০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাউজানকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত’ করতে বিশেষ অভিযানে পুলিশ

এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফর দ্য পিস অব রাউজান’।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Nov 2025, 09:52 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

চট্টগ্রামের রাউজানে রাতভর পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আটটি এলজিসহ দেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য নেই।  

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ যার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ফর দ্যা পিস অব রাউজান’।

বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু সাংবাদিকদের বলেন, রাউজানকে ‘শান্ত’ করার প্রয়াসে জেলা পুলিশ, র‌্যাব নৌ পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, একটি নিরাপদ চট্টগ্রাম উপহার দিতে পুলিশ কাজ করছে। 

রাউজানকে সাতটি ভাগে ভাগ করে জেলা পুলিশের নেতৃত্বে র‌্যাব, এপিবিএন, নৌ পুলিশ রাত ২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানান তিনি।

এক বছরে রাউজানে ‘অন্তত ১৭টি’ খুনের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

তবে পুলিশের দাবি, রাউজানে যেসব হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সাতটি ‘আধিপত্য বিস্তার’ নিয়ে হয়েছে। অন্য হত্যাকাণ্ডগুলো পারিবারিক, পরকীয়া, মাদকের কারণে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, পাঁচটি ভাগের দায়িত্ব নিয়েছে জেলা পুলিশ। আর কদলপুর ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকা দুইটি ক্লাস্টারের দায়িত্ব নিয়েছে র‌্যাব। 

রাতের অভিযানের বর্ণণা দিয়ে তিনি বলেন, “কোন সন্ত্রাসী যাতে পালাতে না পারে সেজন্য নৌ এলাকায় নৌ পুলিশ এবং রাঙামাটি জেলা পুলিশ তাদের সীমান্তে এবং নগরীর প্রবেশপথে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ চেকপোস্টের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করেছে।” 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক কারণে আলোচনায় রয়েছে রাউজান উপজেলা। সেখানে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে রাউজানের সাম্প্রতিক অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, রাজনীতিবিদের কাছে কোনো অপরাধী গেলে তিনি অপকর্ম কতটুকু প্রশ্রয় দিচ্ছে সেটা বিবেচ্য বিষয়। 

“আমরা অপরাধী ধরতে গিয়ে কোন রাজনীতিবিদের যদি কোন তথ্য না পায় সেজন্য আমরা তাকে দায়ী করতে পারি না। যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা পায় বা তার অভিভাকত্বে কেউ অপরাধ করছে তাহলে তাকেও আমরা আইনের আওতায় আনব।” 

এদিকে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীতে সরোয়ার খুনের পর বেশকিছু ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতে থাকে। যেগুলোর বিদেশ থেকে বড় সাজ্জাদ, সন্ত্রাসী রায়হান, ইমনের বলে বিভিন্ন জনের ভাষ্য। 

পুলিশ বিষয়গুলোকে কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, রায়হান সাতটি হত্যা মামলার আসামি। তার কথা শোনা যাচ্ছে, গত কয়েকদিনের কেউ তাকে দেখেছে বলে মনে করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, অপরাধীদের একটা ‘সমাজ’ রয়েছে। সেখানে কোনো একটা অপরাধ ঘটলে তারা জানে কারা ঘটিয়েছে। তাদের মধ্যে সে ধরনের একটা যোগাযোগ আছে। যদি জেলখানায় অপরাধীরা গিয়ে তারা নিজেরা কথা বলে, পরিকল্পনা করে ওখান থেকে কিন্তু অনেক অপরাধ সম্পর্কে জানা যায়। 

“দেশের বাইরে থেকে একটা বড় অংশকে পরিচয় গোপন করে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন জনকে থ্রেট করে- এটা করেছি, এটা করব বলে। এক্ষেত্রে কোথাও কখনও বড় সাজ্জাদ, কখনও রায়হানের কথা বলা হচ্ছে।” 

বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে দেখার কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার সাইফুল বলেন, “একটা ব্যক্তিকে যখন হত্যার হুমকি দেওয়া হয় সেটা আমাদের পরীক্ষার বিষয় বা সত্য কিনা সেটা দেখার না। আমাদের আসামি ধরার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমরা সে প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। যখনই কাউকে হত্যাকাণ্ড বা হুমকি দেওয়া হয় আমরা খুবই শক্তভাবে বিষয়টি নেই।”

এসব কথোপকথনের বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।

আকস্মিক অভিযান

পুলিশ এর আগে ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে গত ১০ নভেম্বর নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট এলাকা থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, থানা থেকে লুট হওয়া একটি চাইনিজ রাইফেল, একটি শট গান, ৪৯ রাউন্ড চায়নিজ রাইফেলের গুলি, ১৭ রাউন্ড শট গানের কার্তুজ, ১৬ রাউন্ড সেভেন পয়েন্ট ৬৫ বোরের পিস্তলের গুলি উদ্ধারের তথ্য দেয়। সেসময় দেশি ধারালো অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাও উদ্ধার করা হয়।

এরপর ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে পুলিশ ।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সাইফুল বলেন, পুলিশের অভিযান হয় তিন ধরনের- প্ল্যানড বা পরিকল্পিত, সাডেন বা আকস্মিক ও সারপ্রাইজ বা অতর্কিত।

“গতকাল (বুধবার রাত) আমরা সাডেন অপারেশন করেছি। এ অভিযান এখানে শেষ নয় অব্যাহত অভিযান। আমরা দৃঢ প্রতিজ্ঞ, আমরা নিরাপদ চট্টগ্রাম উপহার দিতে চাই।“ 

অভিযানে জেলা পুলিশ আটটি এলজি, ছয় রাউন্ড কার্তুজসহ বেশকিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেন পুলিশ সুপার।

অভিযানের সময় নম্বরবিহীন ২৮টি মোটরসাইকেল, একটি ট্রাক আটকের পাশাপাশি মোটরযান আইনে ৩৭টি মামলা করা হয়। 

এছাড়া সাতকানিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড কার্তুজসহ মো. তারেক ও মো. মিনারুল আলম এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত আইয়ুবকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

রাউজানে 'টার্গেট কিলিংয়ে' যুক্ত ছয়টি গ্রুপ: পুলিশ

রাউজানে ফের অস্ত্র উদ্ধার, পটিয়ায় গ্রেপ্তার ৩