Published : 29 Jun 2026, 11:41 PM
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি বা রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
সোমবার দিন শেষে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস হিসাবে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আইডিএ এর ঋণ ও অনুদানের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার যোগ হয়েছে।”
ইন্টারন্যশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের সদস্য।
এর আগে গেল ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তা ঋণের ১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার পর বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ওই দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর গ্রস বা মোট হিসাবে রিজার্ভ পৌঁছে যায় ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে।
রেমিটেন্সে ভর করে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণেও রিজার্ভ মজবুত হয়।
গত মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে দেশে, যা গত বছরের মে মাসের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি জুন মাসের ১৩ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৭ দিন বাকি থাকতেই ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠান প্রবাসীরা।
অন্যদিকে জুন মাসের এ পর্যন্ত নিলামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে কেনা হয়েছে ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ৩৯ মাস পর গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।
২০২২ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। এরপর আর ৩৫ বিলিয়ন ডলারের উপরে ওঠেনি।
গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গ্রস হিসাবে রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করে। সে সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
সোমবার প্রায় ৪৩ মাস পর গ্রস হিসাবে রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের দুটি তথ্য প্রকাশ করে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা সব অর্থের যোগফল হচ্ছে গ্রস হিসাব। আর দায় ও ঋণ বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয় আইএমএফ এর দেখানো বিপিএম৬ পদ্ধতিতে।
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে রিজার্ভ কমতে কমতে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছিল। আর সেটা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দেয়। সে বিবেচনায় সন্তোষজনক রিজার্ভ নিয়েই শুরু হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা।
রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। রপ্তানি আয় কমলেও রেমিটেন্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবার আকুর আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ খানিকটা কমে যায়।