চবিতে এবার কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে অডিও ফাঁস, তদন্তে কমিটি

কমিটিকে পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 03:31 PM
Updated : 6 August 2022, 03:31 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার কর্মচারী পদে নিয়োগ নিয়ে দুই ব্যক্তির সঙ্গে এক কর্মচারীর ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে; ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার শাহ আমানত হলের প্রাধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অফিসার সেলের গ্রন্থাগার সহকারী মানিক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

“বিষয়টি তদন্তে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট নির্মল কুমার সাহাকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ ফজলুল করিমকে।”

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী প্রক্টর আহসানুল কবীর ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার রশীদুল হায়দার জাবেদ।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রেজিস্ট্রার মনিরুল।

এর আগে গত মার্চে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশী দুই ব্যক্তির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীর ‘আর্থিক লেনদেন’ নিয়ে ফোনালাপের দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত আরও দুটি ফোনালাপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

ফোনালাপে নিয়োগ প্রত্যাশী দুই ব্যক্তির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর ‘আর্থিক লেনদেন’ নিয়ে আলাপ শোনা যায়।

নিয়োগপ্রার্থী মাকসুদুল সালেহীন নামে এক ব্যক্তির দাবি, রেজিস্ট্রার অফিসের গ্রন্থাগার সহকারী পদে কর্মরত মানিক চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার ফোনালাপ এটি, যার সঙ্গে তিনি নিম্নমান সহকারী ও অফিস সহকারী পদে তিনজনের নিয়োগের জন্য কয়েক দফায় মোট আট লাখ ২০ হাজার টাকা লেনদেন করেছেন।

নিয়োগপ্রার্থী মাকসুদুল সালেহীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছর চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানিক চন্দ্র দাস আমার কাছ থেকে ৮লাখ ২০হাজার টাকা নেয়।

“পরে আমি জানতে পারি তিনি চাকরি দেওয়ার নাম করে আমার সাথে প্রতারণা করছে। তাই টাকা ফেরতে জন্য আমি মানিক চন্দ্র দাসকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি।”

বাকি দুই নিয়োগ প্রত্যাশী তার গ্রামের বাসিন্দা বলে জানান মাকসুদুল।

ফাঁসকৃত একটি অডিও ফোনালাপে লেনদেন করা টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রার্থীকে হুমকি দেয় মানিক। আরেকটি ফোন কলে প্রার্থী ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বললে মানিক ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দিতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে জানতে মানিক চন্দ্র দাসের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক