষিত করেছে। এছাড়া ভারতে পেয়েছেন সায়গল পুরস্কার। পাকিস্তান থেকে তার ঝুলিতে এসেছে নিগার, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েটস পুরস্কার।
কেবল গান নয়, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শিল্পী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন রুনা লায়লা।