Published : 20 Jul 2026, 09:36 PM
ম্যানিলাভিত্তিক বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে এডিবির ঢাকা কার্যালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতারকরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।
সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, এডিবি কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।
“এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই,” বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো সাড়া না দেওয়ার জন্য জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে।
“তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি সম্পূর্ণ প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।”
এর আগে আরেক বৈশ্বিক উন্নয়ন সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে দেশে প্রায় একই ধরনের ঋণ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময়x বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছিল।
এডিবি মূলত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নিতে কাজ করে।
সদস্য দেশ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে সংস্থাটি উদ্ভাবনী অর্থায়ন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং সমন্বিত উন্নয়ন সমাধানের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখছে।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার বর্তমান সদস্য দেশ ৬৮টি, যার মধ্যে ৪৯টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।