Published : 20 May 2026, 10:24 PM
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগের দিন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন।
বাধার মুখে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে না পারা এই আইনজীবীরা বুধবার এই নির্বাচনকে এক তরফা আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
এদিন নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
এরপর বিকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন জামায়াত সমর্থিত সাত আইনজীবী।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেও তারা একই ঘোষণা দিয়েছিল।
তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ হবে। সমিতির ভোটার সংখ্যা এবার প্রায় ৫ হাজার।
এবার বাছাই শেষে সমিতির ২১টি পদের মধ্যে ৯টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। তবে বাকি ১২টি পদের প্রতিটিতে দু’জন করে প্রার্থী রয়েছে।
তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতাদের দাবি, নির্বাচনের ভোট গ্রহণে কোন বাধা নেই। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তা দেখার দায়িত্ব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
নির্বাচন বাতিল চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর পক্ষে গেল রোববার
প্রথম যুগ্ম জজ আরাফাতুল রাকিবের আদালতে আট আইনজীবী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
বুধবার এ মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে বিএনপিপন্থি ও জামায়াতপন্থি উভয় পক্ষের আইনজীবীরা অংশ নেন।

জামায়াতপন্থি আইনজীবী মো. আশরাফ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওনাদের (বিএনপিপন্থি) লোকজন ছিল বেশি। শুনানি করার মতো পরিবেশ ছিল না। তারা শুনানিতে হট্টগোল করেছেন। নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনের উপর আজ শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন আদালত।”
ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের মামলা খারিজ হয়নি। আমরা যে ভোট গ্রহণে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলাম সেটা নামঞ্জুর করা হয়েছে। আমরা হাইকোর্টে যাব।
“তারা ক্ষমতাসীন বলে এভাবে একতরফা নির্বাচন করতে চায়। এই এখতিয়ার তাদের নেই। বিচার বিভাগে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আর কি বলার থাকতে পারে। এই এক তরফা এবং এক দলীয় নির্বাচন অবৈধ। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে এই নির্বাচন কমিশন এবং তফসিলও অবৈধ। তারা ভোটারবিহীন একটা নির্বাচন করতে চায়।”
তিনি বলেন, “এক তরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে সমিতি থেকে আমাদের সাতজন পদত্যাগ করেছেন। আমাদের যে ১২ জন প্রার্থীর নাম প্রার্থী তালিকায় ছিল তারাও আগামীকালের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
“আমরা ভোট বর্জন করলেও একতরফা ভোটের প্রতিবাদে কাল সমাবেশ করব এবং প্রতিবাদ মিছিল করব।”
এদিন বেলা ২টার দিকে ‘সাধারণ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম’ এর ব্যানারে আদালত ভবন থেকে মিছিল শুরু করেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা।
তারা আদালত ভবনের ভেতরে মিছিল করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আসেন এবং সেখান থেকে সোনালী ব্যাংকের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন। এসময় তারা বিএনপির বিরুদ্ধে এক তরফা নির্বাচনের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন।
আওয়ামী পন্থি আইনজীবী নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সমাবেশ থেকে প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছি। এই নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন গঠন করে পুন:তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সকল আইনজীবীর অংশগ্রহণে আমরা নির্বাচন চাই।
“এটা পেশাজীবী সংগঠন। যা কিছু ইচ্ছা করলেই কি তা বৈধ হয়ে যায়? চট্টগ্রাম বারের ইতিহাসে এভাবে ভোট গ্রহণের কোনো নজির নেই।”
এর আগে গেল ৪ মে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের দিন আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ রেখে আওয়ামী পন্থি আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র নিতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ও সমিতির বর্তমান সভাপতি আবদুস সাত্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোট স্থগিত চেয়ে করা আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছেন। ভোটে কোনো বাধা নেই।
“সমিতির সাত সদস্য আজ পদত্যাগ করেছেন। সেটা তাদের বিষয়। বর্জনের ঘোষণা দিলেও তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ হবে।”
আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের মিছিল ও সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, “কীভাবে পুলিশ তাদের ‘অ্যালাউ’ করলো সেটা পুলিশ বলতে পারবে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না বলে উদারতায় পরিচয় দিয়েছি। আমরা তো আর তাদের মতো না।”
জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের ভোট বর্জনের ঘোষণা ও সমাবেশ করার কর্মসূচির বিষয়ে আবদুস সাত্তার বলেন, “কেউ বর্জনের ঘোষণা দিলেও শিডিউল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ হবে।
“তারা তো আর আওয়ামী লীগের মত নিষিদ্ধ না। তারা চাইলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে পারে। কোনো বিশৃঙ্খলা হলে সেটা দেখার দায়িত্ব পুলিশের। আশা করি, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল চেয়ে ও নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের আবেদনে হওয়া সমিতির তলবী সভায় তাদের প্রস্তাব কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।
এবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করায় এবং বাছাইতে নয়টি পদে তাদের নয়জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করায় তফসিল অনুসারে নির্বাচন কমিশন অবৈধ বলে দাবি করে আসছেন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা।
গত ৭ মে বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।
আগের খবর:
চট্টগ্রাম বার নির্বাচন: জামায়াতপন্থিদের প্রস্তাব নাকচ, ভোটে 'বাধা নেই'
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা জামায়াতপন্থি
চট্টগ্রাম বার নির্বাচন: কোনো পদেই মনোনয়ন ফরম নিতে পারেননি আওয়ামীপ