Published : 07 Apr 2026, 12:12 AM
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার আশা প্রকাশে করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
একইসঙ্গে তিনি এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ দেশ হওয়ার লক্ষ্যও তুলে ধরেছেন।
সোমবার সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের ‘বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন’ উপস্থাপন করতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী এমন সময়ে এ লক্ষ্যের কথা জানালেন, যখন জ্বালানি সংকটে মূল্যস্ফীতির পারদে আবার চড়তে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সবশেষ হালনাগাদ তথ্যে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য মিলেছে।
রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা গেছে, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। একমাস আগেও যা ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাতিল এবং সহায়ক রাজস্বনীতির ফলে চলমান অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ‘উল্লেখযোগ্য’ মাত্রায় কমে আসবে বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে সরকারের ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির কথা তুলে ধরে দেশব্যাপী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষের কথা বলা হয়েছে।
যুব উদ্যোক্তাদের ঋণের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা, শত কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথাও প্রতিবেদনে আছে।
কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য নিরাপত্তা অংশে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া শুরুর কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা অংশে দুস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসহায় বয়স্কদের ভাতার হার বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করার কথা বলা হয়।
রাজস্ব আহরণের বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্বের পরিমাণ ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২২ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে বাজেটে সরকার ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম প্রান্তিকে এডিপি ব্যয় কমেছে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বাজেট ঘাটতি অংশে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা; যা অনুমিত জিডিপির ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের নিট পরিমাণ, অনুদানসহ মোট ৫ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা।
সুদের হার ও মুদ্রা পরিস্থিতি অংশে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে ‘ব্যাপক মুদ্রা’ বা ‘এমটু প্রবৃদ্ধি (বিস্তৃত অর্থ সরবরাহ)’ এর লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হলেও ওই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়ায় ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে; যা এক বছর আগে ছিল ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
বৈদেশিক খাত পরিস্থিতি অংশে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রতিক বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তাসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ চেইনে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাসকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে। জ্বালানির বৈদেশিক উৎস, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।”
ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতা সামনের দিনগুলোকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন অর্থমন্ত্রী।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে সরকার বলেছে, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ টানার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব।