Published : 19 May 2026, 09:32 PM
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বাতিল ও নতুন তফসিল ঘোষণার জন্য জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীদের প্রস্তাব সমিতির তলবি সভায় কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে নির্বাচন বাতিল চেয়ে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর পক্ষে করা মামলার শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য আছে।
এ পরিস্থিতিতে সমিতির নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, ভোট গ্রহণে কোনো বাধা নেই। সমিতির ৯টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। তবে বাকি ১২টি পদে ভোটগ্রহণ হবে।
বিএনপিপন্থি ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম’ এর নেতারাও বলছেন, সমিতির তলবি সভায় জামায়াতপন্থিদের প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় ভোট গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকল না।
তবে জামায়াতপন্থি ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ নেতাদের দাবি, তারা ভোট বর্জনের ঘোষণায় অটল আছেন। আদালতের আদেশ তাদের পক্ষেই আসবে বলে তারা আশাবাদী।
ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম মঙ্গলবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় তফসিল ঘোষণার জন্য সমিতির ১৬৬জন সদস্যের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনজীবী সমিতির তলবি সভা আহ্বান করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে সমিতির মিলনায়তনে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার।
সভায় তলবি সভার পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীরা বক্তব্য দেন। পরে হাত তুলে ভোটাভুটি হয়। তাতে প্রস্তাবের পক্ষে ১৭১ ভোট এবং বিপক্ষে ২৮৯ জন ভোট পড়ে। ফলে সভার প্রস্তাব নাকচ হয়।
আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, “ভোটাভুটিতে তলবি সভার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। তারা (জামায়াতপন্থিরা) নির্বাচন বাতিল চেয়ে একটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় আগামীকাল শুনানির দিন আছে। তলবি সভার ভোটের ফলের পর আশা করি আদালত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে আদেশ দেবেন।”
গত ৭ মে বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’।
এছাড়া নির্বাচন বাতিল চেয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ এর পক্ষে রোববার প্রথম যুগ্ম সিভিল জজ আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন আটজন আইনজীবী।
অন্যদিকে জামায়াতপন্থি ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেন, “আমরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা আগেই দিয়েছি। তারপরও আইন অনুসারে আদালতের দারস্থ হয়েছি। পাশাপাশি তলবি সভা আহ্বানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। নয়টি পদে কোনো প্রার্থীই নেই। গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে না পারায় এই নির্বাচন কমিশন অবৈধ। আমরা নতুন নির্বাচন কমিশন ও তফসিল চাই। আশা করি আগামীকাল আদালত আমাদের আবেদনের পক্ষে রায় দেবেন।”
সার্বিক বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম বলেন, “তলবী সভার প্রস্তাব নাকচ হয়েছে। নির্বাচন করতে এখন আর কোনো বাধা নেই।”
সূচি অনুযায়ী, ২১ মে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। সহ-সভাপতি ও ১১টি সদস্য পদে মোট ২৪ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বাকি ৯ পদে একজন করে প্রার্থী আছেন; তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এ নির্বাচনে ভোটার আছেন প্রায় ৫ হাজার।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা জামায়াতপন্থি